পাকিস্তান আর্মি তখন ছিল অনেক সুসজ্জিত। বিশ্বের অন্যতম সেরা সেনাবাহিনী ছিল তাদের। এমন সময় ডাক পড়ে স্বাধীনতার। বাঙ্গালী লাঠিচুড়া আর দেশীয় অস্ত্র নিয়েই ঝাপিয়ে পড়েছিল হানাদারদের।
কিছু তাড়ছিড়া লোক ছিল আমাদের। রক্ত দেওয়ার জন্যই যেন ওদের জন্ম হয়েছিল। এতোটুকুও চিন্তা করেনি নিজের প্রতি। লক্ষ্যটা ছিল দেশের, লক্ষ্যটা ছিল বিজয়ের।
সে লক্ষ্যে তারা অর্জন করেছিল। অর্জন করেছিল ত্রিশ লক্ষ্য শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে ছোট্ট একটু জায়গা, নাম ছিল বাংলাদেশ।
সেই দেশের আরেক তাড়ছিড়া পোলা। নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। বল-ব্যাট নিয়া দৌড়াদৌড়ি করে। লক্ষ্যটা বিজয়ের পতাকাটা বিশ্বের দরবারে উচু করার।
বাঘা বাঘা প্লেয়াররা যেখানে একবার ইঞ্জুরিতে পইড়াই বললেন নাহ খেলা সম্ভব না, সেখানে বারবার অপারেশন করে পঙ্গুত্বের শঙ্কা চোখের সামনে ঝুলিয়ে তিনি বললেন দেশের হয়ে খেলব না...?? হতেই পারেনা...!
অস্ট্রেলিয়াতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন নিজের ছেলের মারাত্মক অসুস্থতা দেখে। দেশে আসার চিন্তা বাদ দিয়ে আফগানদের গুড়িয়ে দিয়েছিলেন।
কারন ঐ একটাই দেশের পতাকা নিয়ে দৌড়ানোর মত গর্বের নাকি আর কোনো কিছুই হয়না।
পরের ম্যাচে শ্রীলংকার সাথে হারলেন। ছেলের অবস্থা তখনও ভালোনা, মোটামুটি বিধ্বস্ত অবস্থা। একজন বাবাই শুধু জানেন তিনি তার সন্তান কে কতটা ভালবাসেন।
ম্যাশের এই ডেডিকেটেড মাইন্ড দেখে অনেকেই বলেন যে একাত্তরের আগে মাশরাফির জন্ম হলে হয়ত আমরা ৭ জন নয় নিশ্চিৎভাবেই ৮ জন বীরশ্রেষ্ঠ পেতাম।
আমরা পারিনাই সেই একাত্তরের সূর্যসন্তানদের সম্মান দিতে, আর সেখানে মাশরাফিকে কিভাবে সম্মান জানাই..??
পারিনাই... সালামের জবাবে ব্যার্থতার দায়ে মাশরাফিকে নাকি গালি শুনতে হইছে । কেউ কেউ বলেন যে এতে মাশরাফির নাকি অপমান করা হইছে...
বাট দ্যা ভেরি ট্রুথ ইজ.. মাশরাফি এমন ক্যাটাগরির লোক, যারে অপমান করার মত যোগ্যতা তো দূরে থাক, সম্মান দেওয়ার যোগ্যতাও তোমাদের হয়নাই..
ক্ষমা চাইবেন ..?? কার কাছে চাইবেন ..?? এই লোকতো তাড়ছিড়া। তাড়ছিড়াদের অপমান করা যায়না, তাদের অপমান হয়না, তারা অপমান গায়ে মাখতে পারেনা...
তার পারে... কলার উচাইয়া দৌড়াইয়া আইসা একটা গোলা ছুড়ে অফস্ট্যাম্প উড়িয়ে দিতে, মিডল স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিতে আর লেগস্ট্যাম্প গুড়িয়ে দিতে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


