মঈন জালাল চৌধুরী নামে আমাকে চেনে এমন মানুষের সংখ্যা ওয়েব দুনিয়াতে বেশি নেই। শরৎ চৌধুরী নিয়েই সবাই যখন সন্তুষ্ট তখন সেটা নিয়ে বেশি হইচই করার কোন মানে দেখিনা। এছাড়া সহজ অনুমান হিসেবে সম্ভাব্য "হিন্দু" পরিচয়ের বিষয়টা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি বলে সেটাও নতুন কিছু নয়। মাঝে মাঝে নতুন ঘটনা যুক্ত হয়ে বরং সেটাকে আরো রঙ্গীন করে তোলে। এই যেমন ক'দিন আগেই, "শরৎ দা আপনি মানস দার ভাই নাকি?", "আমি তো আপনাকে পুরো অনার্স জুড়ে হিন্দুই ভেবে এসেছি।" এই জাতীয় কমেন্টে মজা পেলাম খুব। নাম এবং পূর্বানূমানের এই চর্চা ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক এটাতে আমি আক্রান্ত বোধ করিনা। বরং মাঝে মাঝে বেশ উপভোগ্য প্রতিক্রিয়া পাই, এই যেমন, ইন্ডিয়াতে পুরো ১০ দিন ঘুরে আসার পর একজন ইন্ডিয়ান যখন বিষ্ময়ে বলে, "ম্যায়নেতো সোচা থা আপ, ইন্ডিয়ান হো, আপকা নাম ভী সারাৎ হ্যায়"। কিংবা আর্ন্তজাতিক কনফারেন্সের বিদায়ী ডিনারে যখন প্রখ্যাত এক পাকিস্তানী সাংবাদিক বলে, "ইয়ে ক্যায়সি বাত হুয়ি, মুসলমান আদমী কা নাম হিন্দুয়ানী ক্যায়সি হুয়ী"। তখনো আমি রেগে যাই না বরং দু-পক্ষকেই বলি, আমি বাংলাদেশের-বাংলাভাষী-বাঙ্গালী। আর হ্যা, আমার পুরো নাম....।
এইসব প্রারম্ভিক ইতং বিতং এর সাথে পরের মূল বক্তব্যের কোন মিল পাওয়া যাবে কিনা, সেটা ঠিক নিশ্চিত হতে পারছি না। তাই মূল প্রসঙ্গে আসি। তিন বছর আগে ইন্দোনেশিয়া যাবার সুযোগ হয়েছিল। আমি তখনো রাষ্ট্রীয় ব্যাংক হিসেবে সোনালী ব্যাংক আঁকড়ে রয়েছি। আর আমার টাকাই বা কত। গরীব মানুষ। কারণ এক এটা ঘরের কাছে। আর সরকারী চাকুরে মা-বাবার কল্যাণে ব্যাংক বলতে এইসব ব্যাংকই বুঝতাম; সেটা কারণ নাম্বার দুই। তো এই ব্যাংক থেকে আমার ভিসার জন্য, কয়েক মাসের ব্যাংক ট্রান্সেকশন লাগবে, ফরেন কারেন্সী ঢুকবে, সেটা ঢোকার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনেক সময় লাগবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এদিকে ভিসার সময় এগিয়ে আসলেও ব্যাংকে কোন অগ্রগতি নেই। আমি তখন প্রাইভেট আর রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক নিয়ে আম্মাকে খুব একচোট শোনাচ্ছি। কিন্তু আমার সকল যুক্তি আশংকাকে মিথ্যা প্রমাণ করে, ব্যাংকের ম্যানেজার এবং আরো একজন নিজের উদ্যোগে আমার ব্যাংকের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দিলেন, তাও কোন বাড়তি ফী ছাড়াই এবং প্রাইভেট ব্যাংকের চেয়ে অনেক দ্রুত। ফলে সেবার আমার ঠিকই ইন্দোনেশিয়া যাওয়া হয়েছিল।
তিন কি চার সপ্তাহ আগের ঘটনা। সবেমাত্র বাসায় ফিরেছি। মা হাসিমুখে একটা বই এগিয়ে দিলেন এবং বললেন মুখবন্ধটা পড়। আমি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করতেই চোখ আটকে গেল, "মঈন জালার চৌধুরী" তে। আরে এটা কোথা থেকে আসলো? দ্বিতীয় লাইনে লেখক বলছেন, "একদিন কর্মক্ষেত্রে পরিচয় হলো মঈল জালান চৌধুরী নামে একজন যুবকের সাথে। তার সহায়তায় অন্তর্জালের (Internet) বিশাল জগতে নিজেকে আবিষ্কার করি। কবিতা লিখতে শুরু করি 'বাংলা-কবিতা' ব্লগের 'কবিতার আসরে'। আসরের অদৃশ্য বন্ধুদের তাগিদেই আজ প্রকাশিত হল-'দুঃখবোধের সরলতা'। তাই নিজেকে বলি-'ব্লগার কবি'।
আমি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইলাম। ভেবে পাচ্ছিলাম না কি বলব। একজন মানুষ যিনি আমার ব্যাংকের সমস্যার ক্ষেত্রেই কেবল সাহায্য করেছেন তাই না, তিনি কবিতার বইয়ের মুখোবন্ধেও আমার কথা লিখেছেন? আমি কি করেছি? আমি শ্রেফ তাকে ব্লগ জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার চেষ্টা করেছিলাম। সেও কয়েক বছর আগে। আমি তো সেটা ভুলেই গিয়েছিলাম।
কবীর হুমায়ূন নামক মানুষটি কিছুই ভোলেননি। আমরা প্রায়শই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে ভুলে যাই। আমিও করেছি। প্রায় একমাস পরে লিখছি। তবে এই সুযোগে কবীর হুমায়ূনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, সেটা ব্লগার হিসেবেও মানুষ হিসেবেও।
তার ব্লগের লিংক: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৯:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



