যতই পদ্ধতিগত জ্ঞান বৃদ্ধি পায় ততই "অজ্ঞানতার" সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদিও অজ্ঞানতা জ্ঞানের সরল বৈপরীত্য (এন্টিথিসিস) নয়; এটি এমন একটি অবস্থাকে নির্দেশ করে যা মানুষ অন্যকে প্রদান বা আরোপ করতে পারে এবং যা নৈতিক বিচারবোধ-পূর্ণ। তার তাই অনুন্নত হওয়ার অর্থ প্রায়শই এমনটা দাঁড়ায় যে, যদি এটা প্রকৃত অসমতা নাও হয় অন্তত নির্বোধতা, ব্যার্থতা এবং অলসতা বা নিষ্ক্রিয়তা।
কিছু প্রারম্ভিক পর্যবেণ:
যেহেতু বিদ্যমান রেটোরিকে উন্নয়ন, দরিদ্র ও কম ভাগ্যবানদের জন্য একটি পরার্থিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত সেহেতু এটা মনে রাখা উপকারী হতে পারে যে উন্নয়ন একটি বড় ব্যবসাও বটে। উন্নয়ন সাহায্য এবং ঋণ উচ্চতায় হয়ত অনেক বহুজাতিক ইন্ডাস্ট্রী বা মাফিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। কোন না
কোনভাবে যেসব পশ্চিমা ইন্ডাস্ট্রী উন্নয়নের সাথে যুক্ত বা তারা ছাড়াও সরকারের যেসব অংশ সাহায্য পেয়ে থাকে তাদের জন্য উন্নয়ন খুবই লাভজনক। উন্নয়ন এজেন্সীর কথা তো বলাই বাহুল্য। এদিকে উন্নয়ন সাহায্য প্রদান এবং উৎপাদিত দ্রব্যের জন্য বাজার সমপ্রসারণের বিষয়টি প্রতি-উন্নয়ন (কাউন্টার ডেভেলপমেন্ট) প্রক্রিয়া দ্বারা সুচারু রূপে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। যদিও প্রতি-উন্নয়ন (কাউন্টার ডেভেলপমেন্ট) হল সেই প্রক্রিয়া যাতে উন্নত হতে হবে এমন/ উন্নয়নশীল দেশগুলো সস্তা কাঁচামাল ও শ্রমের প্রধান উৎস সৃষ্টি করে। প্রায় সহজাতভাবেই একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে স্বয়ং "অনুন্নয়নের" ধারণা এবং এটির সমস্যাগুলো দূর করার উপায় এর সবকিছুই আসলে আধিপত্যশীল শক্তির দৃষ্টিতে বিশ্ব/পৃথিবী কি রকম সে বিষয়টিকে প্রকাশ করে। উন্নয়নকারী ও যাদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে এদের মধ্যকার সম্পর্ক গঠিত হয় উন্নয়নকারীর জ্ঞান ও রীতি-প্রণালী দ্বারা। এটা হতে পারে জাতি রাষ্ট্র, বাজার বা সেই প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলো এমন পরিকল্পনায় গঠিত যেখানে উন্নয়নকামীদের উপর নিয়ন্ত্রণের সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
এই প্রক্রিয়াগুলোর জ্ঞানতাত্তি্বক ও মতার বিষয়গুলো প্রায়শই অস্পষ্ট থেকে যায় কেননা উন্নয়ন ডিসকোর্সে এগুলি অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা জাতীয় শব্দগুচ্ছো দ্বারা বেশ জোড়ালোভাবে প্রকাশিত হয়। লণীয়ভাবে উন্নয়নের সাধারণ আলোচনায় যে বিষয়টি অনুপস্থিত থেকে যায় তা হল কিভাবে উন্নয়ন ঘটাতে/হতে হবে ্এমন মানুষজনের জ্ঞান উপেতি হয় অথবা কিভাবে এটিকে যৌক্তিক বিকাশের েেত্র একটি অন্তরায় হিসেবে গণ্য করা হয়। উন্নয়নের উপযোগী হতে হলে এসব মানুষজনকে প্রথমে
"অনুন্নত" ও অ-জ্ঞানী/মুর্খ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেননা এধরণের "অনুন্নত" ও অ-জ্ঞানী/মুর্খ ধারণা ব্যাতীত পশ্চিম নিজেকে উন্নত ও জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সম হবেনা।
তবে এধরণের আরোপণের কোনটাই স্বত:সিদ্ধ নয় বরং এটি পশ্চিম কতৃক অন্য সমাজের যে পরিবর্তনশীল পরিবেশন তারই একটি দীর্ঘ ইতিহাসের অংশমাত্র। এজাতীয় পরিবেশনের একটি লণীয় বৈশিষ্ট্য হল এগুলি প্রায়শই এজেন্টিভ। এই এজেন্টিভ এর অর্থ হল তাদের বর্ণিত এমন একটা অবস্থা যেখানে কোন না কোন ধরণের হস্তপে বা কর্মকান্ডের প্রয়োজন রয়েছে। আর সাধারণত এেেত্র
হস্তপেকারীরা হবেন বর্ননাকারীর দলের। বহুবার এমনটা হয়েছে যে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষকে চিত্রিত করা হয়েছে বর্বর, অবয়ী বা পৌত্তলিক এবং অনালোকিত হিসেবে। আর তাই তাদের প্রয়োজন আইন ও শৃংখলা, কার্যকর সরকার বা খ্রিষ্টধর্ম এবং সভ্যতা। ফলত যুক্তি যাই থাকুক না কেন অ-পশ্চিমা সমাজগুলো বিশদভাবে পরিবেশিত হয়েছে স্থির, অক্রিয় এবং যৌক্তিক সরকার ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভিত্তিতে বিকাশে অসমর্থ হিসেবে যাতে কেবলমাত্র পশ্চিম এককভাবে পারঙ্গম। আর তাই পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সমস্যা কেবলমাত্র স্বার্থপর ইন্ডাষ্ট্রী এবং সরকার নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



