

এবারে এই প্রথম সিয়াম আর নববর্ষ একই দিনে পড়লো । আগের ইতিহাস জানিনা বা আমার বয়সকালে কখনো পাইনি । অবশ্য বৈশাখ পালন ব্যাপকভাবে ৮০ দশকের শেষদিকে শুরু । তার আগে গ্রামে চৈত্র সংক্রান্তি আর বৈশাখ পালন হতো । তেতো খাওয়া সংক্রান্তির অন্যতম পালনীয় উৎসব । বৈশাখ পালন রোহিত মৎস্য আর মিষ্টি দিয়েই সম্পন্ন হতে । হাল খাতা বাংলা নববর্ষের অন্যতম বিষয় ।
ছোটবেলায় পশ্চিম আকাশে সবার সাথে সাওমের চাঁদ দেখতে ব্যাস্ত হতাম । যে প্রথম দেখতে পেত সে দানাদারের প্রথম পিস মুখে নিত । ভোর রাতে রান্নাঘরের হাড়ি কুড়ির আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যেত । একসময় সবাই টেবিলে বসে খেত । একদিন আমার জিদে মা আমায় খেতে দিলে সেহরি । পরদিন বাবার সাথে আমাদের বইয়ের দোকানে বসে কলা খেতে খেতে আধ খাওয়া কলা হাতে নিয়ে বাবার দিকে চেয়ে রইলাম হতবাক । বাবা মিট মিট হাসছেন , বললেন তোর দুটো রোজা হবে , আজ দুপুরে কিছু খাবি না । বাসায় এসে মার কাছে কেঁদে ফেললাম । সন্ধ্যায় ইফতারির ভুরি ভোজ । এভাবেই বাবা আমাদের অনুশীলন করাতেন । মাগরিব অতি আবশ্যিক ছিল বাবার ইমামতিতে । একসময় আমি মুয়াজ্জিন হয়ে আজান দিতাম প্রতিদিন । বাবা ৭০ এ আর মা ২০০১ সালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন । মায়ের চিড়া আর কলার ইফতারি আমার খুব ভাল লাগত । দেশে থিতু হয়ে আমিও চিড়া আর কলা চটকে ইফতারি করতাম ।
জীবন বদলে গেছে । অনেক কিছু হারিয়েছি এবং পেয়েছি । পিচ্চিকালে সিয়াম পালনের সেই উদ্দাম উৎসাহ এখন কমে গেছে । আমদের একটি নিয়ত থাকে তাহলো একজন দরিদ্র সিয়াম পালনকারীকে সন্ধ্যায় ইফতারি আর সেহরি দেওয়া ।
এসব প্রথা বাবার আমল থেকেই চলছে , আমরাও পালন করে সুখবোধ করি । করোনা কালে এবারের নববর্ষের আয়োজন আর হল না । ভিড় ভাঁটটা না করাই উত্তম ।
সবার মঙ্গল হোক এই কামনায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




