(গতকাল আমার (অ)কবিতা দেখে ব্লগার চঞ্চল হরিণী এই সুন্দর কবিতাটি লিখিয়াছে, সে অন্যের ভাবার্থ নিতে চাই না বলে আমি আমার ব্লগে পোস্ট করলুম)
কলিমদের পুকুরপাড়ে বাঁধা থাকিতো মস্ত এক হাতি,
কিনিয়াছিলেন বাবা সফরউদ্দিন দিয়া লক্ষ পাতি।
সফরউদ্দিন গত হইলেন; এখন কলিমের উপর দায়,
ভয় তাহাঁর সারাক্ষন হয়; না জানি হাতি চুরি যায় !
একদিন তাই বাদশাহর গোয়ালে রাখিয়া আসিলো হাতি।
দেখিলো সেথায় আরও রহিয়াছে বিভিন্ন প্রাণীর জাতি!
নিশ্চিন্ত মনে ফিরিয়া আসিলো মেলিয়া হাতের ছাতি।
ভাবিলো, এবার তবে শান্তিতে সকল কাজে মাতি।
বছর ঘুরিতেই কলিমের উপর আসিয়া পড়িলো বাজ,
খবর পাইয়াই ছুটিয়া চলিলো ফেলিয়া সকল কাজ।
অভাবে তাঁহার হাতিখান নাকি রূপ ধরিয়াছে খাসী।
আর কিছুদিন পেরিয়ে গেলেই হইয়া যাইবে হাঁসি।
হতবাক কলিম খাসী লইয়াই বাড়ি ফিরিতে চায়,
কিন্তু উজিরে আসিয়া বেড়ি পরাইলো তাঁহার পায়।
খাসী রাখিয়া হাতি লিখিয়াছিলো এতো ঘোর অন্যায়!
এমনধারা দুর্নীতি বাদশাহ দেখিবেন কত বড় স্পর্ধায়!
উজিরে নাজিরে ঠুকিয়া দিলো কলিমের নামে মামলা,
ওহে হাতির মালিক, এইবার তুই নিজেরে সামলা।
দিশেহারা কলিম বেতাল হইয়া ধরিলো বটতলার উকিল,
বিশ্বাস তাঁহার হাতির সমান; নিশ্চয়ই হইবে হাল মুশকিল।
কহিলেন উকিল, ইহা আমার দুই মিনিটের কাম,
যদি আপনি সময় মতই ছাড়িতে পারেন দাম।
কলিম সাহেব ছাড়িতে লাগিলেন বাঁচাইতে স্বনাম,
ভুলিলেন নাওয়া খাওয়া আর সবচেয়ে প্রিয় আম।
ছাড়িতে ছাড়িতে ফুঁড়াইতে লাগিলো সকল সঞ্চয় পাতি,
কালান্তরে স্বর্গে গেলো তাঁহার খাসীর মতন হাতি।
দশটি বৎসর কাটিয়া গেলো মামলা তবু ঝুলিয়া রয়,
উকিল কহেন বঙ্গদেশের মোকদ্দমা থোরা এদিক ওদিকই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


