somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকা:ফার্স্ট লেডীদের গল্প

১২ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৭ নভেম্বর আমেরিকার নির্বাচনে বারাক ওবামা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মিশেল ওবামাও দ্বিতীয় দফা ফার্স্ট লেডী হন।
‘ফার্স্ট লেডী’ কোন নির্বাচিত পদ না। এটা কোনো অফিসিয়াল দায়িত্বও নয় কিংবা তার কোনো বেতনও নেই। তবু সে অনেক অফিসিয়াল কর্মকাণ্ড বা অনুষ্ঠানে যোগ দেয় একা বা স্বামীর সাথে। হোয়াইট হাউজের ঘরকন্যারাই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডী। কারণ, ঐতিহ্যগতভাবে এই উপাধিটা প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণীর জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট পত্নীরা এ নামে সংবর্ধিত হত না। কি নামে ডাকা হবে এ নিয়ে কথা উঠলো। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে ডাকলো। মিসেস প্রেসিডেন্ট, লেডী ইত্যাদি নামে। মারথা ওয়াশিংটন ঠিক করলেন ‘লেডী ওয়াশিংটন’ হিসেবে। এভাবে কাটল বহুদিন। তারপর ১৮৪৯ সালে ‘ডলি মেডিসন’ প্রথম ফার্স্ট লেডী শব্দের ব্যবহার করেন। আজ অবধি তাই আছে। এ পর্যন্ত ‘ফার্স্ট লেডী’ হয়েছেন মোট ৪৬ জন। এদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন জর্জ ডব্লিউ বুশের পত্নী লরা বুশ, বিল ক্লিন্টন পত্নী হিলারি ক্লিন্টন, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পত্নী বারবারা বুশ, রোন্যাল্ড রিগ্যানের পত্নী নেন্সি রিগ্যান, জিমি কার্টারের পত্নী রোশলিন কার্টার এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পত্নী মিশেল ওবামা।

মিশেল ওবামা

মিশেল নাভান রবিনসন ওবামার জন্ম ১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৪ সালে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পত্নী এবং প্রথম আফ্রো আমেরিকান ফার্স্ট লেডী। ওবামার সাথে তার বিয়ে হয় ১৯৯২ সালে। মালিয়া ও সাসা নামে তাদের দু’কন্যা সন্তান রয়েছে। পেশায় মিশেল একজন আইনজীবী। ধর্মীয় বিশ্বাস প্রোট্যাস্টান্ট ক্রিশ্চিয়ান। একজন সিনেটরের স্ত্রী এবং একজন ফার্স্ট লেডী হয়েও তার কাজগুলো নারীদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। পেশায় আইনজীবী হিসেবে তিনি মানুষকে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্ত থাকার পরামর্শ দেন। সচেতন করেন পুষ্টি ও সুষম খাদ্যের বিষয়ে। রাজনীতি করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে। তার ২০০২ সালের প্রকাশিত আমেরিকান গ্রোন; দ্য স্টোরি অব দ্য হোয়াইট হাউজ কিচেন গার্ডেন এন্ড গার্ডেন এক্রোস আমেরিকা তার বাগান করার অভিজ্ঞতা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের উপরই অনেকটা ভিত্তি করে।



বারবারা বুশ

তার জন্ম ১৯২৫ সালের ২৮ জুন,নিউইয়র্ক সিটিতে। তিনি ছিলেন ৪১তম প্রেসিডেন্ট জন এইচ ডব্লিউ বুশের স্ত্রী। ফার্স্ট লেডী ছিলেন ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত। তিনি আমেরিকার আরেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের এবং ফ্লোরিডার ৪৩তম গভর্নর বেব বুশের জননী। ফার্স্ট লেডী হওয়ার পর অনেকগুলো সামাজিক কাজে অংশ নেন। এর মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বেশ প্রশংসা পায়। শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ‘বারবারা বুশ ফাউন্ডেশন’। ক্রীড়ামোদী এই রমণী যৌবনে এথলেটিক ছিলেন। এছাড়া সাঁতার, টেনিস এবং বাইক রাইডিং তার অনেক পছন্দের বিষয়। তিনি ‘ইপিসকোপাল’ ধর্মীয় আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী।



রোশেলিন কার্টার

ইলেনর রোশেলিন কার্টারের জন্ম ১৯২৭ সালের ১৮ আগস্ট। মাতা এলিএম পেশায় দর্জি। বাবা এগার স্মিথ ছিলেন কৃষক। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তের বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর পর তার মায়ের দর্জি কাজে সেও সাহায্য করতো। তার স্বামী প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সাথে তার বিয়ে হয় ১৯৪৬ সালে। এ দম্পতির চারটি সন্তান হয়। জ্যাক, চিফ, জিম আর এমি তাদের নাম। রাজনীতিতে তিনি ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে কাজ করেন। ধর্মীয় বিশ্বাসে ছিলেন ব্যাপটিস্ট। রোশেলিন কার্টার ফার্স্ট লেডী হন ১৯৮১ সালে। এ সময় তিনি অনেক সমাজ বিনির্মাণমূলক কাজ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন দ্যা চার্টার সেন্টার নামক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তবে তার কাজের মধ্যে বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য। এছাড়া নারী আর শিশুদের জন্যেও তার করা কাজের অবদান অনেক বেশি।



ন্যান্সি ডেভিস রিগ্যান

১৯২১ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন, নিউইয়র্ক সিটিতে। তার জন্মের পরই বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে বড় হন। সেখানে থেকে অভিনয়ের সাথে সখ্যতা হয়। এবং পেশা হিসেবে বেছে নেন অভিনয়কে। ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হলিউডে কাটে তার। অভিনয় করেন বেশকিছু চলচ্চিত্রে। ১৯৫২ সালে তিনি রোন্যাল্ড রিগ্যানকে বিয়ে করেন। তত্কালীন সময়ে যে ছিল ‘স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ডের’ প্রেসিডেন্ট। তাদের দু,সন্তান হয়েছিলো, নাম পেটি বেভিস এবং রন রিগ্যান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে রিগ্যান প্রেসিডেন্ট হলে ন্যান্সি১৯৮৯ পর্যন্ত ফার্স্ট লেডী হিসেবে থাকেন। ন্যান্সি ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ছিলেন। ফার্স্ট লেডী হওয়ার পর অনেকগুলো সমাজ গঠনের কাজ করেন। মাদক ও নেশার সচেতনতার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জাস্ট সে নো’। ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রিসবাইটেরিয়ান এই রমণী রাজনৈতিক আদর্শে ছিলেন স্বামীর সাথেই রিপাবলিকান হয়ে।



হিলারি রোডহাম ক্লিনটন

জন্মগ্রহণ করেন ২৬ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে। পেশায় হিলারি ছিলেন একজন আইনজীবী। ১৯৭৪ সালে তিনি আরাকানসাসে যান। সেখানেই তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের সাথে সাক্ষাত্ হয়। ১৯৭৭ সালে ‘আরাকানসাস এডভোকেটস ফর চিলড্রেন এন্ড ফ্যামিলি’ প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এবং ১৯৭৮ সালে ‘লিগ্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশনের প্রথম মহিলা প্রধান হন। ১৯৭৫ সালে তারা বিয়ে করেন। চেলসি নামে এ দম্পতির একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিলের স্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ফার্স্ট লেডী হিসেবে ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪তম সেক্রেটারি হেসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেটা ছিলো বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদের সরকারের। এবং হিলারিই প্রথম কোন ফার্স্ট লেডী যে প্রেসিডেন্ট কেবিনেটে কাজ করেন। ১৯৬৮ সালে রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতি করলেও পরবর্তীতে ডেমোক্রেটদের হয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এবং শেষ অবধি এর সাথেই আছেন। ধর্মীয়ভাবে এই লেডী হচ্ছেন মেথুডিস্ট।



লরা বুশ

জন্ম ৪ নভেম্বর, ১০৪৬। তিনি ১৯৬৮ সালে ‘সাউদার্ন মেথুডিস্ট ইউনিভার্সিটি’ থেকে শিক্ষার উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন, এরপর অনেক দিন শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষকতা ছাড়াও পেশা হিসেবে তিনি ছিলেন একাধারে লেখক এবং লাইব্রেরিয়ান। তিনি ৪৩তম প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের স্ত্রী হিসেবে ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ‘ফার্স্ট লেডী’ হিসেবে ছিলেন। তার সাথে বুশের সাক্ষাত্ হয় ১৯৭৭ সালে। একই বছর তারা বিয়ে করেন। এ দম্পতির ১৯৮১ সালে যমজ দু’কন্যা হয়। কন্যাদের নাম বারবারা বুশ এবং জিনা বুশ। ফার্স্ট লেডী হওয়ার পর তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করেন। তিনি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেন। ২০০১ সালে চালু হওয়া ‘জাতীয় পুস্তক উত্সব’ শিক্ষাক্ষেত্রে তার অনেক বড় অবদান। এছাড়াও তার বিভিন্ন সফরে তিনি এইচ আইভি এইডস এবং ম্যালেরিয়া বিষয়ে সচেতনতা করেন। ২০১০-এর মে মাসে তার জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ ‘স্পোকেন ফ্রম হার্ট’ প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিকভাবে তিনি রিপাবলিকান আর ধর্মীয় বিশ্বাসে মেথুডিস্ট।

তথ্যসূত্রঃ ইত্তেফাক
মূল লেখাটি এখানে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডিপস্টেট তাহলে সসস্র বিপ্লবের গোলা বারুদের সরবরাহকারী! জঙ্গি আসিফ’কে কেউ প্রশ্ন করেনি ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



বাংলাদেশে একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট-এর বিরুদ্ধে যখন জুলাই-আগস্ট মাসে তথাকথিত “মুভমেন্ট” চলতেছিল, তখন এটাকে অনেকে খুব ইনোসেন্টভাবে “পিপলস আপরাইজিং” বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রশ্নটা খুবই সিম্পল—এইটা কি আসলেই স্পনটেনিয়াস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×