somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

'বাঁচাও, কমান্ডো' - ধর্ষণ ঠেকাতে একটি মোবাইলফোন এপ

২৯ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেয়েটাকে চারদিকে দিয়ে ঘিরে ধরেছে একদল হায়েনারুপী মানুষ। টেনে-হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে ঝোপের ভিতরে। মেয়েটি কি করবে বুঝতে পারছে না। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার প্রচন্ড ইচ্ছায় মেয়েটি হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠলো- 'বাঁচাও!'

মুহুর্তে তার হাত থেকে ছিটকে পড়া মোবাইলফোনটির একটি বিশেষ এপ সেই চিৎকারটি সনাক্ত করতে পারলো। সজীব হয়ে উঠলো মোবাইলফোনের স্ক্রীন। এপটি থেকে একটি বিশেষ সিগন্যাল চলে গেলো সবচেয়ে কাছের মোবাইল টাওয়ারে। সেখান থেকে মূহুর্তে জেলার 'কমান্ডো এগেইন্সট রেপ (কার)' বাহিনীতে।

এই বাহিনীটি সম্প্রতি গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার। ধর্ষন ঠেকাতে সেনা-নৌ-বিমান আর পুলিশ বাহিনী থেকে নির্বাচিত বিশেষ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এটি। ৬৪ জেলায় রয়েছে ৬৪টি দল এই কাজে জড়িত। তাঁদেরকে দেওয়া হয়েছে ৬৪টি এপাচি হেলিকপ্টার যা মাত্র ১ মিনিটের মধ্যে জেলার যে কোন প্রান্তে যেতে পারে, তা যতই দূর্গম হোম না কেন।

'কমান্ডো এগেইন্সট রেপ (কোর)'-এর প্রধান ক্যাপ্টেন সাজিদের রুমের ইমার্জেন্সী বাতিগুলো সশব্দে বেজে উঠলো। পুরো অফিসে পাগলাঘণ্টী বাজছে। কোথাও ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে! চঞ্চল হয়ে উঠলো সাজিদের চোখ। তার সামনের ইলেক্ট্রনিক ম্যাপের একটি এলাকা নির্দেশ করে লাল বাতি জ্বলছে। ঐখানেই ঘটনা ঘটছে। খুব দ্রুত হিসাব করলেন সাজিদ। এপাচি দিয়ে যেতে ৪০ সেকেন্ড লাগবে। আর যন্ত্র ফড়িংটিকে চালু করে আকাশে উঠাতে লাগবে ১ মিনিট। এই ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব?

নিজের নাইন এম এম পিস্তলটিকে হলস্টারে ভরতে ভরতে রুম থেকে দৌড়ে বেরুলেন সাজিদ। ইতিমধ্যে সার্জেন্ট অতনু'র নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি ছোট্ট দল তাঁর অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে যেতে যেতে সাজিদ জানালা দিয়ে দেখতে পেলেন হেলিকপ্টারের পাখাগুলো ঘুরা শুরু করেছে। যখন তাঁরা তাতে চড়ে বসলেন, ১ মিনিটও পার হয়নি। মুহুর্তে আকাশে উঠে গেলো এপাচি।

হেলিকপ্টারে বসেই হাতের জিপিএস সিগনাল মেশিনে ট্রেস করলেন জায়গাটা কোথায়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২-এর পাঠানো ছবি স্ক্রিনে ভেসে উঠলো। দুর্বৃত্তরা ৬ জন। একটি শ্যামলা মেয়েকে মাটিতে শুইয়ে চারজন চার হাত পা ধরে রেখেছে। আরেকজন মেয়েটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

দাঁতে দাঁত চাপলেন সাজিদ। একটি সবুর করো, বোন। মনে মনে বললেন ক্যাপ্টেন। ঘাড়ে একটি হাত পড়তেই পিছনে তাকালেন তিনি। কঠিন মুখে অতনু তাঁর দিকে চেয়ে আছেন।

'আমরা আর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্পটে পৌঁছে যাবো, লিডার।'

আকাশ ভেদ করে ক্রাইম স্পটের দিকে ধেয়ে চললো ছোট্ট সেই দলটি।

এরপর? এরপর কি হলো? তাঁরা কি বাঁচাতে পেরেছিলেন মেয়েটির সম্ভ্রম?

আমার কেন যেন বার বার মনে হয়, আমার কল্পনার সেই ছোট্ট দলটি পেরেছিলো সেই জায়গায় পৌঁছাতে। পেরেছিলো সেই বোনটির সম্ভ্রম বাঁচাতে। এরপরে, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলো সেই হায়েনারুপী মানুষগুলোকে।

আমার আরো মনে হয়, বন্ধু কোন দেশের সহযোগিতায় এমন কোন এন,এল,পি'র সাহায্যে তৈরী মোবাইল এপ এবং কমান্ডো দল খুব শীঘ্রই গঠন করবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সেসব দেশ যেখানে দিনে ৩টি শিশু নির্যাতিত হয়।

সেই দিন বদলের অপেক্ষাতেই আমি।







সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:০৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×