
দুই দিন আগে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্লগার ভেঙ্গা নামক একজন জ্যোতিষীর নামে পোস্ট করে শিরোনাম করেছেন যে, পৃথিবী বুঝি তিন হাজার সালে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যদি পোস্টটি ব্যঙ্গাত্মক হয়ে থাকে ভালো। আর তা নাহলে, বলতে হবে, উক্ত ব্লগার ভুল পথে আছেন। কারণ, স্থল ভাগে এবং সমুদ্রে থাকা-কালীন সময়ে দিক-নির্দেশনা লাভ করা ছাড়া গ্রহ-নক্ষত্রের আমাদের আর কিছুই দিতে পারে না।
অনেক আগে থেকেই, গ্রহ-নক্ষত্রের আজগুবী তথ্য হাজির করে গণকরা মানুষদের বিভ্রান্ত করে চলেছে। বিজ্ঞানের বিচারে এগুলোর কোনরূপ ভিত্তি নেই। মানুষের কোন সময় কি হয়ে যায় তা বিজ্ঞানই বলতে পারে না, সেখানে গণকরা কি বলবে! আপনি যদি সত্যিই মনে করেন যে, কোন সময়টায় কোন কাজ করলে তা আপনার জন্য ভালো বয়ে নিয়ে আসবে আর কোন সময়টা খারাপের দিকে ধাবিত হবে তা জ্যোতিষীরা আগে থেকেই বলে দিতে পারবে, তাহলে এরচেয়ে বোকামীপূর্ণ ভাবনা আর হতে পারে না। কেন আমি এরকম বলছি?
প্রথমতঃ গণকরা গ্রহ-নক্ষত্র গুনে অনুমান করে কথা বলে। যারা অনুমান করে, তারা যাদুকরের মতো। আর, যাদুকর আর খোদাদ্রোহীরা একই পথের পথিক। উভয়ই, ধ্বংসপ্রাপ্ত।
দ্বিতীয়তঃ গণকরা এরকম ভুল ধারণা পোষণ করে যে, ভবিষ্যত জানার মাধ্যমে তারা মানুষের ভালো-মন্দ সকল কিছু বলে দিতে পারে। এতে সে এতোটাই মনযোগী হয়ে পড়ে যে, সে নিজেকে অনেক বড় মনে করতে থাকে। সে কখনোই আর নিজেকে সৃষ্টিকর্তার আদেশাধীন কোন ব্যক্তিরুপে চিন্তা করতে পারে না। ফলে, তার ইমান আর ঠিক থাকে না। সে হয়ে উঠে একজন খোদাদ্রোহী।
তৃতীয়তঃ কোন ভাবে যদি সেই জ্যোতিষীর গণনা সত্যি হয়ে যায়, তবে সে জ্যোতিষশাস্ত্র জানার ফলেই তা করে ফেলেছে বলে ধারণা করতে থাকে। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি এরকম গণনায় লাভবান হয়, সে বা তারাও বিপথে চলে যায়। সেইসব ব্যক্তি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে জ্যোতিষীর গুণ-কীর্তন করতে থাকে।
তাই, সাধু সবাধান!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




