somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিড়ম্বনা...

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার কানে কোন সমস্যা নাই তা আমি জানি। কিন্তু এতদিনের বিশ্বস্ত কান মাঝে মাঝেই আমাকে বিপদে ফেলে দেয়।যদি আমি কানে কম শুনতাম তাহলে কোন সমস্যা থাকত না। ঠিকঠাক শুনি কিন্তু বেকায়দা সময়ে দুই একটা বর্ণ উল্টা পাল্টা শুনি। এর সমাধান কি আমি জানি না। কিন্তু এর যে কি বিড়ম্বনা তা আমি হাড়ে হাড়ে বুঝি।দুই একটা উদাহরণ দিলেই বুঝবেন।বেশ কয়েক বছর আগে আমার এক পাড়াত বোনের বিয়ের জন্য ছেলে পক্ষ এসেছে। বাড়ির মুরুব্বিদের কথা বার্তা শুনে বুঝলাম ছেলে আগে কোথাও এই আপু কে দেখেছে, তারা আসলে পরে জানা যাবে কবে কোথায় দেখেছে।তো তারা আসল, চা পানি, মেয়ে দেখা সব যখন শেষ তখন কথা উঠল যে তারা মেয়ে কে কোথায় দেখেছে আগে? আমি অবাক হয়ে শুনলাম এই আপু রাস্তায় হাগতেছিল তখন নাকি ছেলে দেখেছে!!! আমি কোন মতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এই আপু রাস্তায় কেন হাগতে যাবে। আবার খুব অবাকও হচ্ছিলাম না। কারন যে সময়ের কথা বলছি তখন মফস্বলে সবার বাড়িতে স্যানিটারি ব্যবস্থা ছিল না।কেউ কেউ রাস্তার পাসে, খেতের আইলে রাত বিরাতে চলে যেত।আমি এ ক্ষেত্রেও এই রকম কিছু ভেবে খুব বেশ অবাক হইনি। আমার কাছে বেশি অবাক করা ব্যাপার লেগেছে সবাই দেখে ব্যপারটাকে তেমন একটা পাত্তা না দিয়ে আবার ভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করে দিল।যেন এটা খুব স্বাভাবিক যে একজন মেয়ে রাস্তা হাগবে আর একজন ছেলে তা দেখে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে চলে আসবে।আমার মন জগতে যখন উথাল পাথাল চলছে তখন আর থাকতে না পেরে আমার বড় বোন কে জিজ্ঞাস করেই ফেললাম, সাবিনা আপু কে কোথায় দেখছে বলল? আপা বলল, বলল, শুনলি না? রাস্তায় হাঁটছিল তখন নাকি দেখছে। আমার হা করা অবস্থা দেখে আপা বুঝে ফেলল যে আমি উল্টা পাল্টা কিছু মনে করে ছিলাম, তিনি যখন আমাকে চেপে ধরলেন যে আমি কি মনে করে বসে ছিলাম বলার জন্য ততোক্ষণে আমি সামলে উঠেছি এবং হে হে করতে করতে দ্রুত পরিস্থিতি থেকে প্রস্থান করেছিলাম।

এই রকম মারাত্মক মারাত্মক সমস্যা আমাকে প্রায়ই পড়তে হয়। মিল্কি কে সিল্কি, সান্টা কে ফান্টা শুনে বন্ধুদের কাছে অপদস্থ হইছি বহুবার।কিন্তু জীবনের সেরা ভুল শুনেছিলাম আমার হইলেও হতে পারত বাচ্চার মার কাছে। হয়ত জীবনটা এমন থাকত না, লাইফ হয়ে যেত এত দিনে। কিন্তু যতক্ষণে বুঝেছি কি করেছিনু ভুল ততোক্ষণে তার মামাতো করে ফেলছে কম্ম কাবার।
কিছু না, সিম্পল কাহিনী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়। কথা শুরু হয় কিছুদিন পরেই। প্রেম প্রেম যখন তুঙ্গে তখনো আমি জানি না এই মেয়ের বাড়ি কোথায়?একবার শুনেছিলাম ময়মেনসিং এ। আমি কথা বলে যাই বলে যাই শুধু। যখন হঠাৎ কথা বার্তায় মামাতো ভাই ঢুকে যাচ্ছিল প্রায়ই তখন ভাবলাম এবার দেখা করা দরকার।যেহেতু অনলাইনে পরিচয় এবং অনলাইনের বাহিরে আমাদের কোন বাস্তব ভিত্তি ছিল না তাই আমি বারবার ওকে বলছিলাম যে কোন কিছু যদি আমার অজানা থাকে তাহলে এখনো জানাও। আমি সব কিছুই মেনে নিতে রাজি আছি কিন্তু তা চূড়ান্ত কিছু করার আগেই, পরে কিছু যেন না শুনি। ও হাঁসে আমার কথা শুনে।বলে তোমার কাছে গোপন কি করব? গোপন করলে পরে তো আমারই সমস্যা। ম্যালা প্যাচালের পর আমি বললাম আমি ময়মেনসিং আসতে চাচ্ছি দেখা করার জন্য, ময়মেনসিং এ তোমার বাড়ি কোথায়? ও আমাকে বলল জায়গার নাম। আমি মফস্বল থেকে বড় হওয়া মানুষ। আমাদের কে সব সময় বলে দেওয়া হয় যে এই সব মোবাইল, ফেসবুকে যে সব মেয়েরা প্রেম করে তারা সুবিধার না। এই সব বস্তা পচা চিন্তা ঝেড়ে ফেলে আমারা একটু একটু করে সামনে যাচ্ছি কিন্তু পুরোপুরি মনে হয় ঝেড়ে ফেলতে পারি নাই এই সব।যার কারনেই কি না কে জানে, আমি শুনলাম সে বলছে খানকি পাড়ায়।আমি ঝপ করে ফোন কেটে দিলাম।দিলে কিল মেরে প্রেমের যন্ত্রণার কয়দিন কাটিয়ে যখন মোটামুটি স্বাভাবিক হলাম তার কিছুদিন পরে জানলাম ময়মেনসিং শহরে একটা জায়গার নাম আছে সানকি পাড়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:২৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×