আমাকে কেউ বলে দেয়নি
তবুও বুঝতে পারি এ শহরে আজ শোকের মাতম
যদিও রাস্তাঘাটগুলো অবিকল একই রকম
যেন গার্সিয়ার উপন্যাসের পুরোনো মাকোন্দ
আমাকে কেউ নিয়ে যায়নি সেখানে
যেখান থেকে শোনা যাচ্ছে একটা গুমোট হাহাকার
যেন অসংখ্য চিৎকারের রেশ এখনো রয়ে গেছে আকাশে
অত:পর নি:শব্দ শান্ত চরাচর
আমাকে একবারও কেউ কাছে ডাকেনি
কানের কাছে ফিসফিস করে জানায়নি বিরহতপ্ত মৃতের খবর
তবুও আমি বুঝতে পারি ঘটেছে এমন কিছু যা ছিল অভাবিত সকলের
দেখতে পাচ্ছি ফাগুনের হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে বিচ্ছিরি পোড়া গন্ধ
বৈশাখে শুকিয়ে গেছে সমস্ত সমুদ্র সৈকত
আর তৃষ্ণার্ত কাক পানি ভেবে খুঁচিয়ে চলেছে পিচ ঢালা মরিচীকা পথ
আমাকে কেউ বাধা দেয়নি
দালানের প্রহরীগুলো মাথা নিচু করে খুলে দিয়েছে প্রবেশদ্বার
আমি ঘরে ঘরে খুঁজে ফিরেছি পোঁড়া গন্ধের উৎস
অথচ পেয়েছি শুধু সাজানো আসবাব
আমাকে কেউ দেখিয়ে দেয়নি সঠিক পথ
বহুগামী পথচারীরাও থেকেছে নিরুত্তর
তবুও আমি ছুটেছি গুমট শব্দের পিছে
আর একে একে শেষ হয়ে গেছে আঁকাবাঁকা পথের মোড়
আমাকে কেউ বলে দেয়নি
তবুও বুঝতে পারি এখানে সবার বুকে শুধু শোকের মাতম
পুড়ে চলেছে জমে ওঠা শেকড়গুলো সব
মেঘেদের হাহাকার মাদলে শুরু হয়ে গেছে পোঁড়া গন্ধের ক্ষণ
অথচ আমাকে কেউ জানায়নি
কেন শব্দগন্ধগুলো নগরে বন্দরে ক্রমাগত দিচ্ছে হানা
কেন সতর্ক ঘন্টিটা থামছে না কিছুতেই, বেজে চলেছে নিরন্তর একটানা
আমাকে কেউ স্পর্শ করেনি
আমাকে কেউ আঘাতও করেনি
অথচ রয়ে গেছে দূরে
যেন ছায়ালীন হয়ে ছুঁয়ে আছে কেউ
আসলে রয়েছে সরে
অথচ সতর্ক ঘন্টিটা বেজে চলেছে বুকের ভেতরে খুব
বাতাসে মিশে গেছে ছায়াগুলো সব
অথচ চারপাশ নিশ্চুপ
এরপরও আমাকে কেউ বলে দেয়নি আমি এখানে কেন
শুধু দাঁড়িয়ে আছি মৃত শহরে
একাকী নির্বোধ যেন
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


