
আমাদের নিজেদের অনেকেরই পাসপোর্ট নিতে গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় টাকা দিতে হয়েছে। ভূমি অফিসেও ছোটখাটো দূর্নীতির সম্মুখীন হয়েছেন, হয়তো। কিন্তু, বড় আকারের দূর্নীতি চাক্ষুষের অভিজ্ঞতা? আমি আজ নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলবো। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে হওয়া বড় আকারের দূর্নীতির কিছু প্রমাণ আমি জোগাড় করেছিলাম।
কয়েক মাস আগে, আমার কাছে একদিন আমার এক বন্ধুর পরিচিত জাতীয় দলের উপদেষ্টা যোগাযোগ করলেন। বাড়ি তার পাবনা। কি ব্যাপার? আপনারা সবাই জানেন যে, আমি ব্যবসা করি। সেই সূত্রেই তার সাথে আমার একবার দেখা হয়েছিলো, কয়েক বছর আগে। এবারে তিনি আমাকে বললেন, একটা প্রজেক্টের ব্যাপারে কথা বলতে চান। তিনি আমাকে হ্যোয়াটস এপে যোগাযোগ করতে বললেন। আমি তাকে ফোন করলে, তিনি সাক্ষাতে জানাতে চাইলেন। আমি এপোয়েন্টমেন্ট দিলাম।
নির্দিষ্ট দিনে তিনি জানালেন যে, তার কাছে জাজিরা পয়েন্টে ড্রেজিং-এর একটি প্রজেক্ট আছে। তাকে যেন একটি ডেজিং কোম্পানি জোগাড় করে দেই। কয়েকশো কোটি টাকার কাজ। যোগাড় করে দিতে পারলে আমাকে কমিশন দিবেন। বুঝতে পারলাম এখানে কোন ঘাপলা আছে। মাথায় রক্ত ছরে গেলো। আমাকে অসৎ কাজে সহযোগিতা করতে বলছে! প্রথমে ভাবলাম না করে দেই। পরে ভাবলাম, একটা প্রমাণ রাখা দরকার। ভবিষ্যতে কোন উপায় বের হলে, তথ্য দিয়ে গোয়েন্দা বাহিনীকে সাহায্য করা যাবে। আমি তাকে বললাম- আমি রাজি।
এরপরে, কয়েক দিন গেলো। তিনি আমাকে বললেন যে তার কিছু টাকা দরকার। আমি সাহায্য করতে পারবো কি না। আমি তাকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে দিলাম। প্রথমবার ক্যাশ, দ্বিতীয়বার বিকাশের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, একটি স্বনামধন্য ড্রেজিং কোম্পানির কাছে নিয়ে গেলাম।
সেই ড্রেজিং কোম্পানীর চীফ অপারেটিং অফিসারের কাছে আমার সামনেই ঘুষ চাওয়া হলো, খুলনা শিপ ইয়ার্ডের একজন বড় কর্মকর্তার নামে। ড্রেজিং কোম্পানিও মৌখিক ভাবে রাজি হওয়ে গেলো।
এরপর থেকে জাতীয় পার্টির সেই মানুষটা হাপিশ!!! আমার সাথে আর দেখা করছেন না!!!
তবে, যাই হোক, বাংলাদেশে যে বড় আকারের দূর্নীতি হোয়, তা আমার কাছে প্রমাণ হওয়ে গেলো। এতও দিন শুনে এসেছিলাম। এখন নিজে জানি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০২২ রাত ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


