somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

আরিশা এখন কেমন আছে?

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেয়েটা আমাকে অনেক পছন্দ করতো। পছন্দ করতো না বলে 'ভালোবাসতো' শব্দটা ব্যবহার করলেও মিথ্যা কথা বলা হবে না। আমার চেয়ে মেয়েটা দুই বছরের ছোট হবে। ভার্সিটিতে আমি তখন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সাংস্কৃতিক আর সেবামূলক সংগঠন করে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলাম। হঠাৎ একদিন লক্ষ্য করলাম, আমি যে কোন অনুষ্ঠানে গেলে একটি পরিচিত মুখ আমার পিছু ধাওয়া করতো। সেই মুখটি আরিশা'র।

নিজের হাতে গড়া একটি সেবামূলক সংগঠন ছিলো- 'অনুসন্ধান'। সারা দেশের মতো সিলেটেও তখন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিলো। ডেঙ্গু রোগীদের জন্যে এতো এতো ফ্রেশ ব্লাড জোগাড় করতে পারছিলো না হাসপাতালগুলো। ঠিক তখন, আমরা কয়েকজন মিলে সিলেটের রোগীদের ফ্রেশ ব্লাড জোগাড় করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ভলান্টিয়ার হিসবে রক্ত দিতে আমাদের ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের উদ্বুদ্ধ করতে থাকি। আমাদের এই উদ্যোগ বেশ সাড়া ফেলেছিল তখন।

একদিন, ক্যাম্পাসে একটি রক্তদান কর্মসূচিতে কাজ করছি। হঠাৎ, সামনে এসে উপস্থিত হলো আরিশা। প্রায় আমার সমান লম্বা, ছিপছিপে গড়নের মায়াকাড়া মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আমি হেসে দিয়েছিলাম। দেখলাম, সেও মুচকি হাসছে। আমি উঠে দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানালাম। সে হেঁটে আমার খুব কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো। আমি তার নিঃশ্বাসের আওয়াজ পাচ্ছি। আরিশা সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। সেই চোখে কোন সংকোচ নেই!

'আমি কি আপনার সাথে একটু একা কথা বলতে পারি?' আরিশা বললো।

আমার সহপাঠীরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ কেউ মুচকি হাসছে। আমি এক পা পিছু সরলাম। ওমা! আরিশা দেখি এক পা এগিয়ে এলো! এবারে আমার প্রায় বুক ছুই ছুই! আমি প্রমাদ গুনলাম। কিছু না বলে আরেক পা পিছু হটলাম। মাটির দিকে তাকিয়ে আছি। মেয়েটার সাহস দেখে অবাক হচ্ছিলাম। আরিশা আবারও এক পা এগিয়ে এলো!

আমি তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ঘুরে অন্য রুমে চলে গেলাম। আরিশা এরপরে আর কোন দিন আমার সামনে আসেনি। পরে আমি যত দিন ক্যাম্পাসে ছিলাম, আমার কোন অনুষ্ঠানে তাকে আর উপস্থিত থাকতে দেখিনি। শুনেছি, আরিশা অনার্স পাশ করে অনেক বড় একটি চাকরী পেয়ে বিদেশে চলে গিয়েছে।

মিষ্টি দস্যি মেয়েটা যেখানে থাকুক, ভালো থাকুক এই কামনা করি।


ছবিঃ অন্তর্জাল





সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ১১:৪০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকতারা

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১



তুমি আমাকে যে জায়গায় রেখে গিয়েছিলে, সেই জায়গাটা ধীরে ধীরে একটা ভূগোল হয়ে গেছে। সেখানে সময়ের নিজস্ব কোনো ঘড়ি নেই, ঋতুর আলাদা নাম নেই, কেবল স্থিরতা আছে, যেন দুপুরবেলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×