somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিলখানা হত্যাকান্ড

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফেসবুকে যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছি। মনে হয়েছে নিছক বিনোদনের জন্যে ফেসবুকে বসা অর্থহীন। আমি ইমোশনাল মানুষ, এই মনে হওয়াটা কতদিন স্থায়ী হবে জানিনা। কাল চ্যানেল আইএর স্ক্রলের দু’টি লাইনে চোখ আটকে গেল।হুবুহু লাইন দু’টি মনে করতে পারছি না। তবে সম্ভবত এরকম,

এক। পিলখানা হত্যাকান্ডের দিন আজ।
দুই। ছয় বছরে বিজিবি সৈনিকদের অনেক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

পাশাপাশি এই দু’টি লাইন অন্যদের মনে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে কীনা জানিনা। আমার মনে হল পাশাপাশি লাইন দু’টি দিয়ে হত্যাকান্ডটিকে এত সরলীকরণ করে ফেলা হয়েছে যে, সেসব বিবেকহীন হত্যাকারিদের প্রতি মানুষের এক ধরণের সহমর্মীতা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ হতাকান্ডের অন্য যে সব মোটিভ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মানুষের মনে নানা রকম প্রশ্নের উদয় হচ্ছে, সেসব থেকে মানুষের দৃষ্টি শুধুমাত্র বিডিআর সদস্যদের হাহাকারের হা তে আঁটকে দেওয়া। এধরণের সাংবাদিকতা হত্যাকান্ডের দিন থেকেই শুরু হয়েছে।খুব একটা প্রতিবাদ হয়নি, গোপনীয়তা এবং আনুগত্যের অজুহাতে সামরিক বাহিনীকে, এবিষয়ে খুব একটা উচ্চ কন্ঠ হতে দেখা যায়নি। যে কয়েকজন এই শোক সইতে না পেরে বেশি আবেগ প্রবণ হয়ে গিয়েছিলেন, তারা চাকরিতে টিকতে পারেননি। বিচার চাইবার কারণে, ঘাতকদের বিচার হবার আগেই, তারা চাকরিচ্যুত হয়েছেন।

২০০৯ সালে যে সব দাবি দাওয়া অভিযোগ সামনে রেখে বিডিআরে বিশৃংখলা ঘটেছিলো তাকে দু ভাগে ভাগ করা যায়।

অভিযোগ

১। বিডি আর ১০০ বছর ধরে নানা্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত
২। বিডি আরের রেশন পর্যাপ্ত নয়।
৩। সামরিক বাহিনীর অফিসাররা ছোট খাটো কারণে তাদের পদচ্যুত করে
৪। সৈনিক মেসে প্রাপ্য খাবার না দিয়ে সেনাবাহিনীর অফিসাররা খাবারের টাকা বাঁচিয়ে ব্যাটালিয়নের প্রাইভেট ফান্ড তৈরি করে
৫। অফিসাররা পাজেরো গাড়ি চড়ে
৬। খালেদা জিয়ার সরকার বৈষম্য মূলক বেতন কাঠামো বানিয়েছিল,
৭। ১৯৯৬ সালে ততকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরবারে কথা বলার জন্যে নেক সৈনিককে চাকরি হারাতে হয়েছিল।

দাবীঃ
একটি মাত্র দাবী বিডিআর থেকে সেনাবাহিনীর অফিসারদের তুলে নেওয়া হোক। না হলে আন্দোললনের মাধ্যমে কুকুরের ন্যায় গুলি করে সরাবো।

আমি এই দাবী দাওয়া গুলো বিডিআরের সেই সময়কার লিফলেট থেকে উদ্ধৃত করেছি।

দাবী দাওয়ার মূলকথা সেনাবাহিনীর অফিসারদের বিডিআর থেকে অপসারণ। অভিযোগ গুলি অযুহাত। ছয় বছর পর হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করতে গিয়ে যখন বিডিআরের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর কথাটি গুরুত্বের সাথে বলা হয়। তখন হত্যাকান্ড গৌণ আর সুযোগ সুবিধা মুখ্য হয়ে ওঠে।

আমরা যদি তালিকার অজুহাত গুলি বিবেচনা করি, প্রথমে আসে ১০০ বছরের বঞ্চনার কথা, প্রশ্ন হল, ১০০ বছরের বঞ্চনার সমাধান, একটি নতুন সরকার থিতু হবার আগেই চাওয়া হল কেন?

২ নম্বর অভিযোগ রেশন পর্যাপ্ত নয়, রেশন বাড়ানোর এক্তিয়ার মহাপরিচালক বা অন্যান্য অফিসারের নয়। তা ছাড়া রেশন বাড়াবার ব্যপারের অনেক আগে থেকেই মন্ত্রনালয়ের সাথে দেন দরবার করা হচ্ছিল, সৈনিকদের সেটি অজানা থাকার কথা নয়, বিভিন্ন সময় দরবারে এ বিষয়ে বলা হয়েছে।

বাকি অভিযোগ, অজুহাতের প্রায় সবই হাস্যকর এবং অসত্য। বিডিআর একটি প্যারামিলিটারি ফোর্স। সামরিক অফসারদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে প্রশিক্ষণে, মনণে এবং সাহসে বিডিআর এই অঞ্চলের একটি শক্তিশালি সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। ইতপূর্বে বিভিন্ন সময়ে বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় সেটি প্রমাণিত হয়েছে। বিডিআরের নেতৃত্ব ধবংশ করে একদিকে যেমন তাদের যুথ বদ্ধতা নষ্ট করা হয়েছে একই ভাবে সেনাবাহিনীর মনোবল ধ্বংস করা হয়েছে। তাই বিডি আরের সৈনিকদের শাস্তি বা তাদের বঞ্চনার অবসানই বড় কথা নয় সব কিছু খোলাসা হওয়া দরকার।
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×