বারেবারে বলি, রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকুক সেটি কখনোই চাইনা। বরং কোন রাষ্ট্রে একটি নির্দিষ্ট ধর্ম প্রধান থাকলে এবং রাষ্ট্রকে সেই ধর্মের নামে ডাকা শুরু করলে রাষ্ট্রে বসবাসরত অন্য ধর্মের লোকেদের সেই রাষ্ট্রকে আপন ভাবার সুযোগটি কমে যায়।
ছোটবেলা থেকে শুরু করে এখনো প্রায়ই শুনি অনেক হিন্দু ধর্মালম্বীরা মাঝেমাঝে আফসুস করে বলে যে, "এই দেশ তো আমাদের জন্য নয়। এতো শুধু মুসলিমদের দেশ!" এখনো সংখ্যায় অল্প এমন ধর্ম মতাদর্শের এমন অনেকেই সবকিছু গুটিয়ে নিজের দেশ ছেড়ে পাশের দেশে কিংবা দূর দেশে যেখানে নিজেদের নিরাপত্তা আছে, সম্মান আছে সেখানে চলে যাচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই আমার চারপাশ আমাকে বিধর্মীদের প্রতি চরম হিংসা আর ঘৃণা নিয়ে বড় হতে বাধ্য করতে চেয়েছিল । আমারই অনেক চেনা জানা, সম্ভবত অনেক নয় প্রায় সব চেনা জানারাই নিজের ধর্ম ব্যতিত বিধর্মীদের কোন এক অজানা কারণে চরম ঘৃণা করে। এতই যদি নিজের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা আর ঘৃণা থাকে তবে প্রচলিত নিয়মানুসারে ধর্ম মেনে চলারই বা দরকার কি!
তবে আমি মনে করি এদেশ তথা পুরো উপমহাদেশেই ধর্মীয় সহিংসতার প্রধান কারণ মূলত রাজনৈতিক। এদেশের সরকার দল এবং প্রধান বিরোধী দল সহ সকলেই ধর্মান্ধদের উগ্র আচরণকে দেখেও না দেখার ভান করে উলটো সমর্থন দেয় ধর্মীয় সহমতের কারণে নয় বরং সংখ্যা গরিষ্ঠতার সমর্থন লাভের আশায়। এই সুযোগে সংখ্যালঘুদের অঢেল সম্পত্তি খুব সহজেই ছিনিয়ে নেওয়া যায় । তাদের উপর অন্যায় বিরোধ আরোপ করা যায়। তাদের নিয়ে ঠাট্টা তামাশাও করা যায় বৈকি। কিন্তু সরকার যদি চায় তবে তার শিক্ষিত এবং জ্ঞানী জনগনকে সাথে নিয়ে সে দেশের ধর্মীয় অসহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ধর্মীয় বিভেদ দূর করতে পারে। এবং প্রচলিত নিয়মে তার রাষ্ট্রের প্রধান ধর্ম থাকুক অথবা না থাকুক তবে দেশ যে সকলের সেটি বোধগম্য করাতে পারে।
আমার স্লোগান,
রাষ্ট্র ধর্ম হোক না হোক
নিজের দেশটা নিজের চাই!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


