১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে “চরমপত্র” নামে একটি কটাক্ষ ও কৌতুক কথন অনুষ্ঠান প্রায় সবার কাছেই ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছিল । নাকি সুরে পাকি বাহিনী, শান্তি কমিটি , রাজাকার যারা স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লড়াই ও কাজ করছিলো তাদের নাজেহালের বিভিন্ন কাহিনী বয়ান করতেন এম আর আখতার মুকুল। আনন্দের সাথে বাঙালি চুপিসারে এটা শুনত । কেউই রেডিও জোরে বাজাতেন না পাক হানাদার বাহিনীর ভয়ে । একসময় আমরা শুনতে পেলাম মায়া বাহিনীর কথা । ওরা মুলত ঢাকা শহরের ভিতরে চোরাগোপ্তা হামলায় পাক হানাদার ও শান্তি কমিটির অনেকের উপর গ্রেনেড , গুলি ছুড়ে হতাহত করেছে ।আমরা মায়া বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ আক্রমনের কথা শুনে উল্লসিত হতাম । মায়াকে মনে হত বীর একজন সেনানী । তার একটা সম্ভাব্য চিত্র মনের মধ্যে আকা হয়ে গিয়েছিল । স্বাধীনতার পরে জেনেছি মায়া ভাই গোপীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা । তার রাজনীতিতে বিচরন ছিল না । বোধকরি ৯৫ সালের পর মায়া ভাই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন( ভুল বললে শুধরে দেবেন)।এসময় মায়াভাইএর ছবি দেখলাম প্রথম বারের মত । নাহ , আমার কল্পনার জেমস বন্ডের মত তিনি নন তবুও তিনি বীর । দিন চলছে ,হটাৎ পত্রিকায় দেখা গেল মায়া ভাইএর ছেলে দিপু উত্তরায় জায়গা দখল নিয়ে কোন্দলে পড়ে বাবার সুনামে আঘাত করল । অবাক হলাম বীর বিক্রম কিছুই করলেন না ছেলের বিরুদ্ধে । খারাপ লাগল খুব । আবারো ভিন্ন একটি স্ক্যানডালে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হল দিপু । এবারো মায়া ভাই নিশ্চুপ । সন্দেহ জাগল তার সততা নিয়ে। মায়া ভাই আমাদের মন থেকে সরে গেলেন । ২০১৪র নির্বাচন ও পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে তার দেওয়া বক্তব্য আমার কাছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দেওয়া খেতাবের বড্ড অবমাননা মনে হল । সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ ৭ খুনের দায়ে মায়া ভাইএর জামাই একজন সামরিক কর্মকর্তা ও ওই অঞ্চলের র্যা ব এর প্রধান মাত্র দুদিনেই অপসারন এবং তিন দিনে চাকুরিচ্যুতি । বড় ভয়ানক কাণ্ড বটে। এরপরও মায়া ভাই বলছেন তার পরিবার এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। সাফাই গাওয়ার দরকার ছিলনা। ছেলে যখন মুখ পুড়িয়েছে তখনি সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত ছিল । আর জামাইতো সাথে থাকেনা এবং তার যে পেশা তাতে আপনার সাথে দেখা সাক্ষাতও কম হয়। এই দায়িত্ব আপনি নিচ্ছেন কেন ।আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা , জীবন বাজি রেখে ঢাকা শহরেই হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে হানাদারদের ঘায়েল করেছেন , আজ আপনাকে দেখলে বড্ড অসহায় লাগছে। আমাদের তারুণ্যকে আপনি অপদস্ত করলেন যে তারুণ্য ৭১ এ মুক্তিবাহিনীকে গোপনে সাহায্য করেছে , গেয়েছে মায়ার জয়গান । কি এমন অভাব ছিল জীবনে যে অন্যায়কে সমর্থন করতে হবে , অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কালিমাযুক্ত করতে হবে অথবা আপনি ষড়যন্ত্রের শিকার !!
আমার ৭১এর গড়া মায়ার মূর্তি মায়া ভাই নিজেই ভেঙ্গে দিলেন ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



