somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহরের হিরো (পরিচ্ছন্নক কর্মী)

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের প্রিয় ঢাকা শহর এ যেনো ময়লা আবর্জনায় নোংরা যানজটে বিষাক্ত এক নগরীর নাম, ঢাকাবাসী যে কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয় বসবাসের জন্য ঢাকা কেনো বেছে নিলেন প্রায় সবারই একই উত্তর পেটের দায়ে।


এই সেই নগরী যেখানে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ মানুষের বসবাস যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টন বজ্র নিঃসরিত হয়। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ পলিথিন ব্যবহার করা হয়। এই সেই শহর যেখানে প্রতি কিউবিক মিটারে সিসার পরিমান ৪৩৬ ন্যানোগ্রাম। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অধিক জনসসংখ্যা, কলকারখানার বজ্র,ট্যানারি শিল্প, যানবাহনের কালো ধোয়া, সিটি করপোরশোনের অপ্রতুলতাকেই বায়ু দূষনের জন্য দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
বায় দূষনের ফলে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, হ্রদ্ররোগ, বিভিন্ন প্রকার অসুখ বিসুখ লেগেই থাকে।
ঢাকা শহরে প্রতি বছর বায়ু দূষনের ফলে ১৫ হাজার লোক মারা যায়। তাও বলি এই শহর আমার বেচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আর এই বায়ু দূষনে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শিশু, ছাত্রছাত্রী, এবং সব বয়সের মানুষ, তবে বেশী প্রভাব পড়ে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষগুলির উপর, যারা বস্তিতে বসবাস করেন এবং খোলা জায়গায় কাজ করেন।
আমরা কখনই কি ভেবে দেখেছি এই নোংরা আবর্জনায় ভরা শহরের বেচে থাকার পেছনের গল্প কারা ঘষেমেজে টিকিয়ে রেখেছে শহরটাকে। হ্যা মেথর, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কথা বলছি যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা একটু নিশ্বাস টানতে পারছি।
ভেবে দেখেছেন এই টানা বৃষ্টিতে পলিথিনের নগরীতে কারা ড্রেন পরিস্কার করে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। ঢাকা শহরে প্রায় ৫০ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী, মেথর রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত পরিষ্কারের কাজে নিয়জিত আছে। কেমন আছে তারা? কিভাবে দিন কাটায় তারা?
হ্যা হয়ত কখনোই আমরা অইভাবে ভাবিনি মাঝে মাঝে ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে নাক চেপে হেটে চলি তখন দেখতে পাই পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কিভাবে ময়লা সংগ্রহ করছে ভাবতে পারেন কেমন করে কাজ করে তারা মানুষ অভ্যাসের দাস তবে এরকম দূষিত এলাকায় প্রচন্ড দূরগন্ধ, গাড়ির কালো ধোয়া, ধুলোবালি তাদের ভিতর একধরনের মাদকতা তৈরী করে, একধরনের একঘুয়ে হয়ে যায় এবং কাজের সময় বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য সেবন করে থাকে প্রচন্ড এই গন্ধযুক্ত স্থানে কাজ করার ফলে প্রায় সারাবছর বিভিন্ন রোগে ভুগে থাকে এই কর্মীরা।
বায়ু দূষনের সবচাইতে বড় ভিক্টিম হচ্ছে পরিচ্ছন্ন কর্মী। নির্দিষ্ট বয়স ৪০-৪৫ বছরের মধ্যেই এইসব মানুষ বিভিন্ন রোগে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ৩৫% জীবন হারায়। হাপানী, শাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সার বেশি দেখা
কারি প্রতিষ্ঠান ব্রাকের পরিসংখ্যানে জানা যায় ঢাকায় প্রায় ৩০ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করে তার প্রায় ৬০ শতাংশ বিভিন্ন কঠিন রোগে ভুগছে এবং প্রতিবছর ৯% মারা যায়। মৃত্যুর সবচাইতে বড় কারন হিসেবে দেখানো হয় বায়ু দূষন।
বিভিন্ন রোগে পায়ননা ভালো চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার, ফলে ৪০-৪৫ বছরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ই বেছে নেয় এইসব মানুষগুলি।
রাজধানির মোহাম্মদপুর মেথর পট্টিতে বসবাসকারী জহির মিয়া জানান, যখন প্রথম ঢাকায় এই কাজ শুরু করেন প্রথম প্রথম দুর্গন্ধে বমি হয়ে যেতো হাঁপানি শ্বাশকষ্ট হতো আস্তে আস্তে সব সয়ে গেছে তবে প্রায় উনি অসুস্থ থাকেন রোগশোকে পরিত্রান নাই তার।
বায়ু দূষনের কারণ এবং এর প্রতিকার নিয়ে ব্যাপক জনসচেতন্তা গড়ে তুলতে হবে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের স্বাস্থ্যকর বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে তাদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সচেতন করতে হবে এবং আধুনিকভাবে পয়নিস্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×