somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুমল্লিয় প্রথম জাতীয় পতাকা উড়ানো হয় ৮ ডসিম্বের

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বছর ঘুরে আবার এসেছে বাঙ্গালী জাতির ঐতিহাসিক বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তøাত যুদ্ধের পর এ ডিসেম্বর মাসেই বাঙ্গালী জাতির বহু আকাংতি স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বাঙ্গালী জাতির বীর মুক্তিযুদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রিয় মাতৃভূমিকে পাক হানাদার মুক্ত করার ল্েয স্বাধীনতার লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। বাঙ্গালীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা,যৌথ ও মিত্র বাহিনীর উর্পযুপরি আক্রমনে পরাস্ত হয় পাক হানাদার বাহিনী। আর এ ভাবেই যৌথ আক্রমনের ফলে বিভিন্ন অঞ্চল পাক হানাদার মুক্ত হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর বৃহওর কুমিল্লা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কালো থাবা থেকে মুক্ত হয়। তাই ঐ দিন মুক্তিযোদ্ধা, মিত্র বাহিনী ও কুমিল্লা সর্বস্তরের মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। সর্বত্রই ছিল নতুন প্রানের আনন্দ। মুক্তি পাগল মানুষের জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে কুমিল্লা। তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানের শক্তি। অনেক ত্যাগ তিতিার মাধ্যমে অর্জিত এ স্বাধীনতা কুমিল্লাবাসীর মাঝে নতুন ভাবে বেঁেচ থাকার প্রেরনা সৃষ্টি করে। ৭১ সালের ডিসেম্বরের দিকে মুক্তি বাহিনীর আক্রমন আরো জোরালো হয়। এ সময়েই কুমিল্লা ও লাকসামে পাকিস্তান বাহিনীর ১১৭ ব্রিগেড ও ৫৩ পদাতিক ব্রিগেড দায়িত্বাধীন ছিল। কুমিল্লার মুক্তিবাহিনীর নভেম্বরের মাঝা-মাঝিতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে। এ অভিযান কুমিল্লার বেশ কিছু অঞ্চল বিশেষ করে বিবির বাজার, নিশ্চিন্তপুর, চৌদ্দগ্রাম, বেলুনিয়া, ইটাল্লা ও মাঝিগাছায় বেপরোয়া হয়ে উঠে নভেম্বরের শেষের দিকে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমনের কাছে হার মেনে পিছু হঠে। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘী এলাকা দখল করে নেয়। এ দখল কৃত এলাকাটিই কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চল। ৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর যোদ্ধারা কুমিল্লার ময়নামতি আক্রমনের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহন করে । এই দিনে রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল আর.ডি হিরার নেতৃত্বাধীন ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের দায়িত্বে যৌথ
বাহিনীর ৩০১ মাউন্ট ব্রি গ্রেড এবং মুক্তি বাহিনীর ইর্স্টান সেক্টর লালমাই পাহাড় ও লাকসামে পাকিস্তানি প্রতিরা ব্যুহ ভেঙ্গে ফেলে এবং লাকসাম কুমিল্লা পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। লাকসামের মুদাফ্ফরগঞ্জে হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর মুখোমুখি সংর্ঘষ ঘটে।এই সংর্ঘষে হানাদার বাহিনী পরাজিত হয় এবং ৬ ডিসেম্বর মুদাফ্ফরগঞ্জ মুক্ত হয়। পরের দিন মুক্তিবাহিনী ঢাকার সাথে ময়নামতির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এদিকে লাকসামের ঘাঁটি রায় পাকিস্তান বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠে। পাকিস্তান বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্ট কুমিল্লা বিমানবন্দর (বর্তমানে কুমিল্লা ইপিজেড) সংলগ্ন সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থান গ্রহন করে । ৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকিস্তান বাহিনীর
সংর্ঘষ হয় এবং এই সংঘর্ষে মুক্তিবাহিনীর ২৭ জন যোদ্ধা শহীদ হয়। পরাজিত পাকিস্তান বাহিনী পিছু হটে এবং সেনানিবাসে অবস্থান নেয়।মুক্তিবাহিনী মুক্ত কুমিল্লায় প্রবেশ করতে থাকে এবং ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কুমিল্লায় মুক্ত দিবস উদযাপন করে। ৮ তারিখ যে ২৭ জন যোদ্ধা কুমিল্লার মাটিতে পা রাখেন তারা সকলেই এফ এফ বাহিনীর। শহর মুক্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু পাকিস্তান বাহিনী তখনও সেনানিবাসে।হানাদার বাহিনী সেনানিবাসে তাদের অবস্থান স্থলে শক্তিশালী প্রতিরা ব্যুহ গড়ে তোলে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী সদলবলে আতœসমর্পন করে।এদের মধ্যে ২ জন ব্রিগেডিয়ার,৭৬ জন অফিসার,১৭৫ জন জেসিও এবং ৩৯১৮ জন সৈন্য ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লায় প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ৮ ডিসেম্বর বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে। বীর মুক্তিযোদ্ধা,মিত্রবাহিনী,উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে তৎকালীন দনি পশ্চিমাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী ও কুমিল্লার প্রথম জেলা প্রশাসক এডভোকেট আহমেদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাভ কার হলো?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:১৮


দীর্ঘদিন একটি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে, সরকারের ভেতর এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা ছিল।
২০২৪ সালের আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়রে জীবন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

হায়রে জীবন!

যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×