ইদানীং আমাদের কানের কাছে যা একটানা বেজে চলে
বেড সাইড ল্যাম্প থেকে রট আয়রণের পায়া পর্যন্ত
একটা স্রোতস্বীণি ঝর্ণার মত
অবিরাম
তুমি কি মাঝরাতে লুকিয়ে ঘুম থেকে উঠে
দেখতে পাও একচিলতে চাঁদ
তোমার পায়ের কাছে বিষণ্ন বসে আছে
আর তার নাইট গাউনের লেস বেয়ে তোমার দিকে উঠে আসছে
একটা হলদে অজগর
তুমি কি বিছানার সুদূর প্রান্ত থেকে দেখতে পাও
বয়সের ভারে আমি ডুবে চলেছি কুষ্ঠের কেদাক্ততায়
অথচ অনন্তকাল ধরে আসছি তোমারই দিকে
আর ফুরিয়ে যাচ্ছে আমার দেহের নির্যাস
আমি ক্রমশ নিমজ্জমান
তুমি কি শব্দটা শুনতে পাও
আদিম সিম্ফোনীর মত বেজে চলেছে যা
একটা খটখট ঘঢ়ঘঢ় খটখট ঘঢ়ঘঢ়......
কখনো খুব তীব্র, স্নায়ু অবশ করা
যেন এক লহমায় ভেঙ্গে ফেলবে সব স্তব্ধতা
মনে হয় তুমি শুনতে পাও
না হলে কেন তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনা
কেন তোমার ওষ্ঠে ঢেলে দিতে পারিনা সুমধুর বিষ
কেন আমাদের চারপাশে বেজে চলতে থাকে
একটানা শীতল, প্রাণ নিস্তেজ করা সিম্ফোনী
তুমি কি জাননা শব্দটা ছড়িয়ে দেয় কবরের মত অন্ধকার
বিছানার দুপাশে কয়েকটা বরফ যুগ
মিলিয়ন বছর ব্যাপী প্রাণহীন, সূর্যহীন শুভ্রতা
যাতে চির সবুজের দেশ হয়ে পড়ে বিরান মরুভূমি
প্রজন্মশূণ্য চারপাশ আর কেবলই নি:শব্দ হাহাকার
তুমি কি শোননা শব্দটার দাম্ভিক হুংকার
তোমাকে কি সে স্পর্শ করেনা
নিশ্বা:সের কাছে জেগে ওঠে না কি তার থাবা
একটা ক্রমআগুয়ান স্পর্ধিত নখরের অাঁচ
জীবন্ত কিছু ভেঙ্গে পড়ার একটা নি:শব্দ অভিসম্পাত
তোমার কি ইচ্ছে করেনা মুছে ফেলতে এই নখরের উত্তাপ
গলিয়ে দিতে জমে ওঠা দূরত্বের ধারালো বরফের দেয়াল
বহুদূরে ছুড়ে ফেলে দিতে আগুয়ান হলদে অজগর
কুষ্ঠকে নরকে পাঠিয়ে দিয়ে মুক্ত করতে
অসহায় আমাকে?
তবে এস আমরা দুজনে কোন নতুন শব্দ করি
যাতে নড়ে ওঠে এই স্তব্ধ অনড় নৈ:শব্দ
যাতে মুছে যায় এই করুণ সিম্ফোনী
যাতে সরে যায় অশরীরি চাঁদের গ্রাস
এবং নতুন করে শব্দে জড়িয়ে ফেলি আমাদের
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




