somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের জন্যকবিতা

০৫ ই জুন, ২০০৬ বিকাল ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের জন্য

যদি বাঁচতাম আর একটু, আর খানিকটা বেশি এই
বিমূর্ত আলো আঁধারিতে
যদি আরো খানিকটা ধরে রাখতে পারতাম আমার
সিদ্ধান্তহীন পতঙ্গ প্রকোষ্ঠটিকে
জোর করে স্বতস্ফূর্ত ক্রোধে
আমার কোষে, মগজে, লেখনীর শেষ রক্ত বিন্দুতে

যদি আমার কান্ত ভ্রূণে তৈরী হোত আরো কয়েকগুচ্ছো সক্রিয় জায়গোট
তবে সুখী হতাম বয়স্ক জরায়ুর সফল মাতৃডিম্বের মত
তখন, হয়তো আমি ছুটে যেতাম তোমার মেদহীন নালীকা দিয়ে
শেকড়হীন ঘুড়ি হয়ে, দূরে বহুদূরে নিজের সমাপ্তির কাছে
হয়তো নির্ভার হতাম তোমার দেয়ালে আচম্কা ধাক্কা খেয়ে

যদি শক্ত মাজার ট্রাককে নিজের ভবঘুরে কশেরুকার ঠেলায়
সরিয়ে দিতে পারতাম তোমার রোমকূপের কাছে
আরো একধাপ গভীরে, সনি্নবেশিত নিবিড়ে
যদি আর খানিকটা, আর একটুখানি সময় চোখজ্বলা রোদের মত
বসে থাকতে পারতাম তোমার ারীয় লবনে
তবে হয়তো সুখী হতাম, কিছুটা বেদনার্তও হয়তো হতাম
হয়তো গগনবিদারী প্রসবে বিস্ফোরিত হোত
আরো একটা অন্ধকার এন্ড্রোমিডা
হয়তো শ্রান্তির পরিমাপক মিটারে নেমে আসতো
আমার আদিম অজনন সৌন্দর্য্যের ুধা

যদি আরেকটি আর একটিমাত্র লালচে দগদগে ত গজিয়ে উঠতো আমার
বিপণ্ন আলোহীন সড়কে; প্রতিবাদহীন কোনএক মাঝরাতে
মাথার কাছে, কানের প্রতিরোধহীন গহব্বরে যদি
ভনভন করতো রাস্তার হলুদ ঝোলের আর একটি গনগনে মাছি
অথবা কখনো ছুতে না পারা তরুনীর স্তনবৃন্ত যদি শুঁকে যেতে
পারতো আমার ীণ হয়ে আসা কুষ্ঠ দৃষ্টি
তাহলে হয়তো আমি ব্যাথিত হতাম নুয়ে পড়া শিশ্নের মত
হয়তো ব্যার্থ লভেদে আরেকবার নুয়ে পড়তাম দামী পতিতার প্রশস্ত ত্রিভুজে
হয়তো আমাদের বিষণ্ন বলয়ে তৈরী হতে পারতো আরো কিছু বিফলতার গান
যদি আর একবার আর একটি ব্যার্থ বারের মত গেঁথে যেতে পারতাম
সভ্যতার ছিপ ফেলা অথৈ পুকুরে
মাংশল মাছ হয়ে অথবা অগণন শেওলার কোন এক প্রজাতি হয়ে
নির্বিকারে, নিস্তরঙ্গ নিশ্চিত সমর্পণে
তাহলে আমি হয়তো খুঁড়তে পারতাম আরো একটি অকর্ষিত জমি
তোমার প্রশ্নাতীত নিবের্াধ বন্ধনে
হয়তো কান্তিতে শ্রান্তিতে নির্বিকার হতে হতে ঘর ভরিয়ে তুলতাম
উচ্ছিষ্ট মলভান্ড দিয়ে; স্থুল,কান্ত,অবদমিত প্রতিবাদে

যদি মুমূর্ষু হয়ে পড়ে থাকতে পারতাম আর কিছুণ, আর খানিকটা সময়
এই বিমূর্ত আলোঅাঁধারিতে
এমনকি বাতিল পতঙ্গ পদ্য হয়েও যদি উড়ে বেড়াতে পারতাম
অপেমান অসহায় সেনানিবাসের ছত্রাক দেয়ালে
তাহলে হয়তো কিছুটা তৃপ্ত হতাম আত্মহননের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করতে পেরে
হয়তো এতেই হতে পারতাম একজন দার্শনিক কাক

যদি আর খানিকটা আর একটুখানি সময় বিচরণ করতে পারতাম
এই নি:সঙ্গ চিত্রকল্পলোকে
নিজের শ্লোকগুলোকে নিরন্তর আউরে তোমার নাভীতে দুর্মর নাক ঘষে
অথবা নিজের একান্ত অনুরণনকে তোমার ভ্রান্ত দু:স্বপ্নে পিষে
তাহলে হয়তো ঝুলতে থাকতাম আমাদের নতুন হাইব্রিড সম্পর্কের মাঝামাঝিতে
কন্ঠনালীর মাঝে আটকে থাকা টকটক ঢেকুর হিসেবে
হয়তো এতেই পূর্ণতা পেত আমার তিক্ত জ্বলে ওঠা
হয়তো এতেই সমাপ্ত হত আমার রিক্ত মরে যাওয়া

যদি আর সামাণ্যতম সময়ের ছাড়ে
অনিবার্যতার দিকে পিঠ দিয়ে, স্তব্ধ হয়ে যাওয়া থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে,
লিখে উঠতে পারতাম এই সমাপ্তিহীন পদ্যটি
তাহলে পদ্যটিকে হয়তো বানাতে চাইতাম একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা
হয়তো নিজেকে টেনে টেনে ওঠাতে চাইতাম আরো কয়েকটা অর্থহীন আনন্দময় ধাপে
লাঞ্ছিত, দন্ডিত অজানা অপরাধে
অথবা, হয়তো বিমুর্ততা আর কল্পলোককে জমে ওঠা জঞ্জালের মত ছেঁটে
তোমার হাত ধরে নগ্নতার পথে যেতাম উলঙ্গ ছুটে

যদি আর কিছুটা; কেবলই কয়েক মুহূর্ত,
সম্ভাব্যতার সকল সম্ভাবনাকে পুঁজি করে
থাকতে পারতাম এই নিসর্গ স্বপ্নলোকে
যদি আর কয়েকটি বিকেল ধরা দিত আমার বেদনার্ত আকাশে
যদি আর কয়েকটা সকালসৌরভশীৎকার পাওয়া যেত
আমার জংধরা বাতাসে
যদি আর খানিকটা সময় কাটতো এই সিদ্ধান্তহীন আলো অন্ধকারে
যদি আর কিছুটা; আর খানিকটা সময় বেঁচে থাকতাম তোমাকে ঘিরে,
তোমাকে নিয়ে, এই অনিবার্য আলো আঁধারিতে......
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচন ২০২৬

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আমায় তুমি বসন্ত দুপুর দিয়ো/বসন্তে ফুল ফুটবেই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৬

তোমার কি ইচ্ছে হয় না, আমায় দাও একটি =আমায় তুমি বসন্ত দুপুর দিয়ো=
তোমার কি ইচ্ছে হয় না, আমায় দাও একটি বসন্ত দুপুর
ইচ্ছে হয় না আমায় নিয়ে পায়ে বাজাতে পাতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইশো নয় আসন নিয়েও কেন অন্যদের বাসায় যেতে হচ্ছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×