somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বৃদ্ধ আধুনিকের সৎ স্বীকারোক্তি

২৮ শে জুন, ২০০৬ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন ধরেই পোষ্ট করব বলে ভাবছি
কিন্তু...আটকে ছিলাম। আমার বেশিক্ষণ আটকে থাকতে ভাল লাগে না তাই মধ্য অন্ধকারেই পোষ্ট করে ফেললাম।

একজন বৃদ্ধ আধুনিকের সৎ স্বীকারোক্তি

ইদানিং খুবই জরাগ্রস্থ বোধ করি, মনে হয় কয়েকটি উজ্জ্বল আলোকবর্ষ পার হয়ে
অবশেষে আটকে গেছি কোন বিষণ্ন কৃষ্ণগহবরে
মনে হয় দুর্মর অভিকর্ষের শক্তিশালী দুটি হাত টেনে টেনে বেঁধে রাখছে মহাজাগতিক
নিয়তির সাথে, এরপর আরো বৃদ্ধ হচ্ছি শান্তির নষ্ট স্তন পান করে

ইদানিং নিজেকে তারকাখচিত অবদমিত মনে হয়, যেন কোন অলৌকিক
অন্ধকারে নিজেকে সমর্পণ করে সুখ বোধ করি এবং প্রজননে প্রজননে
ভরিয়ে তুলি বিসতৃত ভাগার
যেন ফিরে ফিরে আসে নির্বোধ ক্যালিগুলা আর বাঁকানো মধ্যমা বাকিয়ে চুরিয়ে দেয় শয়ে শয়ে উৎপাদিত, তরল গলিত আবর্জনার আকার
দেখি সহসা সমাপ্ত বিচ্ছুরণের জ্যোতিকে ডাস্টবিনে ফেলে শূণ্যতা আর শিল্প
একসাথে নেচে ওঠে আবার

তাই ইদানিং বড় জীর্ণ আর জড় বোধ করি,
দেখি তরুণেরা তাদের সোনালী ধূসর আর সবুজ খননকে মাঠে ফেলে রেখে নির্বিকারে চুষে যাচ্ছে ফেলে দেয়া ঐতিহ্যের রঙ্গীন দু্যতিহীন শুষ্ক আইসক্রীম
দূর থেকে যদিও সবল মনে হয়, তবে আমিও মেখে চলেছি দরিদ্র খ্যাতি আর
নষ্টামীর মূল্যহীন মেধাহীন ক্রীম

ইদানিং নিজের অস্বচ্ছ আলোহীন মননে প্রায়ই ভেসে ওঠে কোঁচকানো ত্বকের
ঝুলে পড়া দেহের পাঁচহাত লম্বা কুচকুচে শিশ্নের ছবি
যেন আত্মরতি আর মধ্যযুগের যোণীকান্ত সময়ের নিজস্ব ওজনের দাবী

ওজনে কি হয়?
ওজনে কি প্রয়োজন মেটে? দৈর্ঘ্যে কি আলো হয়
ওজনে কি সৃষ্টি হয় যযাতি বা আমার কুঁড়ে ঘরে?
ওজনে কিছু নেই, ওজন নিজের ভারেই ভারী
ওজনে কেউ থাকেনি কেউ থাকবেনা
ওজন নিজের শুণ্যতার অনিবার্য অবিকাশের দাঁড়ি।

ইদানিং বহুব্যবহৃত বয়স্ক হাড়ের মত রুগ্ন অসহায় আর স্থুল বোধ করি
শঙ্কা হয় ক্রমঅগ্রসরমান শূন্য সময়ে আমি কি বইতে পারবো
অসহায় নিমজ্জনের ভার, নাকি কোলাহলময় কামার্ত যৌবনে প্রজ্জ্বলিত রবে
সৃষ্টিহীনতার নির্লজ্জ, কদাকার, গণহাহাকার

হাহাকারে কি হয়? হাহাকার তো ঐতিহ্য আর প্রথার ঐতিহাসিক গলাগলি
হাহাকার তো পলায়নে অভ্যস্ত বঙ্গীয় নগ্ন কানাগলি
হাহাকার তো মহাসড়ক ছেড়ে মলভান্ডে ঢোকার চীরকালীনতা পাওয়া বুলি
হাহাকার তো জ্যোতিহীনদের আত্মাহুতির প্রিয় পরিচিত চোরাবালি

ইদানিং খুবই ত্রস্ত বোধ করি, দেখি মূর্খরা নেচে নেচে বিস্ফোরিত করছে
নতুন মোড়কের পুরাতন সেনেটারী ন্যাপকিনগুলি, আমারই সহপাঠী আমারই সহগামী
যেন নিশে:ষিত তুলায় রক্তের পুনরায় আত্মাহুতি
মনে হয় আদিম অজনন জরায়ু হতে মাতৃকোষ বের করবার অহেতুক অশেষ গুতোগুতি
যেন শুণ্য ফুঁড়ে শুণ্যে ছড়িয়ে যাবার প্রাগৈতিহাসিক মাতামাতি

মাতামাতিতে কি হয়?
মাতামাতি শিশুতোষ কাঠি-লজেন্সের প্রশ্নহীন চুষে চলা
মাতামাতি চুষেচুষে নিষে:শ করে নতুন ব্র্যান্ডের খোঁজে চলা
মাতামাতি ছেঁড়া প্যান্টের জীপার খুলে পুনরাবৃত্তির কথা বলা

ইদানিং অত্যন্ত ধ্বস্ত আর শূণ্য বোধ করি যেন শব্দ আর রূপকেরা বিদায় জানিয়ে
ফিরে গেছে নিজনিজ নিদ্রার ঘরে
যেভাবে ফিরে গেছে অগনন আলোকেরা পরিণতির শেষ সূযর্াস্তের পরে
যেভাবে বিশ্রাম নিয়েছে পরিপক্ক প্রতিভারা শিল্পের কাঠামো অগ্রিম বুঝতে পেরে

তবে আমি কি ভবিষ্যৎমুখী?
জানিনা সদুত্তর, তবে এখন ভয়ানক দমিত আর জড় বোধ করি
তবে কি আমি অতীতমুখী,আমি কি আমার ফেলে দেয়া মলের উৎকৃষ্ট উদ্ধৃতি?
আমার কি আর বোধ অবশিষ্ট আছে? আমি কি কখনো মেধাবী বোধ করি,
আমি কি আদৌ কিছু করি?

ইদানিং প্রশ্নে খুব কান্ত বোধ করি
যেন প্রলম্বিত শিশ্ন আর ঝুলেপড়া তিনহাত জিহ্বা নিয়ে শুয়ে আছি নিজের
ছাইরঙ্গা মলে
যেন মাংশল মডেলেরা পদ্য আওড়াতে আওড়াতে চলে গেছে আমার দুর্বল অগ্নাশয়কে দলে
কেবল মনে পড়ে দিগন্তকে প্রজ্জ্বলিত করার দ্রোহে আমিও জ্বলে উঠেছিলাম একবার
এভাবে পরাস্তও হয়েছিলাম; অযুত নিযুত পেরিয়ে বারবার বহুবার



তবে আমি এখন নির্লজ্জ শ্রান্ত বোধ করি
সোনালী ডানার চিলেরা ভোরের ফ্যাকাসে চাঁদে ডেকে ওঠেনাতো আর
ইদানিং আসলে কিছুই বোধ করিনা আর
সবই মনে হয় শেওলা পড়া ইঞ্জিনের অসহায় বিমূর্ত চিৎকার
হাহাকারে কিছুই থাকেনা, মাতামাতিতে কিছুই থাকবেনা
চিৎকারে কিছু থাকে কি?
জানিনা
হয়তো জানার সুযোগ নেই আর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×