somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিটিভির আর্কাইভে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখা

১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমা ভিক্ষা করবে। হিন্দুস্থানের সাথে মিলে গাদ্দার শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র চূড়ান্তভাবে নস্যাৎ হয়েছে; ইসলামপসন্দ বাঙালিরাই রুখে দিয়েছে। মুজিবুর রহমানের পাশে দাঁড়ায়নি বাঙালি। জঙ্গে মুসলমানদের জয়, পাক সার জমিনের জয় অবশ্যম্ভাবী। শীঘ্রই চূড়ান্ত সুখবর আসছে। যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান।’ পিটিভির আর্কাইভে দেখেছিলাম। ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এর দুদিন আগের খবর এগুলো, জনৈকা সংবাদ পাঠিকা পড়ছিলো। পড়ুক। অসুবিধা নেই। সে যুদ্ধ জয়ের দাবি করতেই পারে। যুদ্ধ মানেই যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। আশা ছাড়লেই শেষ। কিন্তু সমস্যা হলো, পুরো যুদ্ধটাকে এরা সম্পূর্ণভাবে হিন্দু মুসলিম রঙ দিয়েছিলো। যুদ্ধ যেন দুটো ধর্মের মাঝে হচ্ছে। একদিকে পাকিস্তানের বীর মুসলিম সেনা, অপরদিকে ভারতের নাপাক কাফির সেনা। মুসলমানদের সাথে কিছুতেই পারবে না হিন্দুরা। পাকিস্তানি মুসলমানের একেকটা বীর সেনা, হিন্দুস্তানের দশটা ডরপোক সেনার সমান। ফলাফল এসব খবর পাঠের দুদিন পরই পাজামা খুলে ৯৩০০০+ সৈন্যের রেসকোর্স ময়দানে হিন্দুস্তানের সামনে আত্মসমর্পণ। আগের লেখায় মন্তব্যে একজন খুব মিডিয়া মিডিয়া করছিলো দেখে ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো। পিটিভির আর্কাইভে দেখা, খবর পাঠিকার সুর করে উর্দুতে পড়া; মুক্তিযুদ্ধ ৭১। বাস্তবতা থেকে বহুদূরে মিথ্যা কাল্পনিক এক ধর্মীয় ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে দুদ্দাড় উলম্ফন পিটিভির। একাত্তর সাতচল্লিশের হিন্দু মুসলিম সংঘাত ছিলো না। এখানে বাঙালিরাও মুসলিম। পিটিভির খবরে সবকিছু বাদ, শুধু হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ। এটা আসলে এক ধরনের ব্যবসায়িক পলিসি। যে খবর পাবলিক খায়, আনন্দ পায়, প্রচার বেশি, সে খবরই প্রকাশ করো। বাংলাদেশই শুধু নয় সারা বিশ্বের মিডিয়ার অল্পবিস্তর এ প্রবণতা আছে। একাত্তরে করেছিলো পিটিভি। পাকিস্তানের জনগণ যা শুনতে চায়, আনন্দ পায়, উল্লাস করে; সেটাই জনগণকে গেলানো। ১৪ই ডিসেম্বরের খবরেও পাকিস্তানের নিশ্চিত বিজয়ের কথা বলা হয়েছিলো। একের পর এক কাফির হিন্দু সেনার মৃত্যু। মুসলিম পাকসেনার বীরদর্পে এগিয়ে চলা। চূড়ান্ত সুখবর আসছে। হিন্দুস্তান হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমাভিক্ষা করতে যাচ্ছে। জয়ের দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান। তারপর ১৬ই ডিসেম্বর ৯৩০০০+ সৈন্য নিয়ে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুধর্মের কর্মকর্তাদের সামনে রেসকোর্সে অসহায় আত্মসমর্পণ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম। সপ্তাহান্তে বন্দী পাকসেনার বিবিদের সন্তান নিয়ে ভুট্টোর বাসভবনের সামনে মাতম; দলে দলে বুক চাপড়ে, চুড়ি ভেঙে প্রদর্শন। ‘ভুট্টো, হায় হায়! ভুট্টো, আমাদের স্বামীদের ফিরিয়ে আনো হিন্দুস্তান থেকে।’ সে একই কাজ আজ বাংলাদেশের মিডিয়া করছে। কাল্পনিক ইহুদি মুসলিম যুদ্ধ ফেঁদে বসেছে ভিউ বাণিজ্যের জন্য। ইসরায়েলের ইহুদি সেনারা নাস্তানাবুদ হচ্ছে হামাস হিজবুল্লা আনসারুল্লা’র বীর মুসলিম সেনাদের কাছে! ইসরায়েল শেষ! ইহুদিরা শেষ! হা হা হা। সত্য তথ্য বাস্তবতা থেকে বহুদূর। ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে উল্লু বানানো হচ্ছে আর কিছু নয়। কিন্তু এর পরিণাম ভয়ঙ্কর। ধর্মান্ধ অসভ্য উগ্র বর্বর সমাজ জাতি হয়ে গড়ে উঠছি আমরা। যেমন হয়েছে পাকিরা। আমাদের অবস্থা আসলে পাকিদের থেকেও খারাপ হবে!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×