১) আমাদের বুড়োরা বুড়ো হইবার সাথে সাথে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়ে। এই ক্রাইসিসকে মোকাবেলা করার জন্য কিছুকাল তারা খিটখিটে আর রগচটা মেজাজ দেখাইলেও একটা সময় বুঝতে পারে যে বুড়ো হইবার পর থেকে সমাজে তাদের আর কোন পাত্তা নেই, এমনকি তাদের নিজেদের পরিবারেও নেই। এইটা বুঝতে পেরে তারা জীবন্মৃত বোঝা হইয়া বাকি জীবন যাপন করে। একটা দীর্ঘশ্বাসের মতন সারাক্ষণ তারা দুঃখী হইয়া থাকে।
এই বোঝা হইয়া থাকা থেকে মুক্তি দিতে পারে বৃদ্ধাশ্রম। সেইখানে তারা আলাপ করার মতন সমবয়েসী বুড়ো বুড়ি পাইবে। নিয়ম করে তিনবেলা খাবার পাইবে, বিনোদনের লাইগা টিভি, সিনেমা, খেলার মাঠ পাইবে। অসুখ হইলে সেবা পাইবে। প্রার্থনা করার লাইগা উপযুক্ত জায়গাও পাইবে। বুড়োদের জন্য স্বস্তির ব্যাপার হইব, সঙ্গীহীন একাকী থেকে জোর করে ধর্মচর্চা করার লোক দেখানো এক্টিং করতে হবেনা সেখানে। মিডলক্লাসে ওল্ডহোম যত পপুলার হইব বুড়োরা তত আইডেন্টিটি পাইবো।
২) আমার এক আত্মীয় ছিলেন যার সন্তানরা তাদের স্ত্রী-সন্তান সহ জীবিত থাকতেও তিনি ভীষণ একা ছিলেন। এমনকি তারা প্রত্যেকে সাবলম্বী হইবার পরেও ওই আত্মীয়কে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত অনেকটা একাই থাকতে হইতো। এর চেয়ে বৃদ্ধাশ্রমে বোধহয় তিনি ভাল থাকতেন। তাই বৃদ্ধাশ্রম থাকুক। যাদের সন্তানরা থাকতেও নেই অথবা যাদের সত্যিই কোন আত্মীয় নেই বৃদ্ধাশ্রমে তারা কিছু বন্ধু পাবেন। শেষ বয়েসে কথা বলার কিছু লোক পাবেন। পরিবারের মত সামান্য শৃঙ্খলাও পাবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


