somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শরৎ চৌধুরী
কাট ইয়োর বডি এর্কোডিং টু ইয়োর ইমেজ

শুধু রাজাকার নয় রাজাকারতন্ত্রের লিগেসী

২১ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বাঙালী একটি বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি, অনেক কষ্টের বিনিময়ে কোন কিছু অর্জন করার পর সে ভুলে যায় কেন সে সেটি অর্জন করেছিল।" এই প্রবচনটি ড. হুমায়ুন আজাদের। বাঙালী জাতিসত্ত্বা ও আত্মপরিচয়গত বিদ্যমান সরল রেটোরিকের ফাঁদে না পড়ে যতগুলো তী্ন উচ্চারণ হয়েছে এটি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিষয়টা কেবল সাংস্কৃতিক উপলব্ধির তা নয় বরং সমাজ রাজনৈতিক বাস্তবতার যে বিদ্যমানতায় আমরা সবসময় বসবাসরত সেটির মৌল উপলব্ধিকে প্রবচনটি আমাদের সামনে প্রকাশ করে। একটি সরল ও আপাত স্বগতোক্তিসুলভ বাক্যসমষ্টি ইদানিং প্রায়শই নজরে পড়ে; "সেটি হল মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পর রাজাকার প্রসঙ্গে আর ঘাঁটাঘাঁটি করার কোন যৌক্তিকতা নেই।" বাক্যসমষ্টিকে খুবই গবেষণাসুলভরূপে দেখলেও বোঝা যায় যে বক্তা এমন একটি যৌক্তিকতাকে হাজির করার চেষ্টা করছেন যার আদতে কোন ভিত্তি নেই। এধরণের প্রস্তাবনার পিছনে যে খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়, তা হল এমন যে, আমাদের সব পুরোনো বিভেদ ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। দেশ গড়তে হবে এমন জাতীয় বাতুলতাও ল্যনীয়।

আদতে এর সবই বারবার মনে করিয়ে দেয় যে বাহান্ন, উনসত্তুর, একাত্তুর, একানব্বইয়ের বিভিন্ন ঘটনায় অর্থাৎ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির বিভিন্ন সময়ে বেড়ে ওঠার বিপরীতে রাজাকারতন্ত্রের লেগেসিকে। "এত বছর পর" জাতীয় শব্দগুলোর ব্যবহার দেখলে স্পষ্ট মনে হয় যে আমরা কোন ঘটনাকে অনেকদূর ছাড়িয়ে এসেছি। এই পুরো প্রক্রিয়া একটি বিভ্রান্তি তৈরী করে রাজাকার ও তাদের উত্তরসূরীদের মতা দখলের গতিশীল ধারাবাহিকতাকে কায়েম রাখতে চায়। শিবির, জঙ্গীবাদ এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে ধারাবাহিক সূত্রটিকে আড়াল করতে চায়। এেেত্র ইসলামের ব্যবহার একটি রাজনৈতিক আড়াল ও বিভ্রান্তির কৌশল মাত্র। যেটি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিৎ তা হল রাজাকার কেবল '71 সৃষ্ট একটি প্রপঞ্চ নয়। এর ইতিহাস আরো প্রাচীন। তবে যে মতাদর্শ, কর্মপরিকল্পনা ও ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে আমরা রাজাকারকে চিনি সেটির ধরণ এখন অনেক শাণিত, সূ ও শক্তিশালী। এরা ক্রমে রাষ্ট্র যন্ত্রের সবগুলো কেন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে সম হয়ে উঠছে।

ফলে যারা দাবী করেন এখন রাজাকার আলবদর আলশামস নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই তারা মানবতার প্রতি অপরাধকেই কেবল বৈধতা দিতে চাননা একইসাথে রাজাকারতন্ত্রের সামপ্রতিক কৌশলকে আড়াল করতে চান। কিন্তু আড়াল করতে যেয়েই আসলে তারা নিজেদের প্রকাশ করে ফেলেন। এটি কেবল একগুচ্ছো মানুষ নয় এটি একটি প্রতিষ্ঠান, যার সাথে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির যোগাযোগ খুবই স্পষ্ট। রাজাকারতন্ত্র আরেকটি ছদ্মাবরণও নেয় আর সেটি হল ধর্মীয় মোড়কে নিরপেতার প্রচার। এেেত্র গ্লোবালের সাথে লোকালের যোগাযোগের বিষয়টি অনেকেই উপো করে যান যদিও প্রতিটি েেত্র গ্লোবালের প্রতিনিধিত্ব এখানে উপস্থিত। সময়ের পরিক্রমায় কৌশলে ও শক্তিতে অন্য যে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাইতে এই রাজাকারতন্ত্র ক্রিয়াশীল। দৃশ্যমান যে দুই রাজনৈতিক শক্তিকে আমরা অনবরত কোলাহলরত দেখি এবং আশাকরি যে রাজাকারতন্ত্র আসলে এদের সাহায্য ব্যাতীত কিছু করতে সম নয়, সেটিও আমার মতে একটি সামপ্রতিক বিভ্রান্তি।

রাজাকারতন্ত্র শব্দটি শুনে মনে হতে পারে যে আমি মধ্যযুগের কোন গোষ্ঠীর কথা বলছি। আসলে এটি এমন একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ করে যেটি মতা দখলের জন্য অনেক হাইব্রিড পদপে নিতে সম। গোষ্ঠীবদ্ধতার বিশ্লেষণে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে সংগঠনের যে রুপ রাজাকারতন্ত্রে বিদ্যমান তা অন্যান্ন অনেক দলের মধ্যেই আছে কিনা।

2য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানী এখনো নাৎসীবাদের জন্য নিন্দিত হয় সারা বিশ্বব্যাপী এবং সেই ইতিহাসের জন্য ঝুঁকে থাকে মানবতার নৈতিক মানদন্ডে। তাহলে আমরা কি ভুলে যাব আমাদের ইতিহাস, আমরা কি পূর্বের রাজাকার এবং এখনকার রাজাকারতন্ত্রকে অস্বীকার করে একটা শান্তির নিদ্রা দেব? ধর্মীয় অনভূতিকে বারবার ব্যবহৃত হতে দেব মতা সমর্্পকের ডাইকোটোমি ? আমাদের এ সময়টি সচেতন হওয়ার। তা না হলে অচিরে এতটাই বিস্মৃত হব যে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের মুখকেই হয়ত চিনতে পারব না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×