somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সেইসব শিশু - কিশোরেরা যারা যুগে যুগে আবির্ভূত হয়ে মানব জাতির ইতিহাস বদলে দিয়েছেন

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


..
নাহিদ, সারজিস, মুগ্ধ-এর মতো তরুণরাই বাংলাদেশের ২য় স্বাধীনতা নিয়ে এসেছেন। বাকিরা ছিলেন সহায়ক ভূমিকায়, কিন্তু, তরুণরা সামনে থেকে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব না দিলে, আমরা আজ দ্বিতীয় বাংলাদেশের দেখা পেতাম না। শুধু এখন নয়, যুগ যুগ ধরে এই তরুণরাই পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দিয়েছেন, দিয়েছেন মানুষকে স্বাধীনতার স্বাদ। আমি আজ তেমন কিছু কিশোর/কিশোরী - তরুণ/তরুণী'র গল্প শোনাবো।

নবী ইবরাহীমের কথা মনে আছে? তিনি কিশোর বয়সেই তাঁর এলাকার মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেলার দিব্যদৃষ্টি পেয়েছিলেন। মূর্তিগুলো ভাঙ্গার পরে তাঁকে ঐ কিশোর বয়সেই আগুনে ফেলে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু, তিনি একটুও টলেননি।

নবী ইবরাহীমের ছেলে নবী ইসমাইলকে যখন তাঁর বাবা কোরবানি দেওয়ার আল্লাহর ইচ্ছা জানিয়েছিলেন, তখন তিনি একজন শিশু বা কিশোর ছিলেন। সেই বয়সেই তিনি খোদার সিদ্ধান্তের উপর আস্থা এনেছিলেন।

দাঊদ নবী যখন রাজা গোলিয়াথের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, তখন নবী দাউদ কিশোর বয়সী ছিলেন।

গুহায় লুকিয়ে যাওয়া সেই কিশোরদের কথা আপনারা সবাই জানেন। এই অসীম সাহসী কিশোররা চাঁদের দেবী ডায়ানাকে কুর্নিশের নির্দেশ অমান্য করে রাজার বিরাগভাজন হয়েছিলেন। তাঁরা এমনকি রাজার জাদু-টোনায় বিশ্বাস স্থাপন করা থেকে বিরত থেকেছিলেন। ফলে, কিশোর উপর অত্যচার নেমে আসলে এই তাঁরা গুহায় লুকিয়ে যান।

আমাদের শেষ নবী মোহাম্মদ কিশোর বয়স থেকেই সদা সত্য কথা বলতেন। তাই, তাঁকে সত্যবাদী বা আল-আমিন উপাধি দেওয়া হয়।

শেষ নবী যখন মক্কায় ইসলাম প্রচার করা শুরু করেন, তখন তাঁর সাহাবীদের অধিকাংশই বয়সে নবীন ছিলেন। এমন কয়েকজন নামকরা সাহাবীদের বয়স নিম্নে তুলে ধরলাম -

হযরত আলী - ১০ বছর বয়স
উকবা ইবনে আমির - ১৪ বছর বয়স
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ - ১৫ বছর বয়স
জায়েদ বইন হারিস - ১৫ বছর বয়স
আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ - ১৬ বছর বয়স
হাব্বাব বিন আরেত - ১৬ বছর বয়স
যুবায়ের বিন আওয়াম - ১৬ বছর বয়স
মুওয়াজ বিন জাবেল - ১৮ বছর বয়স
মুসায়েব ইবন উমায়ের - ১৮ বছর বয়স
আবু মুসা আল-আশ'আরি - ১৯ বছর বয়স



এবার, কিছু কিশোরী/তরুণীর অসম সাহসের কথা জানা যাক।

হযরত মরিয়ম ছিলেন নবী ঈসা'র মা। বিবি মরিয়ম যখন খোদার আদেশের উপর আস্থা স্থাপন করেন, তখন তিনি ছিলেন একজন কিশোরী/তরুণী। খোদার আদেশ মেনে নেওয়ার ফলে তাঁকে অনেক অন্যায়, অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়।

কিশোরী আয়েশা (রা) একজন বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ছিলেন ফিকহ শাস্ত্রের জননী।

কিশোরী আসমা বিনতে আবু বকরের নাম শুনেছেন কি? শেষ নবী যখন তাঁর সাথী আবু বকরের সাথে গুহায় লুকিয়ে ছিলেন, তখন এই আসমাই তাঁদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন। শত্রুদের হাজারো জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি মুখ খুলেননি, বলে দেন নাই নবীজী কোথায় লুকিয়ে ছিলেন।

খাওলাহ বিনতে আল আজওয়ার ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এক তরুণী। তিনি ছোটকাল থেকেই নিজের ভাইয়ের কাছ থেকে তলোয়ার চালনা শিক্ষা নেন। রোমানদের সাথে যুদ্ধে যখন তাঁর ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন, তিনি ছেলেদের বেস ধরে রোমানদের আক্রমণ করে বসেছিলেন।


এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। তাই, ব্লগে তারুণ্যের পক্ষের ভাই-বোনেরা প্রতিপক্ষের আক্রমনে হতাশ হবেন না। তরুণরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তাঁদের উপর আস্থা রাখুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪৪
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে ভোট দেশে

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



আমার বয়সে(৩০+) আজও সরকার নির্ধারণ বা নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি।

এখন প্রায় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে। তবুও নানা অজানা কারণে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা ভোট হয় কি হয়না। সেদিন এক স্থানীয় পাতি নেতার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×