বছর ঘুরে আবার এসেছে বাঙ্গালী জাতির ঐতিহাসিক বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তøাত যুদ্ধের পর এ ডিসেম্বর মাসেই বাঙ্গালী জাতির বহু আকাংতি স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বাঙ্গালী জাতির বীর মুক্তিযুদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রিয় মাতৃভূমিকে পাক হানাদার মুক্ত করার ল্েয স্বাধীনতার লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙ্গালীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা,যৌথ ও মিত্র বাহিনীর উর্পযুপরি আক্রমনে পরাস্ত হয় পাক হানাদার বাহিনী। আর এ ভাবেই যৌথ আক্রমনের ফলে বিভিন্ন অঞ্চল পাক হানাদার মুক্ত হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর বৃহওর কুমিল্লা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কালো থাবা থেকে মুক্ত হয়। তাই ঐ দিন মুক্তিযোদ্ধা, মিত্র বাহিনী ও কুমিল্লা সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। সর্বত্রই ছিল নতুন প্রানের আনন্দ। মুক্তি পাগল মানুষের জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে কুমিল্লা। তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানের শক্তি। অনেক ত্যাগ তিতিার মাধ্যমে অর্জিত এ স্বাধীনতা কুমিল্লাবাসীর মাঝে নতুন ভাবে বেঁেচ থাকার প্রেরনা সৃষ্টি করে। ৭১ সালের ডিসেম্বরের দিকে মুক্তি বাহিনীর আক্রমন আরো জোরালো হয়। এ সময়েই কুমিল্লা ও লাকসামে পাকিস্তান বাহিনীর ১১৭ ব্রিগেড ও ৫৩ পদাতিক ব্রিগেড দায়িত্বাধীন ছিল। কুমিল্লার মুক্তিবাহিনীর নভেম্বরের মাঝা-মাঝিতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে। এ অভিযান কুমিল্লার বেশ কিছু অঞ্চল বিশেষ করে বিবির বাজার, নিশ্চিন্তপুর, চৌদ্দগ্রাম, বেলুনিয়া, ইটাল্লা ও মাঝিগাছায় বেপরোয়া হয়ে উঠে নভেম্বরের শেষের দিকে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমনের কাছে হার মেনে পিছু হঠে। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘী এলাকা দখল করে নেয়। এ দখল কৃত এলাকাটিই কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চল। ৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর যোদ্ধারা কুমিল্লার ময়নামতি আক্রমনের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহন করে । এই দিনে রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল আর.ডি হিরার নেতৃত্বাধীন ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের দায়িত্বে যৌথ
বাহিনীর ৩০১ মাউন্ট ব্রি গ্রেড এবং মুক্তি বাহিনীর ইর্স্টান সেক্টর লালমাই পাহাড় ও লাকসামে পাকিস্তানি প্রতিরা ব্যুহ ভেঙ্গে ফেলে এবং লাকসাম কুমিল্লা পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। লাকসামের মুদাফ্ফরগঞ্জে হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর মুখোমুখি সংর্ঘষ ঘটে।এই সংর্ঘষে হানাদার বাহিনী পরাজিত হয় এবং ৬ ডিসেম্বর মুদাফ্ফরগঞ্জ মুক্ত হয়। পরের দিন মুক্তিবাহিনী ঢাকার সাথে ময়নামতির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এদিকে লাকসামের ঘাঁটি রায় পাকিস্তান বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠে। পাকিস্তান বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্ট কুমিল্লা বিমানবন্দর (বর্তমানে কুমিল্লা ইপিজেড) সংলগ্ন সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থান গ্রহন করে । ৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকিস্তান বাহিনীর
সংর্ঘষ হয় এবং এই সংঘর্ষে মুক্তিবাহিনীর ২৭ জন যোদ্ধা শহীদ হয়। পরাজিত পাকিস্তান বাহিনী পিছু হটে এবং সেনানিবাসে অবস্থান নেয়।মুক্তিবাহিনী মুক্ত কুমিল্লায় প্রবেশ করতে থাকে এবং ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কুমিল্লায় মুক্ত দিবস উদযাপন করে। ৮ তারিখ যে ২৭ জন যোদ্ধা কুমিল্লার মাটিতে পা রাখেন তারা সকলেই এফ এফ বাহিনীর। শহর মুক্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু পাকিস্তান বাহিনী তখনও সেনানিবাসে।হানাদার বাহিনী সেনানিবাসে তাদের অবস্থান স্থলে শক্তিশালী প্রতিরা ব্যুহ গড়ে তোলে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী সদলবলে আতœসমর্পন করে।এদের মধ্যে ২ জন ব্রিগেডিয়ার,৭৬ জন অফিসার,১৭৫ জন জেসিও এবং ৩৯১৮ জন সৈন্য ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লায় প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ৮ ডিসেম্বর বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে। বীর মুক্তিযোদ্ধা,মিত্রবাহিনী,উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে তৎকালীন দনি পশ্চিমাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী ও কুমিল্লার প্রথম জেলা প্রশাসক এডভোকেট আহমেদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
কুমল্লিয় প্রথম জাতীয় পতাকা উড়ানো হয় ৮ ডসিম্বের
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
সামু একটি ছোট নৌকা

একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।
নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।
যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন
জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন
১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত
আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।