
রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতি আটকে দিয়েছে চীন। চীনের আপত্তির কারণে রাখাইনে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিল আলোচনার পর বিবৃতি দিতে পারেনি।
গতবার রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নিরাপত্তা কাউন্সিলে আলোচনা হলেও চীনের আপত্তির কারণেই রুদ্ধদার এই বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি। পর্দার অন্তরালে কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশই রাখাইন ইস্যুতে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে আলোচনা সূত্রপাতের উদ্যোগ নিয়েছিল।
গত শুক্রবার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু করেছে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী।


সরকারের মতে, প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বৈধ-অবৈধভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাস করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা কাউন্সিল বুধবার মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করেছে।১৫ সদস্যের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রুদ্ধদার এই বৈঠকের পর কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি। তবে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রোফট বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা।
এই বৈঠক আহ্বান করেছিল ব্রিটেন। কিন্তু রাখাইন সঙ্কটে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জড়িত হওয়ার বিষয়ে ঘোর বিরোধিতা করেছে চীন। তবে আগামী মাসে জাতিসঙ্ঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা সমবেত হলে ইস্যুটি আলোচনায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রাইক্রোফট বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ এখনো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিকে সমর্থন করে। আমরা চাই তিনি সঠিক কথা বলুক। একটি সমঝোতার পথ বের করে আনুক। মিয়ানমারের সব মানুষের মঙ্গলের জন্য এই সমস্যা সমাধান করে উত্তেজনা প্রশমন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নাগরিকত্ব ও চলাচলের বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব ড. ইউসুফ আল ওতাইমিন। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব কফি আনান ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চির কাছে লেখা পৃথক দু’টি চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান। চিঠিতে ওআইসি মহাসচিব বলেছেন, রাখাইনে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে অঞ্চলজুড়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওতাইমিন রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ ও রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সু চিকে লেখা চিঠিতে মহাসচিব অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, উদ্বাস্তুদের তাদের ঘরে ফিরতে দেয়া এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দুর্গতদের সহায়তার অনুমতি দেয়ার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



