একটা সময় আমি খুব গর্ব করে বলতাম আমার বাসায় (ঢাকায়, চিটাগাং এ) জি বাংলা, জলসা এইসব চ্যানেল চলেনা, বলতে ভালও লাগত । কিন্তু এখন আর আমি এই কথা বলতে পারিনা ।
আমার বাবা মা ইন্ডিয়ান চ্যানেল দেখা শুরু করেছে বিশেষ করে জি বাংলা, অবশ্য তা বছর দুয়েক হবে মাত্র, ঢাকায় ও দেখি মাঝে মাঝে আমার বউ (বাচ্চা সামলাতে গিয়ে তার আসলে টিভি দেখার টাইম নাই) স্টার প্লাস এ কি একটা সিরিয়াল দেখে- এতে অবশ্য সে দোষ দেয় আমার অফিস থেকে দেরী করে ফেরাকে, কারন আমি বাসায় থাকলে রিমোট আমার হাতে থাকে
জি বাংলা দেখার আগে আমার বাবা-মা খুব আগ্রহ নিয়ে বাংলা ভিশন দেখত, সেখানে গুলশান এভিনিউ নামে একটা সিরিয়াল দেখাত, উচ্চ বিত্তের রং তামাশা দেখতে হয়ত তাদের খারাপ লাগতোনা, কিংবা ধারাবাহিক ভাবে দেখতে দেখতে একটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল হয়ত।
ওটা শেষ হবার পরে তারা দেশী চ্যানেলে দেখার মত কিছু খুজে পায় নাই, কিংবা কোন কিছু তাদেরকে আগ্রহী করে তুলতে পারে নাই । যার ফলশ্রুতিতে এখন বাসায় নিয়মিত শুনি জীবন মানে জি বাংলা। ফেসবুকে নানা জনের স্ট্যাটাস দেখে সেদিন আমিও মীরাক্কেল এর ১ম পর্ব দেখলাম, এবং সুন্দর সময় কেটে গেল- অস্বীকার করার উপায় নেই।
টিভি চ্যানেলের মেইন দর্শক কিন্তু বাসার সিনিয়র সদস্যরা- এটাই স্বাভাবিক।
তাদেরকে আকর্ষন করার জন্য আমাদের চ্যানেলগুলি আসলে কি দেখায়। ঈদে বহুল বিজ্ঞাপিত এয়ার টেলের টি........ নাটকটা দেখলাম, তারিক আনামকে লতাপাতার পোশাকে দেখে আর একদল পোলাপানের যা খুশি করার গল্পকে নাটক হিসেবে এক দুই বার হয়ত চালিয়ে দেয়া যায় কিন্তু প্রতিদিন প্রতিটা নাটকে একই স্টাইলের ভাঁড়ামো নিশ্চয় দেখতে ভাল লাগার কোন কারন নেই। প্রায় একই রকম প্রেম পীড়িতির গল্প, একই নায়ক নায়িকাদের একই রকম অভিনয় সব নাটকে ।
দেশের সব মানুষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনা, অন্যভাবে বললে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পোলা মাইয়ারাই সারাক্ষন আল্ট্রামর্ডান পোশাকে রঙ্গলীলা করে বেড়ায়না। ২৫-২৬টা টিভি চ্যানেলে আপনি এর বাইরে অন্য কিছু খুব একটা খুজে পাবেনা, কে জানে হয়ত আমি যখন চ্যানেল ঘুরাই তখনই কেবল এইসব দেখায়।
এ্যাডাল্ট কোন প্রোগ্রাম না তার পরও দেশের চ্যানেলগুলোর কোন অনুষ্ঠানই আপনি পরিবারের সবাই মিলে দেখে উপভোগ করতে পারবেননা। চ্যানেলগুলো নিজেরাও সোজা বাংলায় রাস্তা থেকে তুলে এনে উপস্হাপিকা কতগুলাকে বসিয়ে দেয় বিভিন্ন প্রোগ্রাম উপস্হাপনার নামে। এদের উপস্হাপনা দেখে মাঝে মাঝে বুঝতে কস্ট হয় সে আসলে কি করছে, নিজেকে দেখাচ্ছে না কোন কিছু উপস্হাপনা করছে। এদের পোশাক আশাক কোন কিছুই গ্রহনযোগ্য কিনা সেটা দেখারও কেউ নেই।
কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের জোয়ারের কারনে এইসব অনুষ্ঠান, উপস্হাপিকা আর চ্যানেলগুলো টিকে যাচ্ছে , মান নিয়ে না ভাবলেও চলে।
ঈদ উপলক্ষেই মনে হয় ছয়-সাতশো নাটক বানানো হয়েছে, বেশীর ভাগ গুলোর ই লেখক পরিচালক সবই একজন এবং একেকজনেরই পনের বিশটা করে নাটক । দেশে এত মেধাবী লেখক-পরিচালক, এরা কেউ দর্শক ধরে রাখার মত একটা ভাল গল্প নিয়ে একটা ভাল ধারবাহিক বানানোর ক্ষমতা রাখেনা- এইটা কি মেনে নেয়া যায়। সবাই দেখছে পঁচিশ মিনিটের একটা নাটক বানিয়েত ঠিকি টাকা কামিয়ে নেয়া যাচ্ছে- সুতরাং সবাই সে পথেই চলছে। দর্শকের দেখাটা এখন আর খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না, বিজ্ঞাপন পেলেই কর্মসারা, যার ফল হচ্ছে - বিজ্ঞাপনই এখন মুল অনুষ্ঠান, ফাঁকে ফাঁকে নাটক দেখানো হয় এই আর কি ।
কাজেই পাখী ড্রেস নিয়ে নানা আলোচনাই স্বাভাবিক। মানুষ যেটাতে বুঁদ হয়ে থাকে সেটার নানা বিষয়ে ঝুকে পড়াকে দোষ দেয়া যায়না, বরং মানুষ কেন সেদিকে যাচ্ছে সেটা পর্যালোচনাটাই জরুরি।
আইন করে জি বাংলা স্টার বন্ধ করে দিলে দেশের বিপুল একটা অংশের মানুষ আমারতো মনে হয় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে , যেহেতু দেশী চ্যানেলগুলো তাদের কে স্যাটিসফাই করতে পারছেনা। জি বাংলা আর স্টার এর অনুষ্ঠান গুলোর খারাপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা অবশ্য অন্য আরেকটা দিক, সেদিকে গেলামনা ।
বাবা মা,বোন, বউকে জি বাংলা, স্টারপ্লাস দেখতে নিষেধ করার আগে চিন্তা করে দেখলাম আমিওতো দেশী কোন চ্যানেল দেখিনা, খবর ছাড়া । রিমোট হাতে পেলেই আমি চলে যায় ডিসকোভারি, জিওগ্রাফী , ইএসপিএন, মুভীস কিংবা এইচ বিউতে। যে আমি নিজে সবসময় বিদেশী চ্যানেল দেখি সে আমি অন্য কাউকে কিভাবে নিষেধ করব তার সামাজিক পরিনতি যায় হউকনা কেন ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



