somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছোটবেলা ১

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তামিম ভাইয়ার আমার বান্দরবেলা সিরিজের আমি একজন বিশাল ভক্ত । ওইটা দেখেই মনে হইসিল আমার ছোটবেলাটা এত ইন্টারেস্টিং না হইলেও ওইটা নিয়া কিছু লেখা যায় । আমার একদম ছোটবেলা ( যখন এক থেকে দুই বছর বয়স) কাটসে আমার দাদুর বাড়িতে । চাচা ফুফুরা সহ জয়েন্ট ফ্যামিলি । তখনকার কোন কথাতো আমার মনে থাকার কথা না , আম্মুর কাছে মাঝে মাঝে গল্প শুনে কিছু কিছু জানি তখনকার কথা । আমি বলে মহা শয়তান ছিলাম ছোট কালে । আমার শয়তানির মধ্যে অন্যতম ছিল বলে সকালে আব্বুর জন্য ডিমপোস করলে আমি বলে চুপি চুপি গিয়া চামুচ দিয়া কুসুমটা খেয়ে ফেলতাম আর তারপর গিয়ে বারান্দার দরজার চিপায় চাচার মোটরসাইকেল যেখানে রাখত ওইখানে লুকায়ে থাকতাম :P । আব্বু নাস্তা খেতে এসে দেখত ডিম এর এই দশা :P ,এরপর আমাকে সারা বাড়ি খুঁজে পাওয়া যেত দরজার চিপায় :P ।আর আমাকে সনাক্তকরণ তেমন কঠিন ছিল না কারন পায়ে থাকত আব্বুর বাটার লম্বা লম্বা স্যান্ডেলগুলা যেইটা দরজার নিচ দিয়ে সহজেই চোখে পরত ।
আর একদিনতো আমি বলে বাসা থেকে পালায়েই গেসিলাম ;) । আমাদের বাসায় একজন বুয়া কাজ করতো । আমি বলে ওনাকে ভীষণ পছন্দ করতাম ওনার সাথে বসে বসে চা দিয়া রুটি ভিজায়ে খাইতাম ।
আম্মুকেতো সারাদিন এত বড় সংসারের নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হইত এতটা খেয়াল রাখতে পারত না ,ছোট ফুফুকে বলত খেয়াল রাখতে আমার । একদিন ছোট ফুফু মনে হয় পড়ায় ব্যস্ত ছিল আর বুয়া রওয়ানা দিতেসিল বাজার এর দিকে কি জানি কিনে আনতে পাঠাইসিল ওনাকে । আমাদের বাসা হইল কাঠালবাগান এর ঢালে , সামনেই বাজার ।বুয়াকে যাইতে দেখে আমিও আব্বুর লম্বা স্যান্ডেলগুলা পড়ে বুয়ার পিছন পিছন রওয়ানা দিলাম । বুয়াতো আর জানেনা আমি ওনার পিছন পিছন যাইতেসি ।উনিতো কিনে আবার বাসায় ফেরত আসল । এদিকে বাসার কেউ আমাকে বাসায় না পেয়ে ভাবসে বুয়া আমাকে নিয়া গেসে সাথে । বুয়া আসার পর আমাকে না দেখেতো আমার আব্বু আম্মুর মাথা পুরা শেষ । আব্বু বলে খালি পায়ে বের হয়ে গেসিল আমাকে খুঁজতে । ওদিকে রাস্তায় কোন আংকেল আমাকে দেখে চিনসে শাহরিয়ার এর মেয়ে উনি কোলে করে আমাকে বাসায় নিয়া আসছিলেন পরে ।আমার এটা চিন্তা করলেই ভয় লাগে ঐদিন যদি আসলেই হারায়ে যাইতাম তাইলে কি হইত :((

এরপর আব্বু মারা যাওয়ার পর ৩/৪ মাস পর্যন্ত আমরা দাদুর বাসায়ই ছিলাম । আম্মু তখন প্রথমবার অফিস এ জয়েন করল । আমাকে কে দেখবে তাই সকালে যাওয়ার আগে ভাইয়া কে স্কুলে দিয়ে আমাকে নানুর বাসায় নামায়ে দিয়ে যাইত । তখন নানুর বাসায় আমার মামারা ,খালা, খালাতো ভাইবোনরা সবাই থাকত ।খালু তখন বিদেশ এ ছিল । আমার মামীর তখন মাত্র বিয়ে হইসে ,আমার মামীই আমাকে দেখে রাখত । আমার মামী সবসময়ই আমার ফ্রেন্ড এর মতন। আমরা সবাই ই মামীর সাথে খুবই ফ্রি । এখনও মামী বলে কাউরে পছন্দ হইলে আমারে আইসা বলিস :P । মামীর আবার অ্যাফেয়ার এর ব্যাপারে কোন সমস্যা নাই আসলে মামা আর মামীরও তো অ্যাফেয়ার ম্যারেজ :P ছিল ।
একদিন বলে আম্মু আর মামী গেসে কি কাজে আমাকে খালামনির কাছে রেখে আমি বলে সে কি মরা কান্না জুড়ে দিসি আর থামার নাম নাই । শেষ এ বলে আমার খালা চেতে আমাকে ঠান্ডা পানির ড্রামে নামায়ে দিসে (ধরে রেখে অবশ্যই :P ) । তারপর বলে আমি ঠান্ডা হইসি B-)

এরকিছু দিন পর আমরা রেলওয়ের কোয়ার্টার পাইলাম , আব্বু রেলওয়ের সার্জেন ছিল । ওই বাসার আমার খালি একটা কথাই মনে আছে বারান্দায় আব্বুর অপারেশন টেবিলটা ছিল আর আমি ঐটার উপর বসে বসে আমার হাড়িপাতিল এর একটা বিশাল ঝুড়ি নিয়া খেলতাম । ভাইয়া তখন একটু বড় ছিল ।ও কোয়ার্টার এর ছেলেমেয়েদের সাথে খেলত কিন্তু আমার বয়সই কেউ ই ছিল না :(( । আমি একা একাই খেলতাম । ওরা সবাই কাটা কলাগাছ এর উপর বসে বসে হুন্ডা হুন্ডা খেলত আমার এটা মনে আছে

ঐ বাসায় আমরা এক বছর এর মতন ছিলাম । এরপর আমাদের কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে হল । তখন সরকার থেকে আমাদের একটা বাসা দিল (এখন প্রায় ১৮ বছর এর বেশি হয়ে গেসে এই বাসায় আমাদের )আমরা ঐ বাসায় গিয়া উঠলাম । এখানে এসেই আমার ৩য় জন্মদিনের অনুষ্ঠান হইসিল । আমার জীবনে ছোটবেলার যা স্মৃতি সব কিছু এই বাসাকে ঘিরেই । সেইটা না হয় আগামী পর্বে লিখব :)

(চলবে ......)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৩
৫৭টি মন্তব্য ৫৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×