সোনালি, বেসিক ব্যাংকসহ সরকারি বাংকগুলো যখন ধুঁকছিল তখন দেশের সব থেকে বড় বেসরকারি "ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড" শুধু সামনেই এগিয়ে যাচ্ছিল।


অতঃপর তাদের অসাধারন নৈপুণ্যে ইসলামী ব্যাংককেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন তাহারা!! মাত্র ৬ মাসের ব্যাবধানে সব থেকে সফল ব্যাংকটিকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এরই মধ্যে ব্যাংকটিতে আর্থিক সঙ্কট শুরু হয়েছে??

ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণও গত চার বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটি ৫ হাজার ৩১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। ২০১৫ ও ২০১৪ সালের প্রথম ছয় মাসে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৬৯৫ ও ২ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।
আমানতের দিক থেকে শীর্ষে না থাকলেও ঋণ বিতারনের ক্ষেত্রে এখন এই ব্যাংকের অবস্থান প্রথম!! আমানত ৭০ হাজার ৪০১ কোটি টাকার বিপরীতে মোট ঋণ দেওয়া হয়েছে ৬৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা!! বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক তার আমানতের ৯০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারে। কিন্তু এই ব্যাংক ইতিমধ্যে ৯৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার বাহিরে গিয়ে ৩ শতাংশ অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করেছে এই ব্যাংক??
স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাংকের আয়ের সব থেকে বড় উৎস হল ঋণ প্রদান। সুতরাং ঋণ বিতরণ বাড়িয়ে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও গত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা Earning per share কমে গেছে। গত তিন বছরের মধ্যে শেয়ারপ্রতি আয় সর্বনিম্ন ছিল চলতি বছর। আগের বছরের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস (২.১২-১.৬০=৫২ পরসা কমেছে) প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।
আমানত প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চাহিদা মেটাতে তাই সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ কমিয়ে আনার পাশাপাশি বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করছে ব্যাংকটি।
শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো প্রায় ১৫ টাকা ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যা ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ঋণাত্মক ছিল। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ ১০ টাকার বেশি কমে গেছে। কোনো ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে যাওয়া মানে ওই ব্যাংকটিতে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হওয়া। চাহিদা মেটাতে ব্যাংকটিকে চড়া মাশুলে স্বল্প মেয়াদে টাকা ধার করতে হয়। তাতে খরচ বাড়বে এবং আয় কমে যাবে।
এত সময় যেসব তথ্য তুলে ধরলাম সেগুলো ছিল Statistics. এখন সব থেকে বড় সম্ভাবনার কথা বলি!! বেসিক ব্যাংক, সোনালি ব্যাংক, হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ্ গ্রুপগুলোর কেলেঙ্কারি সম্পর্কে নিশ্চয়ই জানেন সেখানে ঋণ প্রদানে অনিয়ম/অস্বচ্ছতা ছিল। আশাকরি ইসলামী ব্যাংক এবার সেই পথের পথিক। সুতরাং কিছুদিন পর হটাৎ করে যদি ইসলামী ব্যাংককে দেউলিয়া করে দেওয়া হয় তখন অবাক হব না। কারন এই ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতারা এখন যদি ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়ে! তবে আর কিছুই করবার থাকবে না। পরবর্তীতে হয়ত ডেসটিনির মত একই ভাগ্য বরন করতে হতে পারে এক সময়ের সফলতম ব্যাংকটির!!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৮:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



