somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

আমাদের সবাইকে শুভ চিন্তা করতে হবে

০৬ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সমাজে অনেক ধরণের মানুষ বাস করেন। সবার বুদ্ধি আর জ্ঞান কি সমান? তা সমান নয়। সেজন্যেই, একজন জ্ঞানবান মানুষের সাবধানে চলা জরুরী। সূফীরা জ্ঞানী মানুষ হিসেবে পরিচিত বহু কাল ধরেই।

সূফী শব্দের অর্থঃ

'সওফ' শব্দ থেকে সুফী শব্দের উৎপত্তি। সওফ শব্দের অর্থ 'পশমী পোশাক'। যদিও, সব সূফীই পশমী পোশাক পরিধান করেন না।

যেভাবে সূফী শব্দটির উৎপত্তিঃ

তাসাউফের উৎপত্তি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সময় থেকেই। তবে, অনেক দিন পর্যন্ত এর ব্যবহার খুব সীমিত আকারে ছিলো। মহানবী (সা)-এর সময়ে 'সাহাবা' ছাড়া আর কোন উপাধী চালু ছিলো না। সাহাবাদের পরে 'তাবেইন' এবং 'তাবে-তাবেইন' উপাধী চালু হয়। এরপরে, বুযুর্গানে দ্বীনদের 'আবিদ' এবং 'জাহিদ' নামে অভিহিত করা হতো। সেই সময়ে যখন সব দল-মতের মানুষেরা 'আবিদ' এবং 'জাহিদ' শব্দ দু'টি ব্যবহার করতে থাকে, তখন, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়েতের মানুষেরা নিজেদের জ্ঞানী ব্যক্তিদের 'সূফী' নামে অভিহিত করেন। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম সূফী উপাধীতে ভূষিত হোন আবু হাশিম (র)।

সূফী কারা?ঃ

তাসাউফের ব্যখ্যা করতে গিয়ে, হযরত যুন্নুন মিসরী (র) বলেন; ''সূফী সেই ব্যক্তি যিনি দুনিয়ার সব কিছু পরিত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকেই ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন।'' হযরত জুনায়েদ বোগদাদী (র) বলেন- ''যার জীবন-মরণ শুধু মাত্র আল্লাহর জন্যে উৎসর্গিত- তিনিই সুফী।'' তবে, এটা রাখা জরুরী যে- বৈরাগ্য, দীনতা এবং তাসাউফ এক জিনিস নয়।

শরিয়ত এবং তাসাউফের মাঝে পার্থক্যঃ

শরিয়তের মতো তাসাউফেও 'জ্ঞান' ও 'কাজ' রয়েছে। তবে পার্থক্য এই যে, শরিয়তে আগে জ্ঞান লাভ করতে হয় পরে কাজ। আর, তাসাউফের ক্ষেত্রে, আগে আমল বা কাজ করার পরে জ্ঞান লাভ হয়।

সব জ্ঞান সবার জন্যে নয়ঃ

হযরত যয়নুল আবেদীন (রাঃ ) বলেছেন যে- ''আমি আমার ইলমের ঐশ্বর্যসমূহ গোপন রাখি, যাতে অজ্ঞ লোক তার দ্বারা ফিতনায় পতিত হতে না পারে।'' অন্য দিকে আবূ হাসান (র) বলেছেন- ''আয় পরওয়ারদিগার! যদি ইলমের ঐশ্বর্য আমি প্রকাশ করে দেই, তাহলে, আমাকে বলা হবে যে, আমি মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছি। আর, মুসলমানরা আমাকে হত্যা করা জায়েজ বলে গণ্য করে ফেলবে। তাছাড়া, তখন আমি অতি-উত্তম ভাবে যা-ই উপস্থাপন করবো, তাতেও মন্দ খুজে বের করা হবে।''

মনে আলোর আবির্ভাবে যে সব শুভ চিন্তা আসেঃ

১) মনকে আলোকময় করতে হয় তিন ভাবে- দুনিয়ার প্রতি উদাসীনতা সৃষ্টি করে, জান্নাত বা বেহেশতের প্রতি আগ্রহ তৈরী করে এবং মৃত্যু আসার আগেই মৃত্যুর জনে তৈরী হয়ে।

২) ক্ষমা পাওয়ার পথে চারটি বাধা আছে- দুনিয়া, সৃষ্টিজগত, শয়তান এবং নফস।

৩) একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে মহানবী (সা)-এর মর্যাদা যতটুকু পার্থক্য, একজন সাধারণ প্রার্থনাকারী থেকে একজন জ্ঞানী'র সম্মান ততটুকু উঁচু।

৪) একজন জ্ঞানী লোকের দিকে তাকিয়ে থাকলেও অনেক উপকার হয়।

৫) জ্ঞানীরা বেহেশতের সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাপূর্ণ মানুষ হবেন।

৬) এমন ভাবে জ্ঞান হাসিল করতে হবে যাতে তা ইবাদতের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়ায়। অন্যদিকে, এমন ভাবে ইবাদত করতে হবে যাতে তা জ্ঞান আহোরনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

৭) জ্ঞান এবং কাজের মধ্যে জ্ঞানকে আগে রাখতে হবে। কাজ তো জ্ঞানের অনুসরণকারী!

৮) যে জ্ঞান ও কাজ দ্বারা কোন উপকার হয় না তা থেকে দূরে থাকতে হবে।

৯) জ্ঞান তিন প্রকার- আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে জ্ঞান, গোপন জ্ঞান এবং শরীয়তের জ্ঞান।

১০) আল্লাহর মারেফত লাভ করার আগেই আমি মৃত্যু চাই না।

১১) আমি এমন জ্ঞানীদের মাঝে নিজেকে দেখতে চাই না যার ফলে আমি আলিম এবং বোকাদের সাথে ঝগড়া করবো। আমি তাদের মতোও হতে চাই না যারা নিজের প্রতি মানুষদের আকর্ষন করার জন্যে জ্ঞান লাভ করতে চায়।

১২) পাপ কাজ করলে সবার আগে ক্ষমা চাওয়া সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। এটা না চাওয়া পর্যন্ত অন্যান্য সকল ইবাদতই নফল।

১৩) মূর্খ লোকরাই দোযখের আগুনে বেশি থাকবে।



সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×