somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিয়ে ভাঙাটা যেন খুব সহজ !!!

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল বিয়ে ভাঙাটা যেন ছেলেখেলা হয়ে গিয়েছে, অহরহ হচ্ছে ডিভোর্স। অবশ্য ডিভোর্স না হলেও বা কি, নিজের দাম্পত্য জীবনে সুখী আছেন কয়জন? দাম্পত্যে সুখ মূলত নির্ভর করে আমাদের ওপরেই। দিনযাপনের চাপে আমরা বেশিরভাগ সময়েই ভুলে যাই যে পাশে যে স্ত্রী বা স্বামী আছেন তাঁর প্রতিও একটু নজর দেয়া উচিত। কেবল দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, চাই একটি বাড়তি কিছু। সেই “বাড়তি কিছুই” আসলে সুন্দর ও প্রাণবন্ত রাখে সম্পর্ককে। আসুন, জানি বিস্তারিত।
১. একান্ত কিছু সময় দিন :
একান্ত কিছু সময় মানুষকে বুঝতে সহায়তা করে। আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে একান্ত কিছু সময় দিন রোজ । যার ফলে তাকে খুব কাছ থেকে চিনতে বা বুঝতে পারবেন। তাছাড়া এই একান্ত সময় দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে তুলবে। অপনাদের ভালবাসাকে দ্বিগুণ করে তুলবে।
২. একসাথে প্রতিদিন হাঁটুন :
আমরা জানি প্রতিদিন হাঁটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এমনিতেই হয়তবা আমরা একা একা সকাল বা বিকেল বেলা বিভিন্ন পার্কে বা অন্য কোথাও হাঁটতে যাই। শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে আমরা এই কাজটি করে থাকি। তবে এখন থেকে আর একা নয়, সঙ্গী বা সঙ্গিনীটিকে পাশে নিয়ে হাঁটতে যান। এতে আরও কিছু মুহূর্ত সঙ্গীটিকে পাশে পাবেন। এতে লক্ষ্য করবেন আপনার হাঁটার কাজটিকে আরও সহজ করে দিচ্ছে এবং তার সাথে ভালো কিছু মুহূর্তও কেটে যাচ্ছে।
৩. একসাথে আহার করুন :
ব্যস্ততাময় জীবনে আমরা অনেক ব্যস্ত সময় কাটাই। দেখা গেল দুই তৃতীয়াংশ সময়ই আমরা বাসার বাইরে থাকি। এর ফলে প্রিয়জনটিকে বহুক্ষণ চোখের আড়ালে রাখতে হয়। এর ফলে আমরা অনেক সংসারে দূরত্ব তৈরিরও অনেক ঘটনা শুনে থাকি। এজন্য দিনে অন্তত একবেলা প্রিয়জনটির সাথে আহার করুন। এতে আপনাদের দুজনের দুজনার প্রতি ভালোলাগা আরও ১০ গুণ বেড়ে যাবে।
৪. খাবার সময় কথা বলুন :
যখন একসাথে খেতে বসবেন তখন দুজন দুজনার সাথে কথা বলুন। এটা হতে পারে রাতে খাবার টেবিলে। সারাদিনে ঘটে যাওয়া নানা জমানো কথা প্রিয়জনের কাছে মজা নিয়ে বলুন। অফিসের নানা কথা বা সারাদিন বাসায় অতিবাহিত করা সময়ের কথা বলুন। এতে পরস্পরের প্রতি আস্থার জায়গাটি তৈরি হবে। যার ফলে ভালোবাসা আরও গাঢ় হবে।
৫. রোমান্টিক কথাবার্তা বলুন :
সারাদিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ক্লান্ত দেহটা চায় একটা নরম বিছানা। কিন্তু না বাসায় ফিরে সবার আগে আপনার প্রিয়জনের দিকে মনোযোগ দিন। ঘুমোতে যাবার আগে কিছুটা রোমান্টিক গল্প করুন। কিছু আবেদনময় কথা বলুন।
৬. শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুন :
আপনি যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে থাকেন তা প্রিয়জনের কাছে লুকিয়ে না রেখে তার সাথে আলোচনা করুন। এমন অনেকেই থাকেন যারা নিজেদের সমস্যা লুকিয়ে রাখেন। এই বিষয়ে কথা বলেন না। এর ফলে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। আপনি এই বিষয়ে অবশ্যই প্রিয়জনের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। তাহলে দেখবেন দুজনার সম্পর্কটা আরও সহজ হয়ে উঠেছে।
৭. অনুভূতিগুলো প্রকাশ করুন :
আপনি আপনার প্রিয়জনটিকে অনেক বেশি ভালোবাসেন কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারছেন না। এটি অনেক বড় একটি সমস্যা। এর ফলে আপনার প্রিয়জনের কাছে ভালোবাসার কথাটি অজানাই থেকে যায়। এর জন্য আপনার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলিকে প্রিয়জনের সামনে তুলে ধরুন। এর ফলে দেখবেন আপনাদের সম্পর্কটি আরও প্রানবন্ত হয়েছে।
৮. কিছু বিষয় ভুলে যান :
বিয়ের পরে স্বামী বা স্ত্রী সম্পর্কে অনেক তথ্যই আপনার কানে আসতে পারে। যেমন আগের কোনো সম্পর্কের বিষয়। এই বিষয়গুলোকে কখনই পরোয়া করবেন না। সবারই জীবনে এমন মুহূর্ত আসতেই পারে। কিন্তু এখন সেটি অতীত হয়ে গেছে। অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আপনি দেখুন অতীতের কোনো প্রভাব আপনার প্রিয়জনের মধ্যে আছে কি না। তা না থাকলে তাকে পুরোপুরি ভালোবাসুন। তার কাছে প্রমাণ করুণ তার জীবনে আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।


৯. প্রতিদিন নতুনভাবে ভালোবাসুন :
আপনি আপনার প্রিয়জনটিকে নতুনভাবে ভালোবাসুন। বিয়ের মুহূর্তে যেভাবে ভালোবেসেছিলেন ঠিব সেভাবে বিয়ের পরও প্রতি মুহূর্তে ভালোবাসুন। আপনার কাছে যেন মনে হয় প্রতিদিনই আপনার বিয়ের দিন।
১০. জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখুন :
আপনার জীবনের অনেকগুলো অংশ থাকতে পারে। আপনার ভালোলাগার সবাইকে হয়ত একইসাথে একই সারেতে বসানো যায় না। এজন্য আপনার প্রিয়জনকে আরও অনেক বেশি ভালোবাসতে তাকে জীবনের প্রথম সারিতে বসান। আপনার বিশেষ মুহূর্তগুলোতে তাকে বেশি গুরুত্ব দিন। এতে করে দেখবেন আপনাদের মধ্যে ভালোবাসা আরও অনেক বেশি প্রগাঢ় হয়েছে।

জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে সাজাতে হবে না হয়ে আপনি পিছনে চলে যাবেন ।কোন বন্দন ধরে রাখতে এর কোন বিকল্প নাই, মানসিক পরিবর্তন হতে খুবই কম সময় লাগে তাইতো সমলে নিতে সময় নেয়া যাবেনা ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×