somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাড়িওয়ালির অশরীরি মেয়ে - ১৩ তম পর্ব

২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তারপর শুরু হল আমার এই জীবন । জানিনা কেন, কিভাবে , শুধু জানি আমার এই বর্তমান উপস্হিতিও সত্য । মারা যাবার পরপরই আমি আমার লাশের পাশেই এই অশরীরিরি রুপে জন্ম লাভ করলাম । আমাকে কেউ দেখতে পায়না, আমি সবাইকে দেখতে পায় তখন , আমার আত্মা-অবয়ব সবই অবিকল আমার আগের মতনই আছে । দূর্ঘটনায় মৃত্যু, তাই পুলিশ লাশের সুরত হাল রিপোর্ট করে পোস্টমর্টেম এর জন্য পাঠাল । লাশ নেয়া হল ট্রলিতে করে, আমিও লাশের সাথে সাথে গেলাম । ততক্ষনে চাচা চলে এসেছেন হাসপাতালে , তাকেও বেশ বিমর্ষ দেখাল । এটার কারন কি আমার মৃত্যুজনিত ঝামেলা উপস্হিত হবার কারনে নাকি সত্যই তার মন খারাপ তা আমি জানিনা । তিনি পরিচিত কাকে কাকে যেন ফোন করে জানালেন ঘটনা , যা সত্য তাই জানালেন, ছাদ থেকে পড়ে গেছি ।

লাশের পোস্টমর্টেম করা হচ্ছে । সেখানে থাকা ডাক্তাররা আমার এই থেতলানো শরীরের উপর আরেকবার ছুরি চালালেন । নতুন শিখছে এমনও দুই তিনজন ছিলেন । তারা অতি উতসাহ নিয়ে বেশী বেশী প্রশ্ন করতে লাগলেন । নিজের হারিয়ে ফেলা শরীরের উপর এমন হতে দেখে আমার বেশ কস্ট লাগল, কিন্তু কিছু করার নেই । একজন জানতে চাইল আমি প্রেগন্যান্ট ছিলাম কিনা । পাশের জন বলল এই বয়সী মেয়েদের আত্মহত্যা করার এইটা একটা বড় কারন । এমন ঘটনা ঘটার পর আপসেট হয়ে সুইসাইড করে বসে , দেখা যায় পরিচিত কারো দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে এমন ঘটনা ঘটে । কাউকে বলতেও পারেনা, সইতেও পারেনা । শেষে নিজেকেই শেষ করে দেয় । তাদের কথা শুনে আমার খুব মন খারাপ হল । আমিত কারো দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়নি, নিজের ইচ্ছাতে ভালবাসার মানুষের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলাম । কিন্তু সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল ।

এরপর আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরল । সিনিয়র যিনি ছিলেন তিনি পরীক্ষা শেষে নতুনদেরকে জানালেন আমি প্রেগন্যান্ট ছিলামনা । তাদেরকেও শিখিয়ে দিলেন কিভাবে এই পরীক্ষা করতে হয় । অশরীরি আমি দুমড়ে মুচড়ে গেলাম । হায় হায় আমি একি করে বসলাম । যে ভয়ে আমি সুইসাইড করলাম, সেটা ঠিক ছিলনা !! আমি স্তব্দ হয়ে গেলাম । এরপর তারা আর কি কি পরীক্ষা করল, কি রিপোর্ট দিল কিছুই আমার মনে নেই । আমি আমার লাশের সাথে এই বাড়িতে চলে আসলাম । পুলিশের গাড়িও আসল । চাচা ক্ষমতাবান মানুষ, সরকারের বড় কর্তা সব সামলে নিলেন । আসলে আমার মরনেত কারো কোন দোষও নেই । মামা কে খবর দেয়া হল , মামা চিতকার করে কাঁদলেন, আমি ফোনে তার কান্না শুনতে পেলাম । এসব কিছুই আমাকে ছুয়ে গেলনা । অশরীরি আমি, নিজেকে আবারও খুন করতে ইচ্ছা হল নিজের অমন কর্মের জন্য । লাশ এ্যাম্বুলেন্সে করে মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হল, সাথে ড্রাইভার গেল, চাচা গেলেন ।

আমি অশরীরি, ভাবলেশহীন ভাবে এই বিল্ডিং এ ঘুরে বেড়াতে লাগলাম, নিজের চেনা জায়গাগুলোতে ঘুরতে লাগলাম, এমন ভুল আমি করেছি যার থেকে পরিত্রানের আর কোন উপায় নেই । কিন্তু আমি এমন কি করে হলাম তাও আমার জানা নেই । আমি যে অন্য এমন কোন আরও আশরীরি দেখেছি তাও না । আমার জগতে আমি একদম একা নিঃসঙ্গ । কেন আমি এমন জীবন পেলাম আমার জানা নেই । নিজে নিজেই ভাবলাম এইটা হয়ত পাপের শাস্তি । আমাকে এইভাবেই থাকতে হবে ।

বেশ কয়েকদিন বাসার সবারই মন খারাপ ছিল, আমারও তাই । এই শাস্তির জীবন নিয়ে এই ছাদে বসে থাকি, আমাকে কেউ দেখতে পায়না, আমি সবাইকে দেখতে পাই । আমি পরে টের পেলাম আমি চাইলেই কেবল কেউ আমাকে দেখতে পারবে, তাও কেবল রাতের বেলায় , দিনের বেলায় আমার অস্তিত্ত্ব কেউ বুঝতে পারেনা, আমিও আলোতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করিনা । সে সময়টুকু কম আলো আছে এমন জায়গায় চুপচাপ বসে কাটিয়ে দিই । ইচ্ছে হলে অনেককে ভয় দেখিয়ে মজা করতে পারতাম । কিন্তু নিজের ভুলের জন্য আমি নিজেকেও ক্ষমা করতে পারিনি এখনও । একটা টেস্ট করলেই আমি জানতে পারতাম প্রেগন্যান্ট ছিলাম কিনা, সেটা না করে নিজে নিজেই আমি সব কিছু শেষ করে দিলাম । এই কারনে আমি কখনও কাউকে কোন ভয়ভীতি দেখাইনি । কারো উপর একটু বিরক্ত হলে তাকে হালকা ভাবে নিজের উপস্তিতি জানান দিয়েছি, তাও কেবল শব্দ করে । এতেই অনেকের জীবন যায় যায় অবস্হা, দেখে আমার মাঝে মাঝে মজাই লাগে । কি করব, আমারতো আর কোন কাজ নেই ।

একসময় সব স্বাভাবিক হয়ে এল, আমি আর কারো কোন কিছুতেই রইলামনা, মাঝে মাঝে আম্মা বাসার বুয়ার সাথে আমাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, যার বেশীরভাগ জুড়ে থাকে তিনি কি মহান একটা কাজ করছিলেন আমাকে পালনের মাধ্যমে । কপাল খারাপ তার, তিনি আমাকে বিয়েটা দিতে পারলেননা । এখন সারাদিন বিল্ডিং এর এদিকওদিক ঘুড়ি আর মানুষের কথা শুনি । আপনাকে জানিনা কি কারনে আমার ভাল লেগেছিল, তাই হঠাত করেই ভাবলাম, আপনাকে দেখা দিব । তাই শুরুতে একটু মজাও করেছিলাম ।
আমি মরে যাবার পর ছয়মাস পার হয়ে গেছে । আমি নেই তাতে এই পৃথিবীর কিছু যায় আসেনি । অবশ্য এটা কেবল আমার জন্য না, সবার জন্যই সত্যি, কেউ না থাকলে তার জন্য এই পৃথিবীর কিছুই যায় আসেনা । এক সময় বাধ্য হয়েই সব নরমাল হয়ে যায় , আর সে জায়গায় যে আমার আপন বলতে কেউ নেই তার অভাব বোধ করার ও কেউ ছিলনা । আম্মার এখন যে স্বভাব দেখছেন, তখনও তাই ছিল । এটা আর কোনদিনও বদলাবেনা । তার যন্ত্রনায় কোন ড্রাইভার দারোয়ান থাকতে পারেনা । চাচা এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন । কারন উনি কিছু বলতে গেলেই আম্মা অকথ্য ভাষায় চিতকার চেঁচামেচি শুরু করে দে্য়। দারোয়ান আসে, দারোয়ান যায়, ড্রাইভার আসে, ড্রাইআর যায় । যে ড্রাইভার আমার লাশের সাথে গিয়েছিল সে চলে যাবার পর বেশ কিছুদিন কোন ড্রাইভার ছিলনা , গাড়ি গ্যারেজে পরে থাকত । ছেলে মেয়েরা এইটা নিয়ে খুবই ক্ষ্যাপা ছিল ।

হঠাত একদিন আম্মার মোবাইলে আশরাফুলের নাম্বার থেকে একটা কল আসল , দুবার রিং হবার পরেই সে কেটে দিল । সে হয়ত পুরোপুরি সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারেনি । মিসকল দেখে আ্ম্মাই কল ব্যাক করলেন । যখনই বুঝলেন ঐ প্রান্তে আশরাফুলই আছে, তিনি তার মুখের তালা সরিয়ে নিলেন । মনের সুখে, মনের শখ মিটিয়ে আশরাফুলের উপর শাপশাপান্ত করতে লাগলেন । আমার সাথে আশরাফুলের কিছু ছিল এই ধরনের কোন কিছু আসলে কারো কল্পনাতেও আসে নাই । মোটামুটি আমিত পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই ছিলাম । সুতরাং দারোয়ানের সাথে আমি কোন সম্পর্ক করতে যাব এটা তারা ভাবার কোন কারন ছিলনা । সম্পর্ক কি আর আসলে বলে কয়ে হয় । কিংবা আমি যেখান থেকে উঠে এসেছি সেখানের একটা মেয়ের দারোয়ানের সাথে সম্পর্কও নরমালই ছিল হয়ত আমার কাছে ।

আশরাফুল চাল্লু ছেলে, আমার ব্যাপারে সে ড্রাইভারের কাছ থেকে সব শুনলেও আম্মার সাথে এই ব্যাপারে কোন কিছুই জিজ্ঞেস করেনি সে । গালাগালি শেষে আম্মা নিজে থেকেই তুললেন । বেশী কথা বলা মহিলাদের ক্ষেত্রে যা হয় আর কি । একসময় গালাগালি শেষ হয়ে যায় কিন্তু তাদের কথা বলার নেশা শেষ হয়না । অযথা পেঁচাল পারায় তার জুড়ি মেলা ভার । দেখবেন ভাড়াটিরা কেউ সহজে তার সাথে সালাম এর বাইরে কোন কথা বলতে চায়না নরমালি । কারন কথা শুরু করলে আপনার অফিস টাইম পার হয়ে যাবে । কাঁদো কাঁদো গলায় তিনি আশরাফুলকে আমার মৃত্যু সংবাদ জানালেন, কি করে ছাদ থেকে পড়ে গেছি সেটা এখনও তার মাথায় ঢুকেনা এটাও জানালেন । আশরাফুল হা হুতাশ করল এমন করুন সংবাদে ।

তার কিছু ভাল লাগতেছিলনা, দুনিয়া দারিও অসহ্য লাগতেছিল, বিদেশ যাবার জন্য তার বাবার কাছে টাকা চেয়েছিল, সেটাও পায়নি । তাই নাকি জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে সে পালিয়ে গিয়েছিল । এখন সে কক্সবাজার আছে, সেখানের এক হোটেলে চাকরি করে । সে এই ফাঁকে ড্রাইভিং ও নাকি শিখে ফেলেছে । আম্মাকে আশরাফুল তার নতুন জীবনের গল্প শুনাল বেশ কিছুক্ষন । আম্মাও সেসব বিশ্বাস করে হজম করলেন ।

কথায় কথায় আশরাফুল জানতে চাইল গাড়ি কেমন চলছে, এখনকার ড্রাইভারটা কেমন, দারোয়ান ঠিকমতন ডিউটি করে কিনা , বিল্ডিং এর সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা । প্রথম পর্বে আশরাফুলকে গালাগালি করলেও এইবার আম্মা আরেকদফা নতুন করে গালাগালি করার সুযোগ পেয়ে গেলেন । মানুষকে গালাগালি করে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মাঝেই তিনি সব আনন্দ খুজে পান । গালাগালি করতে পারাটাই তার মাঝে তিনি একটা বিশাল কিছু এই অনুভব এনে দেয় । যেহেতু তিনি যাদেরকে গালাগালি করছেন তারা কেউ তার কথার জবাব দেয়না, তখন তার গর্ব আরো বেড়ে যায় । আম্মার এই স্বভাব এর কারনটাও আমি জানি ।

চাচা যখন আম্মাকে বিয়ে করেন তখন তিনি গ্রামের স্কুলে ক্লাশ এইট শেষ করে মাত্র নাইনে উঠেছেন । বিয়ের পরপর চাচার সাথে চলে আসলে তার আর লেখাপড়াও হয়ে উঠে নাই । তিনি নিজেও এটার কোন প্রয়োজন বোধ করেন নাই । বাচ্চা কাচ্চা জন্ম নেবার পর তিনি তাদেরকে মানুষ করার কাজেই মনোযোগী ছিলেন । সমস্যা শুরু হল যখন থেকে তারা কোয়ার্টারে বসবাস করা শুরু করলেন । দেখা গেল সেখানকার অধিকাংশ মহিলারাই আম্মার চেয়ে বেশী শিক্ষিত । কথায় কথায় একে অন্যের পড়ালেখার দৌড় কতটুকু সেটা জানতে চাইতেন ।যদিও এসএসসি পাশ না করেও কেউ যেমন ঘরের বউ ছিলেন, বিএ পাশ করারাও তাই । তবুও বিএ পাশ ওয়ালাদের আলগা একটা ভাব ছিল, ঘরে বসে থাকলেও তারা বিএ পাশ , চাইলেই যে কোন স্কুলে তারা চাকরি করতেই পারে , যেহেতু তাদের জামাই বড় কর্তা তাই তারা বসে বসে খায় । আম্মার জামাই বড় কর্তা হলেও আম্মা নিজে এইখানে কম যোগ্যতার হয়ে পড়েন । নানা ইস্যুতে অনেকেই আম্মাকে তিনি যে লেখাপড়া জানেননা এইটা মনে করিয়ে দিত ।

কোয়ার্টার গুলাতে যেহেতু অনেক ধরনের মানুষ থাকত, এইখানে কুটনামি করার লোকেরও অভাব ছিলনা । দেখা গেল কেউ একজন বাসায় আসছে, সে অন্য আরেকজনের নামে কূটনামি করে গেল, যাবার সময় বলে যাবে, ভাবী ঐ ভাবীর কথা আর বলবেননা, নতুন আসা অমুক ভাবীকে সে বলেছে আপনি ঠিকমত কথা বার্তা বলতে পারেননা, আপনি স্কুলের গন্ডীও পার হননি । আপনি এইসব গায়ে মাইখেননা ভাবী, কার কথায় আপনার কি আসে যায়, হালকা মলম লাগিয়ে তিনি প্রস্হান করতেন ।

এইদিকে আম্মা বাসায় আগুন লাগিয়ে দিত । ছুটা বুয়ার উপর গালাগালির বন্যা বয়ে যেত । অন্যবাসার বুয়াদেরকে সিঁড়িতে দেখলে অযথাই তিনি সে বাসার মহিলাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন , যেটা নিয়ে পরে আরেক দফা ঝগড়াঝাটি হত । যদিও সেসব তখন আর তিনি পাত্তা দিতেননা । বুয়াদের সাথে চিতকার করার ফলে তিনি একটা জিনিস বুঝে গেলেন, অধীনস্ত লোকজনকে যতই খারাপ কথা বলা হউক তারা পাল্টা কিছু বলবেননা । সুতরাং এইটা হয়ে গিয়েছিল তার রাগ কমানোর উপায় । যেকারনে এখনও তিনি এ অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেননি, দারোয়ান ড্রাইভার বুয়াদের সাথে সবসময় হাউকাউ করেই যাচ্ছেন ।

আশরাফুলের কথার উত্তরে আম্মা তাকে জানালেন এই মুহুর্তে কোন ড্রাইভার নেই, বিশাল বদ ছিল সে ড্রাইভার, তেল চুরি করত সে অথচ গাড়ি চলে সবসময় গ্যাসে । এইভাবে আম্মা বেশ লম্বাসময় ঐ ড্রাইভারের দোষের বর্ণনা করে গেলেন । দারোয়ানটা মাত্র নতুন এসেছে তাই তার বিপক্ষে তেমন কোন বড় এজেন্ডা এখনও তিনি দাঁড় করাতে পারেননি । কোন ড্রাইভার নেই শুনে আশরাফুল হালকা করে আম্মাকে টোপ গিলিয়ে দিল, আম্মা তার অতীত কে ক্ষমা করে একটা সুযোগ দেয়ার সিন্ধান্ত নিলেন ।


আম্মা তাকে তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আসতে বললেন । ছেলে মেয়েদের ড্রাইভারহীনতা নিয়ে নিত্য অভিযোগের কারনে এমনিতেই তিনি কোনঠাসা অবস্হায় আছেন । আশরাফুল যেন তার জন্য স্বস্তি হয়ে আসছে ।
আশরাফুলকে আবার এই বিল্ডিং এ ঢুকতে দেখে আমি হতবিহবল হয়ে যায় । তার সাহস আর কোন কিছুই হয়নি এমন আচরন দেখে রাগে আমার গা জ্বলে যায় । আমি একটা মানুষ ছিলাম, যার সাথে তার গভীর প্রণয় ছিল এ ব্যাপারটা মনে হয় সে নিজেও ভুলে গেছে । আম্মাকে সে আমার ব্যাপারে একটা কথাও জিজ্ঞেস করেনি । আম্মা গাড়িতে বসে মাঝে মাঝে আমার কথা তুললেও সে হু হা বলে কথা অন্য দিকে নিয়ে চলে যায় । যতক্ষন সে বিল্ডিং এ থাকে আমি প্রথম দিকে তাকে ফলো করতাম । ইদানিং সে ছাদে উঠলেও আগে সে ভুলেও ছাদে উঠতোনা । মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছাহত ওকে ব্যাপক ভয় দেখায়, যাতে তার মুখ দিয়ে কথা বলায় বন্ধ হয়ে যায় । পরে আবার ভাবি থাক, কি লাভ হবে তাতে, এই দুনিয়ার কোন কিছুতেই এখন আমার আর কিছু যায় আসেনা । আমার ভুলে, আমার দোষেই আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছি । ঠান্ডা মাথায় সমাধান না করে আমি পাগলের মত কাজ করেছি, যদিও এর পেছনে হারামজাদাটার পালিয়ে যাওয়া অনেকাংশে দায়ী । তবুও থাক এখন আর ওসব ভেবে কি হবে ।

একসময় ওর দিকে আর তাকাতামইনা । এরপর দেখলাম আপনার আগে এই ঘরে আরেকটা ছেলে ভাড়া নিয়েছিল । সে ছেলের সাথে কথা বলতে বলতে আশরাফুল মাঝে মাঝে ছাদে আসত । ও কি নির্বিকার ভাবে ছাদে হেঁটে সিগারেট খেত । আমার গা জ্বলে যেত । যেহেতু কাউকে ভয় দেখাবোনা ঠিক করেছি তাই ওকে আমি কিছুই করিনি । ওর ছাদে উঠাটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম । ইদানিং আবার আপনি আসার পর দেখি সে ছাদে আসতেছে । আমি ঐ ছেলের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চুড়ির শব্দ করতাম, ছাদে হাঁটার শব্দ করতাম । ছেলেত ব্যাপক ভয় পেয়ে গিয়েছিল । আশরাফুলকে জানাল সে এসব কথা, আশরাফুল উল্টা তাকে বলে দিল সে গাজা খেয়েছে নাকি । ছেলেও নিজের ভ্রম ভেবে প্রথমদিন আর কথা বাড়ায়নি । এরপর আরো কয়েকদিন এমন করলাম, দরজায় টোকাও দিলাম । তারতো জীবন যায় যায় অবস্হা ।

একদিন নিচে আম্মাকে পেয়ে সে ঘটনা জানাল । সেখানে আশরাফুলও ছিল । আম্মা ছেলের কথা বিশ্বাস করলেন । বললেন এমন হওয়া অস্বাভাবিক না, আমার বাসায় একটা মেয়ে ছিল, সে ছাদ থেকে পরে মারা গেছে, তার আত্মা হয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছে । তুমি সাবধানে থাক, মনে হয়না ভয়ের কিছু আছে । এই বলে আম্মা আশরাফুলকে বললেন হুজুরকে খবর দিতে, দোয়া দরুদ পড়ে বাড়ি বনধ করতে হবে । আশরাফুল হুজুরকে ডেকে নিয়ে আসল ঐ দিনই । ঐসময় কয়দিন ইচ্ছা করেই আর কিছু করি নাই । আশরাফুল তখন কিছুদিন ছাদে উঠা বন্ধ করে দিয়েছিল ।

সময় বয়ে যায়, আমি পরে থাকি আঁধারে । এরমাঝে একদিন শুনলাম আশরাফুল বিয়ে ও করে ফেলেছে । আমার কিছুই মনে হয়না, এই খবর শুনে । করারইত কথা কিংবা না করার ওতো কোন কারন নেই । বাড়িতে যাবার পর নাকি তার পরিবার বিয়ে করিয়ে দিয়েছে । মরে গিয়ে এই জীবন পাবার পর আমার মনে হয়েছে আশরাফুল আসলে আমাকে বিয়ে করার কথা সাহস করে কোনদিনও আম্মাকে কিংবা চাচাকে বলতে পারতোনা , এই সাহসই তার হতোনা । আম্মা কিংবা চাচাও এইটা মেনে নিতেন বলে মনে হয়না । আমাকে তারা অন্তত আশরাফুলের চেয়ে ভাল ছেলের কাছেই বিয়ে দেবার চেস্টা করতেন, হয়ত বেঁচে থাকলে পারতেনও । পরিচিত অফিসে ছোটখাট চাকরি করে এমন কারো কাছে বিয়ে দেয়া খুব বেশী কঠিন কিছু হয়ত হতোনা । কিছুদিন পর আশরাফুল দেখি এই বিল্ডিং ছেড়ে কাছাকাছি কোথায় যেন বাসা ভাড়া নিয়েছে । বউকেও সাথে করে নিয়ে এসেছে । আম্মা একদিন তার বউকে আনতে বললেও সে কখনো আনেনি । আমার ধারনা সে ভয়ে এই কাজটি করেনি । আমার আত্মা আসলেই এই বাসায় ঘুরে বেড়ায় কিনা এই বিষয়ে সে সন্দিহান, তার বউকে নিয়ে আসলে যদি আমি কোন ক্ষতি করি তাই সে ভুলেও এই কাজটা করেনি, সামনেও করবেনা ।

কতগুলো সিগারেট খেয়েছেন আপনার হিসেব আছে ? যান আর খাওয়া লাগবেনা, এই হচ্ছে আমার গল্প । কিন্তু অফিসে যাবেন কিভাবে, একটু পর ইত সূর্য উঠে যাবে , না ঘুমিয়ে অফিস করবেন কিভাবে ।

আজকে আর ঘুমাবোনা, একটু পরে ফ্রেশ হয়ে অফিসে চলে যাব । ঘটনাবহুল গল্প তোমার, কাউকে বললেওতো বিশ্বাস করবেনা ।
হুমমম তা ঠিক, বিশ্বাস করার কোন কারনইতো নেই । আর কোন অশরীরির দেখাত আমিও পেলামনা ।

এক কাজ করেন, আপনি কতক্ষন বিশ্রাম নেন না হয় হালকা ঘুমিয়ে নেন ।
কেন তুমি কই যাচ্ছ !
আমি কোথাও যাওয়া লাগবেনা, একটু পর আলো ফুটলে এমনিতেই আমাকে আর দেখতে পাবেননা ।
হুমম তা ঠিক, তুমি কি করবা এখন ।
দেখি কোন এক নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে বসে থাকব ।
এক কাজ কর, তুমি আমার বাসায় থেকে যাও ।
না....আমি আমার মত করে থাকতে চায় ।
আচ্ছা ঠিক আছে ।
ওকে আপনি বিশ্রাম নেন...........




সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। বিদায় পঙ্কজ উদাস

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১৩



চান্দী জ্যায়সা রঙ্গ হ্যায় তেরা
সোনে জ্যায়সে বাল
এক তূ হী ধনবান হ্যায় গোরী
বাকী সব কাঙ্গাল


৭০ দশকের শেষে পঙ্কজ উদাসের এই গান শুনতে শুনতে হাতুড়ি বাটালের মূর্ছনা এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির ক্যাবিনেট পদত্যাগ করেছে।

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:০৬



মনে হয়, আমেরিকা চাপ দিচ্ছে প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির নতুন ক্যাবিনেট গঠন করতে। আমেরিকা কি করার চেষ্টা করছে, তা পরিস্কার নয়; পুরো ফিলিস্তিনে কেহ এখন আর প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটিকে বিশ্বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কার্ড

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:১৫


তার সাথে আমার যখন দেখা হয়েছিল, তখনও এই শহরে মেট্রোরেল আসে নি। লোকাল বাসে করে যাতায়াত করি মিরপুর-মতিঝিল-মিরপুর। ক্লান্তিকর। সেদিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সরাসরি মতিঝিলের বাস পাই নি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায় লিখলে হয় সস্তা-দরের লেখক!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭


ওপার বাংলার কথাশিল্পী সমরেশ মজুমজারের সাথে হুমায়ূন আহমেদের বেশ খাতির ছিল।তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্রের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
তবে আমার মত ভিন্ন; আমি মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার উচিৎ মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাওয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৭



কিছু হলেই অনুভূতিতে আঘাত, পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেলো গেলো; মেরে ফেলো, কেটে ফেলো, পুতে ফেলো এসবই হচ্ছে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর মনোভাব। সময় এসেছে এসব সেন্টিমেন্টাল জনগোষ্ঠীর অনুভূতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×