
মাঝে মধ্যেই আতংক বোধ হত এই ভেবে যে শিশুটিকে কেউ মারছে । বারান্দায় গিয়ে উৎস খুঁজতাম চিৎকারের । গেল কিছুদিন আগে চিৎকারের ধরনে বুঝলাম এটি মারধরের চিৎকার নয় , এ চিৎকার বন্দিত্বের , চারদেয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ । আজ প্রায় চারমাস একুশ দিন বাদে উৎস পেলাম একদম আমার বারান্দার উল্টোদিকের জানালায়, বিছানায় শুয়ে বালিশ নিয়ে লাথি গুতা দিয়ে একাকী সংগ্রাম করছে । আমি নিশ্চিত হলাম তার অবস্থানে । হাফ প্যান্ট পরা শিশু , বছর ৬ হবে , নিশ্চয়ই স্কুলে যায় , বন্দি প্রায় ৫ মাস , আমারই মত , মুক্তি চাইছে , যেতে চাইছে স্কুলে , মাঠে খেলতে , মুক্ত জীবনে । কোরবানির আগেই পশ্চিম লাগোয়া দালানে সদ্যজাত শিশুর কিন্নর কণ্ঠ শোনা গেল । একাকী হাসলাম এই বলে সুস্বাগতম শিশু এই করোনাময় ধরিত্রীতে । ওর কণ্ঠ এর মাঝে গভীর রাতে পেয়ে উদ্বিগ্ন আমি । কান পাতলাম , পেটে ব্যাথাই হবে । ওর মা নিশ্চয়ই উল্টা পাল্টা কিছু খেয়েছে । শান্ত হও দেবদূত , সব মায়েদের ঐ একই অভ্যাস , নিষেধের কিছু খেয়ে ফেলা , আর রাতে উঠবে ব্যাথা তোমার । গ্রাইপ ওয়াটার নিষিদ্ধ হলেও গোপনে চলছে । ভাল থেক ।
খুব দুঃসংবাদ দিয়ে সকাল শুরু হল । এই ব্লগের মেজদা নামের নিক ভোরে আমায় ফোনে জানালো কাল তার শ্যালিকা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে । আট দিনের শিশু রেখে মা চলে গেল । শিশু এখন হাসপাতালে । পরীক্ষার জন্য রক্ত নিয়েছে । কোরবানির সময়ে আবেগতাড়িত আরেক বোন হাজির বাপের বাড়িতে বাকি সবাইকে নিয়ে । ওরাই ভাইরাস নিয়ে এসে সবাইকে ছড়িয়েছে । সবাই আক্রান্ত ঐ বাসায় । কেউ কেউ হাসপাতালে কেউ বাসায় আইসোলেশনে । বিকালে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে মেজদা ওরফে কোহিনুরের খবর নিলাম । এভাবেই আবেগের বশে কত পরিবারে দুর্ভোগ নেমে এসেছে । শিশুটি এখনও ভাল আছে । সুস্থ খালা , নিঃসন্তান তাকে দেখাশোনা করছে । আমরা ঐক্যমতে পৌছুলাম এই খালাই শিশুটিকে দত্তক নেবে।
চারিদিকে সংক্রমনের দুঃসংবাদ । এর মধ্যেই করোনা আমাদের ছেড়ে যাচ্ছে এমন আওয়াজ পাচ্ছি । ল্যাবে পৌঁছানোর আগেই মোবাইলে নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়ে গেছেন নমুনাদাতা । সার্কাস চলছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



