somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিশাল শাহরিয়ার
ভালোবাসা কেমন আমার জানা নেই, জানা নেই কিভাবে কি হলে ছোঁয়া যায়। আমি শুধু জানি আমার অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় নি। আরো অনেকটা পথ একা একা হেটে যেতে হবে। ক্লান্ত হয়ে থেমে যাবার আগে শেষবারের মত ছুঁতে চাই, তোমার অনামিকা জুড়ে একটা অভ্যাস হয়ে থাকতে চাই, ব্যাস।

তানুবু

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তানুবু মাটির মানুষ, মায়ার মানুষ । মাঝে মাঝে আমি ভাবি এত মায়া পায় কোত্থেকে তানুবু ! আল্লাহ্‌ আসমান জমিন সৃষ্টি করার সময় তার থেকে নাকি একভাগ দয়া-মায়া মানুষকে দিয়ে দিয়েছেন । আমার তো মনে হয় তার আরধেকই খরচ হয়ে গেছে তানুবুর পেছনে ।
সেদিন বড় মাঠটায় বিকেলে খেলতে গিয়ে বাবুর বলে বেধড়ক মারতে গিয়ে তানুবুর মাথা ফাটিয়ে ফেলেছিলাম । ভয়ে ভয়ে ছুটে গিয়ে দেখি তানুবু শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথা চেপে বসে রয়েছে । ভাবলাম এই বুঝি খেলাম মার । তানুবু আমাকে অবাক করে দিয়ে বলটা হাতে ধড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘বিশাল শোন, পরেরবার আরও জোরে মারিস । এই মারে হয় নাকি, তুই না বড় ক্রিকেটার হবি’ । আমি হু হু করে কেদে দিলাম । তানুবু মাথা ছেড়ে আমাকে নিয়ে পড়ল, ‘দেখ ভাই কাদলে হবে, ক্রিকেটাররা কিন্তু কাদে না’ ।
‘আমি ক্রিকেটার হব না, কক্ষনো না’ বলেই ছুটে চলে এলাম । তানুবু জানো আমি আজও ক্রিকেট বল হাতে ধরি নি । সে রাতে খুব কেদেছিলাম । একটা পুরনো ব্লেড নিয়ে হাতটা কেটে দিতে চেয়েছিলাম, পারিনি । ছোট ছিলাম কিনা, রক্তে বড় ভয় করত ।
মায়ের মার খেয়ে যখন আর আমার ঘরে জায়গা হত না, তখন ঠিক ঠিক তানুবু আমাকে খুজে নিত । বাড়ি থেকে চুপিচুপি দুধ-মুড়ি এনে খেতে দিত । রাতে চুপিচুপি ঘুমোবার জায়গা করে দিত । কাকাডাকা ভোঁরে আবার তুলে দিত, ‘বিশাল বাড়ি যা, চুপিচুপি বিছানায় ঘুমিয়ে পড়বি । নাহলে কিন্তু চাচিমা আবার তোকে মারবে’ । আমি ঘুম ঘুম চোখে উঠে বাড়ি যেতাম । ভাগ্য ভালো থাকলে মা ঘুমিয়ে থাকত, আর না হলে আরও দু ঘা জুটত । আচ্ছা তানুবু, তুমি কি পুরো রাত জেগে থাকতে শুধু আমাকে তুলে দেয়ার জন্যে ? ‘জানো তানুবু আমি না তোমাকে চুপিচুপি মা ডাকতাম’ । আমার সৎ মা কি না, তাই তোমাকেই মা ডাকতাম । তুমি শুনতে পেতে ? ঐযে সেদিন তুমি আমায় হাতে তুলে ভাত খাইয়ে দিলে, আমার গলায় ভাত আটকে গেল । তা দেখে তোমার পানি নিয়ে কি হুড়োহুড়ি । জানো তানুবু সেসময় আমি তোমায় কতবার মনে মনে মা বলে ডেকেছি ?
মায়ের যখন অসুখ ধরা পড়ল, মা আমাকে ডেকে বলত, ‘শোন বিশাল, তোর যখনই আমাকে মনে পড়বে তানুর কাছে যাবি । পারবি তো ?’
আমি বেশ বললাম ‘পারব’ । তৎক্ষণাৎ মনে পড়ল কেন মায়ের কথা মনে পরলে তানুবুর কাছে যাব কেন ? মাকে জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠল, ‘পাগল, আমি কি আর সবসময় তোর কাছে থাকতে পারব । আমি যখন থাকব না তখন তানুর কাছে যাবি । আমি যাওয়ার সময় তানুকে আমার সব মায়া ভালবাসা আদর দিয়ে যাব’ । আমি মাথা নাড়িয়েছিলাম । একবিন্দু বুঝিনি জানো । ‘আচ্ছা তানুবু মা তো চলে গেছে, তোমাকে কি সব মায়া ভালবাসা আদর দিয়ে গেছে ? তাই বুঝি তুমি আমায় এতটা ভালোবাসো?’
তোমার মনে আছে তানুবু বৃত্তি পরীক্ষার সময় নতুন মা আমায় কেমন একটা ঘরে আটকে রেখেছিল ? শুধু পরীক্ষা দিতে যাব তাই একজোড়া জুতো চেয়েছিলাম বলে । তুমি মাঝ রাতে এসে তালা খুলে চুপিচুপি নিয়ে এলে । সে রাতেই সোবহান চাচার দোকান খুলিয়ে একজোড়া চকচকে জুতো কিনে দিলে । মনে পড়ে তোমার ? সে আমি বৃত্তিখানা পাওয়াতে তুমি সারা গ্রাম খাওয়ালে, যেন আমি নই বৃত্তি পেয়েছ তুমি ।
দু টাকার আইসক্রিম দেখিয়ে দেখিয়ে খেয়ে বাবু যখন আমায় ঠোঙ্গা দেখাত তখন পাঁচ টাকার আইসক্রিম কিনে ওকে দেখিয়ে খাওয়ার অর্ডার তুমি দিতে । নিজে থেকে বাবুকে ধরে রেখে সেটা দেখাতেও । তাহলে আজ কেন চলে যাচ্ছ ? দেখ বাবু কিন্তু কাল ও আমায় দেখিয়ে দেখিয়ে আইসক্রিম খাবে, তখন কে ওকে ধরবে ?
মটকা বাবু যখন আমাকে এসে বলল তুমি চলে যাচ্ছ, আমি বিশ্বাস করিনি জানো । বিশ্বাস করবই বা কেন, তুমি কি আমাকে ছেড়ে যেতে পার ? তবে তুমি যখন এসে আমায় জড়িয়ে ধরে বললে, তখন কত্ত কষ্ট হচ্ছিল জানো ? তোমার আঁচলে চোখ মুছে ছুটে চলে এসেছিলাম, যাতে তুমি দেখতে না পার । তুমি পেছন থেকে কত ডাকলে, আমি শুনেও শুনলামনা । কে বলেছে তোমাকে আমাকে ছেড়ে যেতে ?
তুমি যখন নীল গাড়িটায় করে যাচ্ছিলে, গাছের আড়ালে আমিও দৌড়োচ্ছিলাম । বাবু দেখে খুব হাসছিলও আর বলছিলো, ‘ওভাবে দৌড়োস না বিশাল তানুবু হাসবে’ । আমি থেমে গেছিলাম । ‘আচ্ছা তানুবু তুমি কি সত্যি হাসছিলে ? তুমি কি তোমার আদরের ছোট ভাইটার ওপর হাঁসতে পেরেছিলে ? সত্যি তানুবু ?’

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৩০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত খারাপ, তবে নিমন্ত্রণ পত্র ভালো

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৫



দুই ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছে, প্রবেশও করতে দেয়নি। তারপরও ঘোষণা দিলেন - আবার আমন্ত্রণ পেলে যাবেন।

ভারতবিরোধী কথা বলা ছিলো তার রাজনৈতিক স্ট্যান্ড পয়েণ্ট, কারো কাছে নতি স্বীকার করবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×