

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে আজ । আমি বেশ শিহরিত এই ভেবে যে স্বাধীনতার ৫০ তম বার্ষিকী দেখতে পারব কারন আমি ৭১ দেখেছি একজন বালকের দৃষ্টি দিয়ে । কত কিছু মনে পড়ছে আজ । আমাদের যোদ্ধারা , আমাদের আত্মীয়রা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন । কেউ কেউ পাকিস্তানীদের পক্ষ নিয়ে রাজাকারের খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন । কত রক্ত , কত মৃতদেহ আমার শরীর আর মনকে যুগপৎ আন্দোলিত করছে । আমি গর্বিত এজন্য যে যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্বাসন কাজে নিজেকে নিয়োগ করা । এটা ১৪ বছরের বালকের জন্য বিশাল অর্জন ।

৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুল ভুমিকায় যে কয়েকজনকে আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তাদের সবাই প্রয়াত । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর তার ৭ই মার্চের ভাষণ , স্বাধীনতার ঘোষণা আজো আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল । বাঙালি ঝাপিয়ে পড়েছিল তার আহবানে । বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাতেই গ্রেফতার হন । ওই রাতেই ঢাকার বিবিধ টার্গেটেড জায়গায় পাক হানাদার বাহিনী আক্রমন করে এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে । হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের ওপর পাক হানাদারদের আক্রোশ বেশি ছিল । কার্যত মানুষ দিশেহারা হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া শুরু করল । প্রায় এককোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিল । পাশের রাষ্ট্রে এহেন অবস্থায় হাত বাড়িয়ে দিলেন শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী প্রিয়দর্শিনী । তিনি তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী । পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সদলবলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভারতের সরকারের অনুমোদন ক্রমেই নতুন বাংলাদেশ প্রবাসী সরকার গঠন করলেন । প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ । পাক-ভারত সংকট এবং অনাগত বাংলাদেশের গোটা সামরিক ব্যাবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিলেন জেনারেল শ্যাম হোরামশিজি প্রেমজি "শ্যাম বাহাদুর" জামসেদজি মানেকশ' ।তিনি মূলত পারস্যের জরথুস্ত্রীয় ধর্মের অনুসারী ছিলেন যিনি শরণার্থী হিসেবে ভারতে এসেছিলেন। অনাগত বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে নেতৃত্ব দিলেন কর্নেল আতাউল গনি ওসমানী যিনি পাক সামরিক বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন । আলাপের খুব জটিল সমীকরণ হচ্ছে যুদ্ধ এবং একটি যুদ্ধের ফসল হিসাবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম । এই জটিল কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন জেনারেল মানেক’শ । আজ বেশি আলাপ করবনা শুধু আমার আকাংখিত ফিল্ড মার্শাল মানেকশ এর একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও সাথে দিলাম । ধন্যবাদ ইন্দিরা গান্ধীর প্রশাসনকে , ধন্যবাদ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের , প্রার্থনা নিহত ভারতীয় সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এই রাষ্ট্রের জন্মকালে , ধন্যবাদ ধাত্রী ইন্দিরাজিকে যার সহায়তায় সম্ভব হয়েছিল বাংলাদেশ ইস্যুকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আগ্রহকে জাগাতে । ভারত আমাদের যদি জায়গা , খাদ্য , অস্ত্র না দিত কি করতাম আমরা এই ৫০ বছরে ? আমি এজন্যই মানেকশকে বেশি শ্রদ্ধা করি । প্লিজ ভিডিওটা দেখবেন ।
৫০ বছরে শ্রেষ্ঠ আরেকটি অর্জন “ হে খোদাতায়ালা হামকো ভি বাংলাদেশ বানাদো “ । সৃষ্টি কর্তার হিসাব আলাদা । পাকিস্তানিদের আর্তনাদ আমাদের ঘুমের ঔষধ হিসাবে কাজ করছে ।
ব্লগারদের সবাইকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর শুভেচ্ছা । জয়বাংলা ।


শ্যাম বাহাদুরএর একান্ত সাক্ষাতকার
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




