somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যতই পদ্ধতিগত জ্ঞান বৃদ্ধি পায় ততই "অজ্ঞানতার" সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদিও অজ্ঞানতা জ্ঞানের সরল বৈপরীত্য (এন্টিথিসিস) নয়; এটি এমন একটি অবস্থাকে নির্দেশ করে যা মানুষ অন্যকে প্রদান বা আরোপ করতে পারে এবং যা নৈতিক বিচারবোধ-পূর্ণ। তার তাই অনুন্নত হওয়ার অর্থ প্রায়শই এমনটা দাঁড়ায় যে, যদি এটা প্রকৃত অসমতা নাও হয় অন্তত নির্বোধতা, ব্যার্থতা এবং অলসতা বা নিষ্ক্রিয়তা।






কিছু প্রারম্ভিক পর্যবেণ:

যেহেতু বিদ্যমান রেটোরিকে উন্নয়ন, দরিদ্র ও কম ভাগ্যবানদের জন্য একটি পরার্থিক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত সেহেতু এটা মনে রাখা উপকারী হতে পারে যে উন্নয়ন একটি বড় ব্যবসাও বটে। উন্নয়ন সাহায্য এবং ঋণ উচ্চতায় হয়ত অনেক বহুজাতিক ইন্ডাস্ট্রী বা মাফিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। কোন না
কোনভাবে যেসব পশ্চিমা ইন্ডাস্ট্রী উন্নয়নের সাথে যুক্ত বা তারা ছাড়াও সরকারের যেসব অংশ সাহায্য পেয়ে থাকে তাদের জন্য উন্নয়ন খুবই লাভজনক। উন্নয়ন এজেন্সীর কথা তো বলাই বাহুল্য। এদিকে উন্নয়ন সাহায্য প্রদান এবং উৎপাদিত দ্রব্যের জন্য বাজার সমপ্রসারণের বিষয়টি প্রতি-উন্নয়ন (কাউন্টার ডেভেলপমেন্ট) প্রক্রিয়া দ্বারা সুচারু রূপে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। যদিও প্রতি-উন্নয়ন (কাউন্টার ডেভেলপমেন্ট) হল সেই প্রক্রিয়া যাতে উন্নত হতে হবে এমন/ উন্নয়নশীল দেশগুলো সস্তা কাঁচামাল ও শ্রমের প্রধান উৎস সৃষ্টি করে। প্রায় সহজাতভাবেই একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে স্বয়ং "অনুন্নয়নের" ধারণা এবং এটির সমস্যাগুলো দূর করার উপায় এর সবকিছুই আসলে আধিপত্যশীল শক্তির দৃষ্টিতে বিশ্ব/পৃথিবী কি রকম সে বিষয়টিকে প্রকাশ করে। উন্নয়নকারী ও যাদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে এদের মধ্যকার সম্পর্ক গঠিত হয় উন্নয়নকারীর জ্ঞান ও রীতি-প্রণালী দ্বারা। এটা হতে পারে জাতি রাষ্ট্র, বাজার বা সেই প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলো এমন পরিকল্পনায় গঠিত যেখানে উন্নয়নকামীদের উপর নিয়ন্ত্রণের সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।

এই প্রক্রিয়াগুলোর জ্ঞানতাত্তি্বক ও মতার বিষয়গুলো প্রায়শই অস্পষ্ট থেকে যায় কেননা উন্নয়ন ডিসকোর্সে এগুলি অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা জাতীয় শব্দগুচ্ছো দ্বারা বেশ জোড়ালোভাবে প্রকাশিত হয়। লণীয়ভাবে উন্নয়নের সাধারণ আলোচনায় যে বিষয়টি অনুপস্থিত থেকে যায় তা হল কিভাবে উন্নয়ন ঘটাতে/হতে হবে ্এমন মানুষজনের জ্ঞান উপেতি হয় অথবা কিভাবে এটিকে যৌক্তিক বিকাশের েেত্র একটি অন্তরায় হিসেবে গণ্য করা হয়। উন্নয়নের উপযোগী হতে হলে এসব মানুষজনকে প্রথমে
"অনুন্নত" ও অ-জ্ঞানী/মুর্খ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেননা এধরণের "অনুন্নত" ও অ-জ্ঞানী/মুর্খ ধারণা ব্যাতীত পশ্চিম নিজেকে উন্নত ও জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সম হবেনা।

তবে এধরণের আরোপণের কোনটাই স্বত:সিদ্ধ নয় বরং এটি পশ্চিম কতৃক অন্য সমাজের যে পরিবর্তনশীল পরিবেশন তারই একটি দীর্ঘ ইতিহাসের অংশমাত্র। এজাতীয় পরিবেশনের একটি লণীয় বৈশিষ্ট্য হল এগুলি প্রায়শই এজেন্টিভ। এই এজেন্টিভ এর অর্থ হল তাদের বর্ণিত এমন একটা অবস্থা যেখানে কোন না কোন ধরণের হস্তপে বা কর্মকান্ডের প্রয়োজন রয়েছে। আর সাধারণত এেেত্র
হস্তপেকারীরা হবেন বর্ননাকারীর দলের। বহুবার এমনটা হয়েছে যে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষকে চিত্রিত করা হয়েছে বর্বর, অবয়ী বা পৌত্তলিক এবং অনালোকিত হিসেবে। আর তাই তাদের প্রয়োজন আইন ও শৃংখলা, কার্যকর সরকার বা খ্রিষ্টধর্ম এবং সভ্যতা। ফলত যুক্তি যাই থাকুক না কেন অ-পশ্চিমা সমাজগুলো বিশদভাবে পরিবেশিত হয়েছে স্থির, অক্রিয় এবং যৌক্তিক সরকার ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ভিত্তিতে বিকাশে অসমর্থ হিসেবে যাতে কেবলমাত্র পশ্চিম এককভাবে পারঙ্গম। আর তাই পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সমস্যা কেবলমাত্র স্বার্থপর ইন্ডাষ্ট্রী এবং সরকার নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯



আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষড়যন্ত্রঋতু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×