somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মস্তিষ্কের চিন্তাগুলো কেন যেন আজ জোড়া লাগছে না

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন রাত দশটা বাজে। ঠিক দশটা না, দশটা বাজতে তিন মিনিট বাকী আছে। সকালে ঠিক সাড়ে নটায় ল্যাপ্পিটা কাঁধে ঝুলিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে ছিলাম এই পন করে যে “যে করেই হোক আজকে এসাইনমেন্টটা শেষ করে তবেই রুমে ফিরবো”। রুমে থাকলে কিছুই করা হয় না। কতক্ষন পরেই পাশের বিছানাটার সাথে আমার পিঠের একটা তুমুল আকর্ষন কাজ করে। একটু না শুয়ে পারি না। আর একটু শোয়া মানেইতো বুঝেছেন, খানিক ঘুমিয়ে নেয়া। তাই এভাবে রুম থেকে বের হয়ে আসা।

থার্ড ইয়ারে উঠার পর থেকে খেয়াল করছি, এসাইনমেন্ট গুলো কেমন যেন বিদঘুটে হয়ে গেছে। এক পৃষ্ঠা লেখতে গেলে নিদেন পক্ষে দশ পৃষ্ঠা পড়তে হয়। ভিন্ন ভাষায় লেখা কিছু পড়তে গিয়ে চোখকে তার কোটর বিচ্ছিন্ন করার ধৈর্য আমার কোন কালেই ছিল না। এখনও নেই। আজ এই পর্যন্ত অনেক বার চেষ্টা করেছি কিছু আর্টিকেল রিভিউ করবো এসাইনমেন্টের জন্য। পারলাম না। একটা করে আর্টিকেল খুলি আর কয়েক লাইন পড়েই বিরক্ত হয়ে অন্যটা ধরি। একাডেমিক আর্টিকেল, বড্ড বেশী বোরিং, রস কস কিচ্ছু নেই ওতে। প্রতিবার এই টাইপের এসাইনমেন্ট গুলো করতে গিয়ে মেজাজটা বিগড়ে যায়। নিজে নিজেই বকি, “শালার এই এসাইনমেন্ট জিনিসটা যে কোন ব্যাটায় বানাইসে!! ওরে পাইলে কিলাইয়া চৌদ্দ গোষ্ঠীর নাম ভুলাইয়া দিতাম”

সারা দিনে কিছু একটা লেখার জন্য ক’বার যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের পাতা খুলেছি তার ইয়ত্তা নেই। দু-চার লাইন লিখেই মনে হচ্ছে কি করতে এলাম আর কি করছি। ভেবেই বন্ধ করে আবার এসাইনমেন্টে মনযোগ। কিন্তু ওটাও আর করা হয় না। আবার কিছু একটা লেখার জন্য বসি। নাহ! দুই চার লাইন লেখার পর আর আগায় না কিছুই। আচ্ছা সমস্যাটা কোথায়? কি হচ্ছে এসব?

কি লিখবো খুজেই পাচ্ছিনা। অবশেষে চিন্তা করলাম মাথায় কত চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, সেগুলোই লিখে ফেলি না কেন? যেই ভাবা সেই কাজ, শুরু করলাম লেখা। এই যা! আবারো একই কান্ড। দু-চার লাইন লেখার পরই চিন্তাগুলো কোথাও আটকে যাচ্ছে। আর এগুচ্ছে না। সেই সাথে থেমে গেছে দুটি হাত। কীবোর্ডের উপর আজ আর হাত চলছে না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিলাম। আজ কোন লেখালেখি নয়।

সন্ধ্যার পর আবারো ঐ এসাইনমেন্ট নিয়ে বসলাম। এবার কিছুটা এগুলো কাজটা। কিন্তু কিছুক্ষন পর আবার থেমে গেল, আর ভাল্লাগছে না। কিছুক্ষন ব্লগ পড়লাম, ফেসবুকে একজনের নোট পড়লাম। আবার কিছু একটা লেখার জন্য মনে ধরলো। কিন্তু কি লিখবো? মাথায় যে কিছুই নেই। আসলে মস্তিষ্কের চিন্তাগুলো কেন যেন আজ জোড়া লাগছে না। আমি বিক্ষিপ্ত এই চিন্তাগুলো থেকে মুক্তি চাই। তা না হলে যে কোন কাজ হচ্ছে না। আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। এখন দশটা পঁচিশ বাজে। এখানেই শেষ করলাম।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×