somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেগে উঠার গল্প - কাংগালী ফকির।

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটু বড় হলাম যখন!!
বলত তখন মায়৷
কাপড়-চোপড় ঠিক করে চল,
নজর পড়বে গায়৷

তখনো ঠিক বুক গজায়নি,
তবু মায়ের ভয়৷
মায়ে বলতো মেয়েরে তোর, সামলে চলতে হয়৷

মায়ের কথা বুঝিনি ঠিক! পাড়ার ছেলের দল৷
গায়ে পড়ে বলতো কথা,
চোখে খেলতো ছল৷

যখন আমার বুক গজালো,
ডাঙ্গর গতর গায়৷
নিষেধ হলো বেড়ে দ্বিগুন, ভয়ে থাকত মায়!!

হাঁটতে পথে পান্ডা ছেলের চোখে খেলত নেশা,
এদিক ওদিক তাকানো যার
নিত্য দিনের পেশা৷

মুখে থাকত লজ্জা আমার,
বুকে থাকত ভয়!!
মায়ের বাড়ন মাইয়া মাইনষের চুপ থাকিতে হয়৷

স্নানের বেলা পুকুর ঘাটে, মারত কত উকি৷
লজ্জা আমার সাড়া গায়ে
লতায় লজ্জামুখি৷

আমার কতো ইচ্ছে হতো
ডানা মেলে উড়ি
ভালবাসার আকাশটাতে ইচ্ছেমত ঘুরি৷

তবু আমি থেমে যেতাম
মায়ের কথা শুনে৷
সমাজ আমায় দেখিয়ে দেয়, থাকতে ঘরের কোনে৷

একদিন যবে স্কুল হতে,
বাড়ী ফিরছি একা৷
সেদিন আমার শরীর নিয়ে
তাদের সাথে দেখা৷

চিৎকার দেব তাও হলনা
কত আহাজারি,
উদয় হলো মায়ের কথা
আমি একটা নারী৷

যে শরীরটা নিয়ে ছিল
মায়ের এত ভয়,
সে শরীরতো হায়নার চোখে
মাংস পিন্ডময়৷

বুকের কাপড় খুলে নিয়ে
বুকে দিল হাত,
হাত নয় সে যে থাবাই দিলো, বসায় দিলো দাঁত৷

যে তল দিয়ে জন্ম ওদের
সেই তলে দেয় শূল,
শরীর নিয়ে লজ্জা মায়ের,
সবই ছিল ভুল৷

সাড়া শরীর চিবে খেল
ফাটিয়ে দিল তল,
রক্ত গেল তানা তানা
বিষিয়ে দিল জল৷

চুষে খেল শরীর খানা
জনের পরে জন,
দাঁড়াবারও শক্তি আমার ছিলনা তখন৷

কাঁদতে কাঁদতে ডেকেছিলাম, ঈশ্বর তুমি কই!!
বাঁচাও আমায় চুপ থেকোনা, মেয়ে যদি হই৷

বাঁচাইনি নির্লজ্জ্য ইশ্বর, তাকিয়েছে শুধু!!
ঈশ্বর তারা যাদের কাছে নারীর শরীর মধু৷

কোনমতে কষ্ট শয়ে
বাড়ি ফেরার পর,
মাতো আমার অর্ধমৃত
একি হলো তোর!?

দেখনা মা তোর লাজুক মেয়ের একি হল হাল!!
তোর কাছে মা তলোয়ারের
থাকতে হবে ঢাল৷

কাপড়ের পর কাপড় দিয়ে
শরীর ঢাকা যায়৷
লজ্জা ঢাকবি কি দিয়ে মা কলঙ্কিনির গায়৷

যত পারিস কাপড় দে মা
লজ্জা যদি ঢাকে,
নরপশুর লজ্জা যদি
এই কাপড়ে থাকে৷

তুইতো জানিস তোর মেয়েটা
তোর অবাধ্য নয়৷
কেন তবে এমন হবে?
এমন কেন হয়!?

তোর সমাজের কথা শুনে
রাখলি ঘরের কোনে
তোর মেয়েকে চিবিয়ে খেল
সেই সমাজের জনে৷

স্বামি-স্ত্রীর মিলন শেষে শরীর নাপাক হয়৷
স্নানে আনে পবিত্রতা
তোর ধর্ম তাই কয়৷

তবে মাগো জল ঢেলে দে
করে দেমা পাক,
কলঙ্ক মা শরীর থেকে
ধুয়ে মুছে যাক৷

আর কতদিন এভাবে মা
আড়াল হবি বল!?
কত মেয়ের আর্তনাদে
চোখে ফেলবি জল৷

উড়ার সময় তোরা মাগো
ভেঙ্গে দিবি ডানা৷ প্রতিবাদের কোন ভাষায়
নেই কি তোদের জানা?

এই ভাবেই কি বেঁচে থেকে, নারীর জীবন যাবে?
আমার ছোট্ট বোনটি ও কি
এমন সাজায় পাবে?

এভাবে আর কত মাগো
মুছে দিবি হাসি,
আমরা হব ধর্ষিতা মা
তুই মা হবি দাসী৷

মরতে গিয়ে পারিনি মা
মরবো কেন বল?
মরলে আমি পশ্রয় পাবে
ঐ কুকুরের দল!!

চিৎকার করে সমাজটাকে দেখিয়ে দি মা আয়, নির্যাতনকে লাতি মেরে পিষিয়ে দেবো পায়৷

বাঁচতে হলে আয় মা এবার বাঁচার মতই বাঁচি৷
লুকানো মা মরার সমান, বুঝিয়ে দে আছি৷

জাগুক জাতি নারী সমাজ
জাগুক যত বোন৷
আগে বাড়ো নারী তুমি
ছাড়ো ঘরের কোন৷

ফকির বলে- সালাম নারী
গুছে তুলো পাপ৷
তালা ভেঙ্গে দাও সে তোমার দাঁতভাঙ্গা জবাব....

নিজেকে আজ ধিক্কার দিয়ে একটা কথায় বলব
এটা কোন কবিতা নয়
জেগে উঠার গল্প...
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×