somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমাজে নারী-পুরুষের উপস্থাপন (নারী পরিচালক) ২

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলচ্চিত্র সমাজ জীবনের কথা বলে, মিডিয়া সৃষ্টির শুরু থেকে চলচ্চিত্র সমাজের রুপরেখা ফুটিয়ে তুলেছে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বাস্তব জীবনের গল্প বলে আসছে। চলচ্চিত্র বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি নিয়েও কথা বলেছে তার মধ্যে নারী পুরুষের ভেদাভেদ নিয়ে নারীর অধিকার ও বিভিন্ন চলচ্চিত্রর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। চলচ্চিত্র শুরুর আদি থেকে যদিও মহিলাদের অভিনয়েই শুধুমাত্র অংশগ্রহণ ছিলো কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরাও ক্যামেরার পিছনে কাজ করে যাচ্ছেন।নারী পরিচালক হয়ে নারী পুরুষের চরিত্রে কি রুপরেখা রেখেছেন নারী পরিচালকেরা সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেননা সিনেমা নির্মানে খুবই কম নারী পরিচালক রয়েছেন ভারতীয় উপমহাদেশের কয়েকজন হাতে গোনা নারী পরিচালকের মধ্যে অপর্না সেন সফল একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। যিনি অভিনয় থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সম্পাদনা চলচ্চিত্র নির্মান এবং তাছাড়া নারী বিষয়ক একটি পত্রিকার সম্পাদিকা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অপর্না সেন তার চলচ্চিত্র নারী কে নারী নয় মানুষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অপর্না সেন এর আরশি নগর সিনেমায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সাথে সাথে এখানে নারী সমাজের অবস্থান ও তুলে ধরা হয়েছে, ছবির শুরুতেই দেখানো নায়িকার পিঠে ট্যাটু করানো নারীরা যে এখনো কিছু বেড়াজালে বন্দী সেটাই পরিলক্ষিত হয় এটার মাধ্যমে তাছাড়া, নায়িকার বাবার অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে হজ্বে যেতে চাওয়াও নারীদের সমাজে দাবিয়ে রাখার প্রতিচ্ছবি। মুসলনান নারীরা কিভাবে পুরুষের দাসত্ব মেনে নেয় সেটিও তুলে ধরেছেন। যদিও এই সিনেমায় পুরুষ চরিত্রকে নারীবাদী অপর্না সেনের অপর মুভি জাপানিজ ওয়াইফ মুভিটা যদিও ভৌগলিক প্রেক্ষাপটককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাও এই মুভিতে রাহুল বোসের চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের পুরুষদের নারীদের প্রতি শেয়ারিং কেয়ারিং জিনিসটা ফুটিয়ে তুলেছেন, সমাজে এমনো পুরুষ আছেন যারা তাদের স্ত্রীর প্রতি এতটা নমনীয় দূরে থাকলেও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা, তার প্রতিটি পদক্ষেপেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, এর মাধ্যমে অপর্না সেন পুরুষদের নারীবাদী হয়ে উঠাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাছাড়া অপরদিকে রাইমা রায় এর চরিত্রের মধ্যদিয়ে সমাজের বিধবা নারীদের কে তুলে ধরেছেন, অল্প বয়সে বিধবা হলে মেয়েদের স্বামীর বাড়ি অস্তিত্ব থাকেনা পরগাছার মতো জীবনযাপন করতে হয়। রাইমা সেন এর চরিত্রের মধ্য দিয়ে নারীদের লাজুকতা কিভাবে পুরুষদের থেকে আড়াল করে জর্জরিততা নিয়ে কিভাবে বিধবা একজন মহিলা সমাজে বেচে থাকেন। অপর্না সেন সমাজে নারী পুরুষ ভেদাভেদ কে তুঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তার সব মুভিতে তার স্পষ্টতা দেখা যায় পারমিতার একদিন সিনেমার অপর্না সেনের পরিচালিত পারমিতার একদিন মুভিতে একটি হিন্দু নারীর একাগ্রতাকে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, এই চলচিত্রের প্রধান চরিত্র ঋতুপর্ণা সেনের চরিত্রকে মুভির প্রথমদিকে একটি প্রাচীন ভারতের বউয়ের রুপ দিয়েছিলেন, সেখানে ঋতুপর্নার প্রথম স্বামীর সেচ্ছাচারীতা সহ্য করা ফুটিয়ে তুলেছেন, সমাজে পুরুষের সেচ্ছাচারীতা কে দেখিয়েছেন যে পুরুষরা নারীদের কিভাবে বশ করে রাখতো এমনকি বিয়ের রাতে প্রথমদিনেই কি আচরন করেছে, প্রতিরাতে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে বউয়ের সাথে আচরনের ছবিও ফুটিয়ে তুলেছেন। সন্তান হবে এজন্য আবার বউকে আদর ও করেছে। আবার প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ায় কিভাবে স্ত্রীকে দোষারোপ ও করা হয়েছে অপবাদ দেওয়া হয়ে থাকে সেই চিত্র ও ফুটে উঠেছে, আবার একটি অংশে ঋতুপর্নার দ্বিতীয় স্বামীর একটি আদর্শ চরিত্র ও ফুটিয়ে তুলেছেন যে পুরুষরা কিভাবে সমাজে নারীদের প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য এবং উৎসাহিত করেন। স্ত্রীর খেয়াল ভালোবাসা এবং কিভাবে নারী জাতিকে সম্মান করেন। অপর্না সেন এই মুভির মধ্যবর্তী সময়ে দেখিয়েছেন একজন নারী কিভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়, একজন নারী সমাজের হেও নয় বরং পুরুষের সমান অবদান রাখেন। পারমিতার একদিন মুভিতে ঋঋতুপর্ণার শাশুড়িকে নারী হয়ে কিভাবে তার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দেয় সমাজে নারীরা কিভাবে আত্মাহুতি দেয় সেটা দেখিয়েছেন। পারমিতার একদিন মুভিতে অপর্না সেন সমাজে নারীরা কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তারাও পুরুষের সমান অবদান রাখেন সেটি তুলে ধরেছেন অন্যদিকে পুরুষরাও নারীবাদী হয়ে ওঠে নারীদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে সেটি উপস্থাপন করেছেন। চলচ্চিত্র জগতে মিডিয়ার মাধ্যমেই সমাজে নারী পুরুষের একাগ্রতা সফলতা বিফলতা দেখানো হয়ে থাকে। চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনে বিরাট ভুমিকা পালন করে আসছে যেখানে সমাজের ভালো মন্দ তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন কুসংস্কার সমাজের গোড়ামী নারীদের নারী থেকে মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে চলচ্চিত্র কাজ করে যাচ্ছে। নারী পরিচাল অপর্না সেন তার মুভি গুলোতে সমাজে নারীদের ভুমিকা কিভাবে নারীরা এগিয়ে যেতে পারে এবং নারীবাদী পুরুষরা যারা নারীদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে তুলে ধরেছেন তাদের ও তুলে ধরেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×