somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কেন একজন শিক্ষক হলাম?

১১ ই মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি বাজারে গিয়েছিলাম। হঠাৎ, দেখলাম, একজন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। মানুষটাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছিলো। আমি একটু দ্রুত হেঁটে তাঁর সামনে যেতেই তাঁকে চিনতে পারলাম। তিনি আমার প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক!

আমি মানুষটার পা ধরে সালাম করে আমার পরিচয় জানাতেই তিনি আমাকে বুকে জরিয়ে ধরলেন। তারপরে, বললেন- "আমি আসলে তোমার চেহারা মনে করতে পারছি না! তুমি কেমন আছো? কি করছো এখন?"

আমি তাঁকে জানালাম, ", স্যার, আমি এখন শিক্ষকতা করি। আপনিই আমার অনুপ্রেরণা!"

তিনি হাসলেন। বললেন- "আমার কোন কাজটি তামকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে শিক্ষক হত্যে?"

আমি বললাম, "স্যার, আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, আমার এক বন্ধু একটি দামী ঘড়ি নিয়ে এসছিলো ক্লাসে। ঘড়িটি দেখে আমার খুব লোভ হোয়। টিফিন টাইমে আমি তাঁর ব্যাগ থেকে ঘড়িটি চুরি করি।

পরবর্তীতে, আমার বন্ধু যখন আপনার কাছে তাঁর ঘড়ি হাঁরিয়ে যাওয়ার কথা নালিশ করে, আপনি ক্লাসের দরজা বন্ধ করে আমাদের সবাইকে ঘড়ি ফেরত দিতে বলেছিলেন। তারপরও, আমি সেই ঘড়ি ফেরত দেই নাই।

তখন আপনি আমাদের সবাইকে চোখ বন্ধ করতে বলে আমাদের সবার পকেট একে একে সার্চ করেন। এক পর্যায়ে, আমার পকেটে ঘড়িটি পেয়ে আপনি আমার বন্ধুকে সেই ঘড়ি ফেরত দেন। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয়, সেদিন আপনি আমাকে কিচ্ছু বলেন নাই! আমার নামটিও কাউকে বলে দেন নাই!

এরপরে থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, আমি বড় হয়ে শিক্ষক হবো। আপনার সেই দিনটার কথা মনে আছে, স্যার? এবারে নিশ্চয় আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?"


আমার কথা শুনে আমার স্যার মৃদু হাসলেন। তারপরে, বললেন, "আমার সেই দিনটার কথা মনে আছে, বাবা! কিন্তু, তোমাকে আমি এখনো চিনতে পারছি না, কারণ, যেদিন তোমার পকেটে আমি হাত দিয়ে ওটা খুঁজে পাই, তখন তোমাদের মতো আমার চোখও বন্ধ ছিলো!"
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০২৪ রাত ৮:২৪
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

যতবার শেষ, ততবার শুরু

লিখেছেন রাজসোহান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১



তেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মা মারা যান। জীবনস্মৃতিতে তিনি সেই রাতের কথা লিখেছেন। "যে রাত্রীতে তাঁহার মৃত্যু হয় আমরা তখন ঘুমাইতে ছিলাম। তখন কত রাত্রি জানি না, একজন পুরাতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×