
৭৬ সালে প্রথম লাজ ফার্মার দোকান দেখি কলাবাগানের মোড়ে । ছোট খাট দোকান , আশ পাশ দিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য দোকানপাট বা দালান কোঠা ছিল না । আমরা ওষুধপাতি দরকার হলে হলের পাশেই নিউমার্কেট থেকেই কিনে নিতাম । দীর্ঘ পরবাসে থেকে ফিরে দেখলাম সব কিছুই পরিবর্তন হয়েছে । লাজ বড় দোকানে চলছে । আরো কিছু ওষুধের দোকান চালু হয়েছে পাশাপাশি । খুব পুরাতন প্রতিষ্ঠান লাজ ফারমা এখন ঢাকার অনেক খানেই ব্রাঞ্চ খুলেছে । আমিও কেনাকাটা করি ওদের কাছ থেকে । কাল রাতে ১১টায় টি ভি তে দেখে চমকে উঠলাম লাজ ফার্মা আরও ৫ টি প্রতিষ্ঠান নকল ওষুধ বিক্রি করছে শিরোনামে লাইভ । উত্তরার একটি ফ্লাটে , টঙ্গি , চক ইত্যাদি জায়গায় আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ওষুধ কোম্পানির মোড়কে ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপকরণ। আল মদিনা , ইসলামিয়া এবং তামান্না ফার্মেসিও এসব ব্যাবসায় জড়িত ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। অভিযানে অরেক্সিস, হাইজিংক, ডায়ানাসহ ৬টি বিদেশি ব্রান্ডের বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। আটক করা হয় ১৫ জনকে। তারা আটা-ময়দা আর রং মিশিয়ে এসব ওষুধ তৈরি করে এগুলা প্যাকেট করে বিক্রি করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসব ওষুধ সামগ্রী আমদানি হয় না। অসম্ভব একটি ব্যাপার আমার কাছে । লাজের মালিকরা কি জানতেন অথবা কর্মচারীরা আলাদাভাবেই ডিল করছিল এসব ।
বিখ্যাত জাতীয় দৈনিকে এসব খবর ছাপা হয়নি । ট্রিবিউন আর ডি বি সি ছেপেছে ।
আমাদের বিশ্বাসের ভিত ক্রমশ নড়ে যাচ্ছে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি দেখে ।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



