নারী অধিকার শব্দটার সাথে আজ ছোট বড় সবাই পরিচিত। কিন্তু এই শব্দটার তাৎপর্য কী? সকল ক্ষেত্রে নারী যাতে পুরুষের সমান (বা বেশিঅধিকার পায় তার প্রচেষ্টা নাকি নারী যেন তার স্বাভাবিক কর্মকান্ডে কখনও বাধাগ্রস্থ না হয় তার নারীত্বের কারণে ? আমার মতে প্রথমটি সম্ভব নয় কারণ একজন নারীর কখনই পুরুষ হয়ে উঠা বা পুরুষের মত কাজ করা সম্ভব নয় ।নারী পুরুষের চেয়ে প্রকৃতিগত কারণেই শারীরিকভাবে দূর্বল যা অতিক্রম করা তার পক্ষে সম্ভব নয় ।মানসিকভাবেও নারীরা পুরুষের চেয়ে আলাদা;নারীরা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি আবেকপ্রবন,অভিমানী,আত্নুঅহমিকা ও ঈর্ষাসম্পন্ন ।একইসাথে তার মানসিক ভাল দিকও কম না ।বিপদে বা উত্তেজিত অবস্থায় নারীর সিদ্ধান্তটি পুরুষের চেয়ে অনেক সঠিক হয়,নারীরা বিপদে সহজে ভেঙ্গে পড়ে না ,অল্পবয়সেই সে মানসিকভাবে পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ক হয়ে উঠে ।পুরুষের থেকে তার স্বাতন্ত্র কখনই পুরুষের থেকে তার ছোটত্বকে প্রকাশ করে না ।বরং পুরুষের বিভিন্ন স্মরণীয় কাজের পেছনে কিন্তু রয়েছে নারীর অনুপ্রেরণনা ।
আজকে বিশেষ দিনগুলোতে নারী অধিকারের নামে নানা সংগঠন, ব্যাক্তিরা নানা কর্মসূচি পালন করছে ।তাদের কথা হল পুরুষরা নারীদের নানা অধিকার থেকে বচ্ঞিত করে রেখেছে ।কিন্তু আমার ত মনে হয় নারীরা নিজেরাই নিজেদেরকে বচ্ঞিত করে রেখেছে ।তাদেরকে যে পরিমান বাড়তি অধিকার দেয়া হচ্ছে তা তারা কাজে লাগাতে পারছে না ,বরং এই বাড়তি সুবিধা তাদেরকে অলস করে তুলছে ।আজ পড়াশুনা থেকে শুরু করে চলার পথেও তারা বিশেষ সুবিধা আর কোটা গ্রহন করে এত অব্যস্থ হয়েছে যে এখন এই বাড়তি সুবিধাগুলোকে আজ নিজেদের প্রাপ্য বলে মনে করে ।বাসে যেকোনও বয়সী মেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে সিট ছেড়ে দিই আমরা ছেলেরা,অথছ কৃতজ্ঞস্বরুপ সামান্য ধন্যবাদটা দিতে তাদের বাধে ।কিন্তু অনেক সময় অনেক বৃদ্ধ বাসে দাঁড়িয়ে যায় কারন বাসে নারী সিট ছাড়া আর কোনও সিট ফাকা নেই বলে,নারীরা তাদের সিটে কোন পুরুষে বসতে দেবে না !এটা তাদের অধিকার ।নারীত্বের দোহাই দিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে কাজ সারা তার অধিকার ।মিষ্টি কন্ঠের স্যরি বলে ভুলকে শুদ্ধ করে নেয়া তার স্বভাব !
আমরা চায় নারীরা এগিয়ে যাক তার কর্মে ,তার নিজ যোগ্যতায় কিন্তু আজ নারীরা নিজেদেরকে আবদ্ধ করে রেখেছেন ভোগ্যপন্যের মোড়কের ভেতর ।নিজের নারীত্বকে কাজে লাগিয়ে নানা সুযোগ পেয়ে সে অনেক খুশি !আর নারীর এই নারীত্বমনাকে কাজে লাগাচ্ছেন অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ।দোষ কাদের নারীদের নাকি ঐসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ?আজ শেভিং ক্রিমের বিজ্ঞাপন নারী ছাড়া হয়না ।বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে তাদের পন্যের বদলে প্রক্সি দিচ্ছেন বিভিন্ন সুদর্শন নারীরা ,কোন কোম্পানির রিসিপ্সনিষ্ট ও কাস্টমার কেয়ার বা কোন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয় সুন্দরী ,স্মার্ট ও অল্পবয়স্কা মহিলা ;শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথীলযোগ্য ।আর আমাদের নারীরাও তাদের সমঅধিকারের কথা, নিজের আত্নসম্মানের কথা ভুলে গিয়ে ওই চাকরিতে যোগদান করেন ।তারপর কিভাবে রাতারাতি বসের মন জয় করে প্রমোশন পাওয়া যায় তা আর তাকে শিখিয়ে দিতে হয় না ।
সুন্দরী ,স্মার্ট ও অল্পবয়স্কা মহিলাদের ঐসব চাকরি না করলেও বেকার বসে থাকার কোন চান্সই নাই ।চাইলেই অনায়াসে নাটক বা বড় বাজেটের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে যেতে পারবেন ;শুধুমাত্র প্রযোজক বা মার্কেটিং ওফিসারের একটু নজরে পরতে হবে-এ আর এমন কী ।অনেক মেয়ে ত আবার নজরে না পরলেও যেকোন মূল্যেই মডেল তাকে হতেই হবে ।
নারীরা যদি এই নারীত্বের এতো সুবিধাগুলোকে ত্যাগ না করে তাহলে কিভাবে সে পুরুষের কাতারে দাঁড়াবে? কিহবে এত নারী অধিকারের আান্দোলন করে ।
সব নারীরাই যে এমন এমনটি নই ।বর্তমানে যেসব নারীরা নিজ কর্মে,জ্ঞানে,মহিমায় পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন, একটু খোজ নিলেই দেখা যাবে তাদের এই অবস্থানে আসার পেছনে যে জিনিসটি বেশি কাজে লেগেছে তা হল নারী হিসেবে বাড়তি সুবিধাগুলোকে তারা না নিয়ে বরং নিজের চেষ্টায় তারা সামনে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন । বর্তমান সময়ের তথাকথিত মেয়েদের তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখার আছে ।কেন অন্যের (পুরুষের) করুনা নিয়ে বড় হব,আমি নারী ত কী হয়েছে ?নিজেকে দূর্বল না ভেবে নিজ চেষ্টায় যতদূর যাওয়া যায় ততদূর যাব ।কেন বাড়তি সুবিধা নিতে যাব ?এই বাড়তি সুবিধা দাবি করা মানে ত নিজেকে দূর্বল বলে উপস্থাপন করা ।নারীরা ত এখন আর দূর্বল নেই ।তারা দেশ চালাচ্ছে ,বিমান চালাচ্ছে,ট্রেন চালাচ্ছে,প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছে,গবেষণা করে নোবেল প্রাইজ পাচ্ছে ;সবকিছুই নিজ গুনে ।
আর পুরুষকে দোষ দেয়া ঠিক নয় ।কারণ আপনি নিজেই যদি নিজেকে পন্য হিসেবে, দূর্বল হিসেবে পুরুষের সামনে দাড়া করান কিছু কিছু পুরুষ ত আপনার কাছ থেকে সুবিধা নিতেই পারে ।নিজের মর্যাদা নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে ,নিজেকে নিজে অপমান করে অপরকে দোষারোপ করে লাভ নেই ।
এখন নারীদের উচিৎ নিজেদের অধিকারের বোঝা আর না বাড়িয়ে,বোঝা যতটুকু হয়েছে তা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়া ।সামনে অপেক্ষমান পুরুষাও যে তাদের (নারীদের) পেছনে রেখে বেশিদূর এগুতে পারছে না ।
শাহিন, কুয়েট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


