somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আম্বিয়া

১১ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


#সদরাতুলক_গ্রাম। অন্য আর দশটি গ্রামের মতই এই গ্রামটি। মানুষের সাধাসিধে জীবনযাপনের প্রচন্ডতা, প্রকৃতির শ্যামলীময় স্নিগ্ধতা, আকাবাকা মেঠোপথ, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, আতিথিয়তা, আবেগ; চরম কুসংস্কার, গোড়ামি , চোগলামি, ভয়াবহ ঝগড়াঝাটি এই গ্রামের অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য । এক পরিবারের কান্নায় অধিকাংশ পরিবার এখানে কেদে ওঠে। এখানে একজনের সুখে দশজন হিংসে করে। এখানে প্রেম-ভালবাসা হয় অতি সন্তর্পনে । তবুও এটিই আবহমান বাংলার অনন্য গ্রাম।
এই গ্রামের মুল অংশ মুলত ভায়ারহাট বাজার পেরিয়ে বাধের রাস্তার পুবদিকটা। যুদ্ধে পাকিস্তানি অত্যাচারে গড়ে ওঠা বাধের রাস্তাটাই এই গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে কর্কটক্রান্তি রেখার মতই যা দুইভাগে ভাগ করেছে গ্রামটিকে। পশ্চিম অংশের তুলনায় পুবদিকের মানুষের জীবনবৈচিত্র‍্য বহুমাত্রিক।
বাধের রাস্তা মাড়িয়ে আকাবাকা মেঠোপথ ধরে এগুলেই হাতের বামপাশে পরবে মাঠের পাড়। আর কিছুদুর এগুলেই পাওয়া যাবে #কোলার_পাড়। এটিই এই গ্রামের মুল অংশ। দীর্ঘদিন এই কোলার পাড়ে রাস্তার ভাংগা দুই অংশ বাশের সাকো (গ্রামের লোকেরা চরাট নামেই চেনে) দিয়ে সংযোজিত। এই কোলার পুবদিকেই #আম্বিয়াদের বাড়ি। বাবা মায়ের পঞ্চম সন্তান । নিতান্তই গরীব ঘরের মেয়ে আম্বিয়া। এমনই অভাবী পরিবার যে সেখানে তিনবেলা পেট পুরে খাবার নিশ্চয়তা ছিল না। ভাত, আলুসিদ্ধ, গমের রুটি , খুদ সিদ্ধ , বাশের রুপান্তরিত কান্ড সিদ্ধ শুধু আম্বিয়া নয়, অসংখ্য প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের খাবার কিংবা খাবারের বিকল্প ছিল। গৃহস্থের ক্ষেতের আলু তুলে দেবার কিংবা ধানমাড়াই কাজের বিনিময়ে যেটুকু পেত তা দিয়েই অধিকাংশ পরিবার চলতো। ক্ষুধাই ছিল #সদরাতালুকের মুল উপজীব্য বিষয় ।
গরীবের ঘরে জন্ম নেয়া পাপ বৈকি!!! কিন্তু আম্বিয়ার জন্ম মহাপাপ। কারন সে গরীব ও অসুন্দর। পায়ে কাটা নিয়ে যেমন হাটার আনন্দ উপভোগ করা যায় না তেমনি ক্ষুধা নিয়ে পড়া চালানো অসম্ভব হয়ে পরে আম্বিয়ার জীবন। এই অসম্ভব শিক্ষা জীবনকে দুঃসাধ্য করে তোলেন #রুনু_স্যারের কঞ্চির প্রাত্যহিক পিটুনি। চতুর্থ শ্রেণিতেই শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে আম্বিয়ার।
এরপর মায়ের রান্নার কাজের সাহায্য, অন্যের বাড়িতে কাজ করা, অন্যের ক্ষেতের আলু, মরিচ তুলে দেয়াই আম্বিয়ার জীবন ।
এভাবেই কেটে গেছে পাচ বছর। এখন আম্বিয়ার বয়স ১৪ বছর। গ্রামের হিসেবে বিয়ের জন্যে উপযুক্ত সময়। বাপ ভাই উঠে পরে লেগেছে আম্বিয়ার বিয়ের জন্যে। এদিকে সামাদ ঘটক থেমে নেই । সেও লেগে গেছে বরের সন্ধানে। বিয়ের পর সুখী হবে আম্বিয়া এটাই সবার মুল চাওয়া।কিন্তু আম্বিয়ার চাওয়া একেবারেই ভিন্ন। গ্রামের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কনে দেখতে আসলে বরপক্ষ মেয়েকে টাকা-পয়সা দেয়। মেয়েকে পছন্দ হলে ৫০০-১০০০ টাকা দেয়। কিন্তু অপছন্দ হলে টাকা দেয়া তো দুরের কথা টয়লেটে যাবার কথা বলে সবাই পালাবার চেষ্টা করে। ক্ষেত্রবিশেষে পঞ্চাশ একশো দিয়ে দেয়। আম্বিয়ার চাওয়া এটাই।
" মোক দেইখব্যার আসপে। আসলেই লাভ। বরপক্ষ টাকা দিবে। এই টাকা দিয়া মুই নতুন জামা বানাইম।"- এই চাওয়াই আম্বিয়ার লক্ষ্য। বিয়ে হয়ে সুখী হওয়া তার ভাবনার সীমানায় এখনো আসেনি। এখনো প্রাথমিক সুখ উপাদান তার জীবনে আসেনি। আম্বিয়ার একেবারেই না পাওয়ার জীবনেই এই পাওয়াটা কম কিসে?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:১৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা সিক্রেট অফ ব্লগ ল্যাং মারামারি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫

ব্লগে টিকে থাকতে হলে আপনাকে মানসিক ভাবে শক্ত হতে হবে। আপনাকে অন্য কোন ব্লগার ল্যাংচি মেরে ফেলে দিবে, এরজন্যে আপনার প্রস্তুত থাকা উচিৎ। এই 'আমেরিকা বনাম ইরান' ল্যাং মারা খাওয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামাবাদে জুলাই শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩



পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপা আর ফিরে আসবে না......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ

(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×