somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষাব্যবস্থায় ভ্যাট ও অন্যান্য

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"শিক্ষাব্যবস্থায় ভ্যাট ও অন্যান্য"
       শ ম বুরহান সাদী
সত্যিই আজ ভাবতে হচ্ছে আমি কোথায় বাস করছি! ভেবে পাচ্ছি না কি করে,  কোত্থেকে শুরু করবো! শিক্ষার্থী পরিচিতির ওপর সর্বশ্রেণিরই একটা সম্মান-সহানুভূতি থাকে। সে রিক্সাওয়ালা থেকে উচ্চপদস্থ যেই হোন না কেন। যেখানে মূর্খসুর্খ  বাসের সুপারভাইজারও  একখানা স্টুডেন্ট আইডির জন্য তাঁর অর্ধেক ভাড়া মওকূফ করে দেয়, সেখানে জাতির মাননীয় কর্তাব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট নামক এক লজ্জারজ্জু তাঁদের নাক বরাবর ঝুলিয়ে ধরেছেন। এক ঘৃণা আর অবহেলার বিষ মাখানো লোষ্ট্র তাঁদের মাথা-মুণ্ডে ছোঁড়ে মারছেন; ঠিক যারাই জাতির আগামী এবং ভবিশ্যত। এ কী বাস্তবতা  না হেয়ালিপনা? মাননীয় নীতি নির্ধারকরা কী ভুলেই গেলেন যে শিক্ষাও মানুষের মৌলিক অধিকার! আর জাতির জন্য এ অধিকার  নিশ্চিত করাও এসব কর্তাব্যক্তিদেরই দায়িত্ব। শিক্ষা; এতো কোন পণ্য নয় যে এর ওপর ভ্যাট আরোপ করা হবে। আজ মানুষ তাঁর মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য নয় বরং তাঁদের ওপর আরোপিত অসম্মান আর লজ্জার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমেছে।  আর এর প্রতিবাদ করার কারনে মানুষ তৈরির কারিগরদের পুলিশ বেধরক পেটাচ্ছে। ঐ সব শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশবাহিনী গুলি ছোঁড়ছে, যারা জাতির আগামীর কর্ণধার। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এ কী দেখতে হচ্ছে আমার! এটাই কী তবে গণতন্ত্র! এই কি ছিলো স্বাধীনতার উদ্দেশ্য? হলফ করে বলছি, ১৬ কোটির একজন হিসেবে আজ খুউব লজ্জিত আমি। পুরোমাত্রায় হতভম্ব হওয়ার কারনেই হয়তো কী লিখছি সেটাও বলতে পারছি না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে লিখতে.. এখনো দেশের আনাচে-কানাচে অনেক জায়গায় শিক্ষার আলো তক পৌঁছায়নি, সেখানেই আবার তার ওপর জুড়ে দেয়া হচ্ছে ভ্যাট! এখনো দেশ কাঁদে তিমির-তমসার অভিশাপে। সেখানে বারংবার বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। এখনো অনেক মায়ের চুলায় আগুন জ্বলে না। সেখানে উপর্যুপরি বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে গ্যাসের দাম। গ্যাস, বিদ্যুৎ পানির দাম বাড়িয়েই শেষ নয়। টেলিকমিউনিকেশন খাতে ১৫% খেয়েও ক্ষান্ত হয়নি এ ভ্যাট। আরো ৩% বাড়িয়ে এটাকে ১৮% করা হয়েছে। একজন সাধারণ মানুষ, ধরা যাক রিক্সাওয়ালাকেই। সে যদি তার ১ টাকায় ১৮ পয়সাই ভ্যাট দিতে হয়, তবে তাকে কে কত টাকা ভ্যাট দেবে সেটা নির্ধারণ করে দেবে কে? এক দিনমজুর যদি তার ১০০ টাকায় ১৮ টাকাই ভ্যাট গুনতে হয়, তবে এরা বাঁচবে কিভাবে? আমরা কোথায় যাবো? তবে কি আমাদের কোন দাবি-দাওয়ারই কোন মূল্য নাই? আমি কার কাছে এসব কথা বলছি? কেনইবা বলছি? কার কাছে বলবো?
আসলে আমিও এই অসহায় ও নিরীহ লোকদের একজন। আমাদের মতো এমন কোটি কোটি লোক বড় বড় বাজেট প্রতিযোগিতার ঝলকি দেখতে চায় না। এরা চায় দু'মুঠো ভাত খেয়ে বাঁচতে। এরা চায় না বাজেট বাস্তবায়নের নামে কোটি কোটি নিরীহ লোকের সুপ্রসন্ন বুকের উপর স্ট্রীম রোলার উঠুক। তাই সংশ্লিষ্ট মাননীয় কর্তাব্যক্তিদের হাত জোড় করে বলতে চাই, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় ৭.৫% ভ্যাট, টেলিকমিউনিকেশনে বর্ধিত ৩% ভ্যাট মওকূফ সহ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম কমিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে  এনে এসব অসহায় নিরীহ লোকদের সাধ্যের নাগালে রাখুন। এদের বাঁচতে দিন। নয়তো কোটি কোটি অসহায় নিরীহ লোক; ওরাও রাস্তায় নেমে আসবে। চাইলে আপনারা এদের গুলি ছোঁড়তে পারেন, মেরেও ফেলতে পারেন। তবে এটা হয়তো আপনাদের জানা নাই " খালি উদরের জ্বালা বেশি।" এ জ্বালার বিষ নিয়ে বাঁচা থেকে মরে যাওয়াই শ্রেয় নয় কী??
                  -লেখক: শিক্ষার্থী
                ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫
eMail:[email protected]
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×