
মৃতদের সাথে সাক্ষাত লাভ করা যায় কি? তাঁদের কাছে কিছু চাওয়া ইসলাম সমর্থন করে কি? চাওয়া গেলে সেইটা কিভাবে সম্ভব? কিছু ব্লগার অহেতুক ব্লগে এসে শিরক শিরক করছেন তাদের ভুল ভাঙ্গানোর জন্যেই আজকে লিখতে বসেছি।
প্রথমেই বলে নিচ্ছি, মৃতদের আত্মার সাথে সাক্ষাত লাভ করা যায়। মৃত ব্যক্তি অনেক অজানা বিষয় জীবিত ব্যক্তিকে জানাতে পারেন। জীবিতরা এমন সব জিনিস মৃতদের কাছ থেকে পেতে পারেন যা সেই মৃৎ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জানে না। এরই সম্পর্কে অসংখ্য প্রমাণাদি আছে।
এই সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে-
''আল্লাহ তা'আলা মৃত্যুর সময় আত্মাসমূহ কবজ করেন এবং নিদ্রার সময় ঐ আত্মাগুলোও কবজ করে নেন যেগুলো এখনও মৃত্যুবরণ করেনি। অতঃপর যার ওপর মৃত্যুর ফরমান জারী করেন, তাকে আর ফিরিয়ে দেন না। আর অন্যান্য রুহগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যে ছেড়ে দেন।'' (সূরা যুমার : আয়াত ৪২)
এই আয়াতের তাফসিরে সুদ্দী বলেন- আল্লাহ তা'আলা ঘুমন্ত অবস্থায়ও আত্মা কবজ করে থাকেন। অতঃপর জীবিত এবং মৃত ব্যক্তিদের আত্মাগুলো সাক্ষাতে একে অন্যকে চিনতে পারে, এবং পরস্পর আলোচনায় লিপ্ত হয়। অতঃপর জীবিত আত্মাগুলোকে তার দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, মৃত ব্যক্তিদের আত্মা যখন আপন দেহে ফিরে যেতে চায়, তাকে বাধা দেওয়া হয়।
এই আয়াত এবং তাফসির থেকে এটা স্পষ্ট যে, জীবিত এবং মৃতদের আত্মাদের মধ্যে সাক্ষাত সম্ভব। এবারে কিছু মনীষী'র উদাহরণ দিবো-
স্বপ্নযোগে হযরত ওমর (রা)ঃ
আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা) বলেনঃ ''আমি হযরত ওমর (রা)-কে স্বপ্নে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতাম। অবশেষে আনুমানিক তাঁর শাহাদতের এক বছর পর তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম। আমি দেখতে পেলাম, তিনি তাঁর ঘর্মাক্ত কপাল পরিষ্কার করছেন আর বলছেন- আমি অবসর পেয়েছি। যদি পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীইন আমাকে রক্ষা না করতেন, তাহলে, আমার ছাদ বিস্ফোরিত হয়ে ধুলিস্যাত হয়ে যেতো। আমি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহে মুক্তি পেয়েছি, অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যেতাম।''
স্বপ্নযোগে হযরত ওয়ায়েস করণী (রহ)ঃ
আবু ইয়া'কুব কারী একবার স্বপ্নে এক গৌরবর্ণ ও দীর্ঘদেহী এক ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন- এই ব্যক্তি কে? লোকেরা বললো- এই ব্যক্তি ওয়ায়েস করণী। আবু ইয়া'কুব কারী তাঁকে অনুসরণ করতে থাকলেন এবং বললেন- 'আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' ওয়ায়েস করণী বললেন - ''আল্লাহ'র আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর রহমতের অনুসন্ধান করো। আর গুনাহসমূহের মধ্যে রয়েছে তাঁর শাস্তি, কাজেই উহা পরিত্যাগ করো। এর মধ্যে আল্লাহ থেকে নিরাশ হইয়ো না।'' এই বলে তিনি চলে গেলেন।
এক বৃদ্ধার গুপ্তধনের ঘটনাঃ
এক ধার্মিক বৃদ্ধা মহিলা মারা গেলেন। সেই মহিলার কাছে আরেকটি মহিলার সাতটি স্বর্ণমুদ্রা গচ্ছিত ছিল। দ্বিতীয় মহিলাটি এতে মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে আব্দুল্লাহর কাছে এসে ঘটনাটি বলে চলে গেলো। পরের দিন আব্দুল্লাহর সাথে আবার দেখা হলে, আব্দুল্লাহ মহিলাটিকে বললেন- ''বিরদ্ধা আমাকে বলেছে তার ছাদে সাতটি কাঠ আছে, সপ্তম কাঠে দীনারগুলো পশমি কাপড়ে জড়ানো, ওখান থেকে নিয়ে নাও।'' অতঃপর দীনারগুলো সেখানেই পাওয়া গেলো!
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ)-এর কাছ থেকে নির্দেশ লাভঃ
যারা শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া (র)-কে স্বীকৃতি দিতো না এমন কিছু লোক আল্লামা ইবনুল কায়্যিম জাওযিয়্যাহ (রহ)-কে বলেছে- ''আমরা তাঁকে স্বপ্নে দেখেছি এবং উত্তরাধিকার বণ্টনের নীতিমালা সম্পর্কিত কতিপয় জটিল বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তিনি এগুলোর সঠিক সমাধান বলে দিয়েছেন।''
এভাবেই, মৃতদের নিকট থেকে অনেক উপদেশ পাওয়া যায়। আর, এটা মুসলমানদের বড় বড় জ্ঞানীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে এগুলো বর্ণনা করেছেন। আশা করি, যারা শিরক শিরক করেন, তাদের ভুল ভাঙবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




