somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

শ্রমিক, কৃষক আর বুদ্ধিজীবীদের প্রাপ্য সম্মান দিলে দেশেরই লাভ

২২ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের মতো রাষ্ট্রে শ্রমিক, কৃষক আর একজন বুদ্ধিজীবী একটি সাবানের যে মূল্য পরিশোধ করেন আর একজন ধনী ব্যবসায়ী সেই সাবানের জন্যে ঐ একই মূল্য পরিশোধ করেন, তা কি খুব অবাক করা বিষয় নয়!

এটা না হয়ে যদি এমন যদি হতো, প্রত্যেক আয়-শ্রেণীর মানুষদের জন্যে আলাদা মূল্য তালিকা থাকবে প্রতিটি দোকানে, তাহলে শ্রমিক, কৃষক আর বুদ্ধিজীবীরা সমাজে এক বিশেষ স্থান পেতেন না? আমাদের দেশে এক্ষণ যেভাবে একজন মানুষকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা একটু পাল্টে দিয়ে সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, এখন থেকে শ্রমিক, কৃষক আর বুদ্ধিজীবীরাই হবেন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার প্রথম দাবীদার!

সেই মোতাবেক সকল পণ্যের মূল্য, যাতায়াত ভাড়া, খাবারের দাম সবই এই তিন ধরণের মানুষদের জন্যে আলাদা করে দেওয়া হলো, তখন তো রাষ্ট্রে শরীর এবং বুদ্ধিভিত্তিক কর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ারই কথা।


এটা কিভাবে করা যাবে?

প্রথমেই একটি জরিপ চালিয়ে এই তিন শ্রেণী'র ন্যাশনাল আই,ডি-তে উল্লেখ করে দেওয়া হবে 'বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত' নাগরিক হিসেবে। যেখানেই তা দেখানো হবে, তাঁরা রাষ্ট্রের অন্যান্য নাগরিকদের চেয়ে বেশি সম্মান ও সুবিধা পাবেন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই তিন শ্রেণী'র মানুষদের জন্যে বিশেষ কোয়ালিটি'র পণ্য অথবা কোন পণ্যের জন্যে বিশেষ দাম রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে। যেসব প্রতিষ্ঠান এভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করবেন, তাঁদের জন্যে থাকবে বিশেষ ট্যাক্স রেয়াতের সুবিধা।


এই সুবিধা কেন দেওয়া প্রয়োজন?

মনে রাখতে হবে যে, শ্রমিক আর কৃষকেরা একটি রাষ্ট্রের প্রাণ। তাঁরা ঠিক ভাবে বাঁচলেই, একটি দেশের সামগ্রিক অবস্থা'র উন্নতি ঘটবে। যাদের দেশের উন্নয়নে কোন ভূমিকা নেই, তাদের রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার কোন মানে নেই।

যে সমাজ শ্রমিক, কৃষক আর বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয় না, এঁদের উপর বিশাল ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেয়, সেই সমাজ একটি জাতির শত্রু। অথচ, আমাদের দেশে দেখা যায়, ১২ ঘণ্টা কাজ করে একজন দিন-মজুর যে আয় করেন, তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি আয় করেন একজন কম শ্রমের নাগরিক।


পরিশেষঃ
এই কথাগুলো সরকার এবং ব্যবসায়ী সবাইকেই মনে রাখতে হবে যে, পণ্য বিপনন এবং বিক্রির অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা যেমন একটি দেশের জন্যে মঙ্গল নয়, তেমনি উচ্চ হারে ট্যাক্স আরোপও একটি জাতির জন্যে কোন ক্রমেই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। একটি দেশের সম্পদকে একটি নির্দিষ্ট ক্লাসের হাতে কুক্ষিগত হতে দেওয়া জাতির জন্যে খুবই বিপদজনক। সরকারকে এই দিকে খুবই মনোযোগের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:১৯
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×