ভারতবিদ্বেষের কারণ হলো স্বাধীনতার পক্ষের পরাজয় ঘটেছে, মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি, যারা বহন করছে পাকিস্তানের উত্তরাধিকার। অত্যন্ত বেদনার বিষয় হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, জীবন দিয়েছে, তারাও মানসিকতায় ছিলো পাকিস্তানবাদী; আর বাঙলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী পাকিস্তানি চেতনাই লালন করেছে- তাদের উচ্চপদস্থরা জীবনের শুরুতে পাঠ নিয়েছিলো পাকিস্তানবাদের, প্রতিক্রিয়াশীলতা ও ভারতবিদ্বেষ যার দুটি মূলস্তম্ভ। এ ছাড়া প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিক ও পীর-মাওলানারা তো আছেই, যারা ইরানতুরানের স্বপ্নে বিভোর।
আমাদের প্রতিক্রিয়াশীলরা এখন যাকে দণ্ডিত করতে চায়, তাকেই নিন্দিত করে ‘ভারতপন্থি’ বলে- পাকিস্তানের প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়াশীলদের ভারত বিদ্বেষ এখনো সমানে চলছে বাঙলাদেশে। ‘ভারতপন্থি’ নিন্দাসূচক নাম হয়ে উঠেছে, যদিও হওয়া উচিত ছিলো প্রশংসাসূচক; কেননা ভারতের থেকে কে আমাদের বেশি উপকার করেছে? জাতি হিশেবে আমরা শোচনীয় কৃতঘ্নতার পরিচয় দিয়ে চলেছি। ভারতের সঙ্গে আমাদের আবহমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে; মিল রয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, জীবনধারণ পদ্ধতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদী, মেঘ, সঙ্গীত, হাহাকার, সুখ, বৈশাখ ও ফাল্গুনের মধ্যে।
ভারতের সঙ্গে যারা সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক, ভাষিক ও আরো অজস্র বিষয়ে আন্তর বোধ করে, তারা বাঙলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে চায় না, তারা স্বাধীন বাংলাদেশই চায়; তবে তারা বহু বিষয়ে গভীর সম্পর্ক বোধ করে ভারতের সঙ্গে, কেননা তারা এটা রক্তে অনুভব করে। আমি কখনো ভারতীয় হতে চাই না, ভারতের আজ্ঞাও মেনে চলতে চাই না, কিন্তু আন্তরিক সম্পর্ক পাতাতে আমার কোনো দ্বিধা নেই; আমি কী করে পরিত্যাগ করো পাণিনি, ব্যাস, বাল্মীকি, চার্বাক, কালিদাস, কাহ্নপাদ, চণ্ডীদাস, ভারতচন্দ্র, বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, এবং আরো অনেককে? কালো মাটির দেশের মিশরিরা মুসলমান হয়েছে, তারা আলেকজান্দ্রিয়ার মহাগ্রন্থাগার ধ্বংস করেছে, আল আজহার তৈরি কএও অন্ধকারে থেকেছে, কিন্তু ফারাওদের পিরামিড এখনো তাদের প্রধান সম্পদ প ঐতিহ্য। এছাড়া আর কী আছে তাদের?
আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম
লেখকঃ হুমায়ুন আজাদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



