আমরা অনেকেই ইরানকে সুনজরে দেখি। মুসলিম দেশের মধ্যে ইরান একক প্রচেষ্টায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলে দাবিও করি। ঘটনাও অনেকটা তাই। পার্শ্ববর্তী কিছু দেশ এবং আমেরিকা ও তার মিত্রদের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার নীতি থেকে সরে আসে নি। মধ্যপ্রাচ্যে পারস্যের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সাহিত্যে যে অতীত ঐতিহ্য তার মর্যাদা রেখেই তারা তাদের নীতিতে এখনও অটল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদের মহত্ত্ব, সততা ইত্যাদি নিয়ে অনেক পোষ্ট, ছবি মাঝে মাঝেই ফেইসবুক ইউজারদের শেয়ার করতে দেখা যায়। তাকে আমরা একজন সাহসী প্রেসিডেন্ট হিসেবেই জানি। ঈসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের সন্ত্রাসী মনোভাব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবসময়ই তিনি সোচ্চার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার ভাষণ অনেককেই নাড়া দেয়। তার কড়া শব্দের ভাষণ বরাবরই অনেক পশ্চিমা কূটনীতিক বয়কট করে আসছেন। গত বছরের ভাষণতো অসাধারণ ছিল। পৃথিবীর নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের কথা তিনি বলেছিলেন এবং এর জন্য যারা দায়ী তাদের প্রতিও ছিল তার তীর্যক বাক্যবাণ। যথারীতি কিছু দেশের বয়কটও ছিল তার ভাষণ।
কিন্তু এ বছরের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আরব গণজাগরণের (অনেকে Arab Spring এর বাঙলা অনুবাদ করেন আরব বসন্ত কিন্তু আমি বলি আরব গণজাগরণ) ছোঁয়া লাগার পর অনেক দেশে বছরের পর বছর ক্ষমতা দখল করে বসে থাকা ব্যক্তি বা পরিবারগুলোকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে সহিংস, নৃশংস ও অমানবিক গণ হত্যা এখনও চলছে সিরীয়ায়। বেশ কিছু আরবদেশের প্রধানের কাছ থেকে আমরা এ নৃশংসতার প্রতিবাদ শুনতে পেয়েছি। কিন্তু তেমন কোন প্রতিবাদ বা নিন্দা আসে নি ইরানের পক্ষ থেকে। উল্টো গণ হত্যার অভিযোগে যখন ওআইসি থেকে সিরীয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয় তখন ইরান তার প্রতিবাদ জানায়। যদিও তারা দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটানোর আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় বছর ধরে চলা সহিংসে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন, বাস্তুহারা হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। সিরীয়ার বিরোধী দলীয় ওয়েবসাইট Syrian Martyrs জানিয়ে অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ মারা গেছেন যার মধ্যে শিশু, নারী, বিদেশী নাগরিকসহ অনেক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। একবিংশ শতাব্দীতে গণহত্যার অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাশার আল-আসাদ।
ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে আমেরিকা বিরোধী মতাদর্শের কারণে ইরান অনেক মুসলিমের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু এই অ্যান্টি-আমেরিকান দেশটি কেন সিরীয়ার গনহত্যার বিরুদ্ধে কোন কথা বলছে না। প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ কেন জাতিসংঘের ভাষনে এ গনহত্যার বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি? তিনি যখন আমেরিকার এবং আমেরিকান মিলিটারি ক্যাম্প (ঈসরাইল) এর দ্বারা নির্বিচারে মুসলিম হত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন আমরা বাহবা দেই। কিন্তু সিরিয়ার মুসলমানদের কী হবে? তাদের হত্যা কি তার চোখে পড়ে না? এত নিরীহ মানুষ হত্যার পরও ইরান কেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পরিবারের প্রতি এত অনুরক্ত? তবে কি এই সিরীয়ানরা তাদের চোখে মুসলিম বা মানুষ না???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



