
কয়েক দিন আগে ফরাসী রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে এয়ারবাস কেনার জন্যে চাপ সৃষ্টি করে বক্তব্য দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ৫০ ভাগ যায় ইউরোপে। তিনি কি কোন হুমকি দিলেন এক্ষেত্রে? তা দিতেই পারেন! নিজের দেশের স্বার্থ সব মানুষই দেখবে। এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন যে বোয়িং বাংলাদেশকে নিরাশ করবে না।
গণতান্ত্রিক একটি দেশের মূল চালিকা শক্তি ব্যবসার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। বাংলাদেশের শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মক্ষম শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে নিয়োজিত রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭.৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন), যার মধ্যে সিংহভাগ বা বিশাল একটি অংশ বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (BLS)-এর সর্বশেষ ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় বেসরকারি খাতে (Private Sector) কর্মরত মোট শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার। আর, ফ্রান্সে সরকারি, বেসরকারি ও স্ব-নিযুক্ত কর্মী মিলিয়ে মোট শ্রমশক্তির সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষের কাছাকাছি, যার মধ্যে মোট কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ। এরমাঝে, বেসরকারি খাতে বেতনভুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১ লক্ষ।
তাই, যুক্তরাষ্ট্র বাঁ ফ্রান্স তাঁর দেশের শ্রমিকদের শ্রমের নিশ্চয়তা নিয়ে ভাবিত হবেই। কিন্তু, একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনি কি সেটা নিয়ে চিন্তিত হচ্ছেন কি? প্রশ্নটা সেখানেই। সৌদি আরব বা ইরানের প্রতিরক্ষার চেয়ে নিজ দেশের ভুখা, কর্মহীন, বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর জন্যে আপনি কতোটা ভাবিত হচ্ছেন, সেটা নিয়েই প্রশ্ন।
এখনো সময় আছে, বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বলুন। এতে করে খোদা ও তাঁর অভাবগ্রস্থ সৃষ্টি - দুইয়েরই সাহায্য পাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




