
রাতে দেরিতে ঘুমিয়েছি । ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে অপেক্ষায় ফলাফলের । সকালে ঘুমটা ভাঙলো রেডিওর আওয়াজে তাও আমার মাথার কাছেই । দুতিন জন দাড়িয়ে শুনছে , আমি একটু খেকিয়ে উঠলাম , কি হয়েছে এত সকালে , ঘুমটাই নষ্ট । ওরা বলল আরে শোন ভাল করে 'শেখ সাহেব নেই" । তড়িতে উঠে রেডিওর পাশে বসে পড়লাম । 'আমি মেজর ডালিম বলছি, প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবর রহমান একদল মিলিটারির হাতে নিহত ' । দৌড়ে বারান্দার মাথায় রাস্তার কাছে চলে গেলাম । রাস্তা খুব ভাল করে দেখলাম । নাহ কোন প্রতিক্রিয়া নেই । শেখ সাহেব হত্যার শিকার হবেন কেমন জানি বিশ্বাস হচ্ছে না । আবারো রেডিওর কাছে , আবারো শুনলাম এবং আবারো । নাস্তা করে বন্ধুর বাড়িতে । ওখানে মিষ্টি খাওয়া চলছে । বন্ধুটিকে কিছুদিন আগে রক্ষী বাহিনী ধরে নিয়ে বেধড়ক মেরেছে । সবাই চুপচাপ একে অপরকে দেখছে । সন্ধ্যার মধ্যেই বিবিসি , আকাশবাণী পুরো ঘটনা খুলে বলল । আমি হতভম্ব হয়ে বসে রইলাম ।
১৯৭২ সাল । খুলনার সার্কিট হাউজ ময়দান লোকে লোকারণ্য । শেখ সাহেব ভাষণ দেবেন । আমি চলে গেলাম মঞ্চের কাছে । আজ কাছ থেকে শেখ সাহেবকে দেখব । ভাষণ শেষ । শেখ নামছেন । তার আশপাশে কেউ নেই , আশ্চর্য !! এবার আমি দৌড়ে শেখের কোমরে হাত দিয়ে ধরে হাউজের সিঁড়ির দিকে ধীরে চলতে থাকলাম । নাহ কেউ আমাকে বকেনি , কিছুই বলেনি । শেখ হাত দুটো দ্রুত প্রিন্স কোটের পকেটে ঢুকালেন , কেন জানিনা । তিনি গম্ভীর এবং মাথা নিচু করে ছিলেন । সিঁড়িতে শেখ সাহেবকে উঠিয়ে আমার শখ পুরন হল । পরদিন পত্রিকা লিখল শেখ মুজিবের নিরাপত্তা বিষয় একটু হাল্কা হয়ে যাচ্ছে , হাল্কার নায়ক আমি ।
১৯৭০ সাল । নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ জিতে গেল । খুশিতে আমি কাদামাটি দিয়ে শেখের পোর্টরেট বানিয়ে ছাদে লুকিয়ে রাখলাম । পরে আমরা স্কাউট ক্যাম্পে মাথাটাকে সামনে বসিয়ে রাখতাম । ক্রমে ওটা খুলনা জেলা স্কুলের সম্পত্তি হয়ে ষ্টোরে আশ্রয় নিল । এখনো ৫৩ বছর পর তা স্কাউটরা ব্যাবহার করে কিন্তু জানেনা ভাস্করটা কে ??
আমরা ঐ সময় শেখ সাহেব বলতাম । বঙ্গবন্ধু শব্দটির ব্যাপক ব্যাবহার শুরু হয়নি তখনও ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২৩ রাত ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


