মার্ক হোবার্ট
ভূমিকা:
যুদ্ধ পরবর্তী (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ) সময়কালে আফ্রিকা, এশিয়া ও দণি আমেরিকার সাথে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সম্পর্ককে যে ভাষায় প্রকাশ করা হয় তা হল উন্নয়নের ভাষা। উন্নয়ন এমন একটা কিছু যা ভুল বা অযথার্থ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়। যদিও এই উন্নয়নের ধারনাই অনুন্নয়নের সমস্যা হিসেবে বর্ণিত বিষয়গুলোর সমাধান খোঁজার চেষ্টায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগকে সম্ভব করে তুলতে পেরেছে। এদিকে উন্নয়ন পরিকল্পনাকারীদের বিভিন্ন পদপে অনুযায়ী পরিস্থিতি আরো ভালো হওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্ট পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।
আর এধরনের উন্নয়নের যে বৃহৎ অংশটি অনুদঘাটিত থেকে যায় তা হল এেেত্র পশ্চিমা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বিভিন্ন ভূমিকার কথা। এই প্রক্রিয়ায় স্থানিক জ্ঞান কেবলমাত্র উপেতি বা বাতিল হয়ে যায়না বরং বৈশিষ্ট্যগত/প্রকৃতিগত অর্থেই অনুন্নয়নের সমস্যা ও এর সমাধান বিশ্ব নিয়ন্ত্রণকারী পশ্চিমা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলোকেই সংজ্ঞায়িত হয়। নৃবিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরেই সেই দলে যারা প্রশ্ন করেন যে এই ধরণের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান আদৌ অতটা কার্যকরী ও সর্বধারণম কিনা যা এর প্রস্তবনাকরীরা দাবী করেন। আর তাই এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে আলোচ্য বইয়ের বিভন্ন প্রবন্ধ লেখকেরা যারা উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের কার্যকারীতা নিয়ে সমালোচনামস্ক বা প্রশ্ন তোলেন তারা সকলেই নৃবিজ্ঞানী। আলোচ্য লেখার উদ্দেশ্য উন্নয়ন সমস্যার কোন সমাধান দেয়া নয় যা অনেক আগে থেকেই বেশ
বিভ্রান্তিকর। উন্নয়ন শব্দটি কার্যকরভাবেই কম বা বেশি একটি পরিকল্পিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সমার্থক। তাই উন্নয়নকে একটি সমাধানম/যোগ্য সমস্যা বা এমন একটি শারিরীক অবস্থা যা নিরাময়ের অপোয় রয়েছে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা বেশ সমস্যাজনক হতে পারে। আলোচ্য প্রবন্ধগুলোতে আমরা দেখব যে লেখকেরা সেইসব পূর্ব-ধারণাগুলোকে প্রশ্ন করছেন যেগুলিকে ঘিরে উন্নয়নের অধিকাংশ আলোচনা আবর্তিত হয় এবং তারা বৈজ্ঞানিক ও স্থানিক জ্ঞানের সম্পর্ককে চর্চাগত অর্থে উদ্ঘাটন করছেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



