somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটকের শুটিং!!!

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কয়েক বছর আগের ঘটনা।তখন আমি ফুল টাইম বেকার।আমার এক বন্ধুর স্টুডিও আছে,ছবি তোলা,ভিডিও করা এই সবই করে ও।ওর দোকানেই আড্ডা দিয়ে সময় যায় আমার।একদিন ও আমাকে বলল,কাজ আছে?না থাকলে আমার সাথে চল,মজার একটা কাজ পাইছি,তুই মজা পাবি।আমার তখন অফুরান্ত সময়,কাজেই চললাম ওর সাথে।যেতে যেতে ও আমাকে বিস্তারিত জানাল।ঘটনা হচ্ছে,গ্রামের কিছু মানুষ একটা যাত্রা বা মঞ্চ নাটক বানাবে আর ওর দায়িত্ব হচ্ছে ঐটা ভিডিও করা।আমি বললাম,মজার?ও বলল নিশ্চিন্তে থাক!!ওর কোথায় ভরসা পেয়ে আমি চললাম ওর সাথে।জেলা শহর থেকে বেশ ভিতরে গ্রামের ভিতরে এই মঞ্চ নাটক(!!) মঞ্চস্থ হবে।শীতের রাত,আমাদের পৌছাতে পৌছাতেই সন্ধ্যা পাড় হয়ে গেলো।মানুষজন আমাদের উপরে কিঞ্চিৎ ক্ষুব্ধ বলে মনে হল।যদিও উনারা যে একদম তৈরি হয়ে বসে ছিল তেমন মনে হয় নাই আমার!!আমাদের মোটর সাইকেলের আওয়াজের শব্দেই নাকি কে জানে আসে পাসের সব গ্রাম থেকে সব মানুষ যেন ভেঙ্গে পড়ল আমাদের উপরে।মঞ্চ বলে কিছু চোখে পড়ল না আমার,একটা জায়গা পরিষ্কার করে তার পিছনে চাদর বা ঐ জাতীয় কিছু একটা ঝুকিয়ে রাখা হয়েছিল,ওইটাই মঞ্চ।আমার বন্ধু ওর ক্যামেরার ক্যাবল,পাওয়ার নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল আর আমি এই সুযোগে গ্রামের সাধারন মানুষের উৎসুক মুখ দেখতে ছিলাম।যতটুকু বুঝলাম,এখানে যারা অভিনয় করবে তারা সবাই,খেতে খামারে কাজ করে,কেওই সচ্ছল না,কিন্তু তাদের মনে ফুর্তি আছে,আর এখন কারো কাজও নাই,তাই তারা মজা করবে।তাদের গল্পে মেয়ে চরিত্র যতগুলা আছে সেগুলা তারাই করবে,তবে দুইজন মেয়ে তারা ভাড়া করে এনেছে প্রধান মেয়ে চরিত্র গুলো করার জন্য।কিছুক্ষনের মধ্যে শুরু হল নাটক,আমি যেহেতু ক্যামেরা ম্যানের সহযোগী(!!)সবার সামনে একটা চেয়ার দিয়ে আমাকে বসিয়ে দেওয়া হল,আমিও বসে পড়লাম।প্রোমটারের প্রবল প্রোমটের শব্দ সত্তেও আমি ভালই মজা পাচ্ছিলাম,উনাদের মারাত্মক রকমের অভিনয় দেখে আমি আমার মতো করে মজা নিচ্ছিলাম।নাটকের গল্প রীতিমত ভয়াবহ!!শাশুড়ি আর মেয়ে জামাইয়ের প্রেম,এবং বিয়ে!!!মা মেয়ে একি জামাইয়ের ঘর করছে কিন্তু জটিলতা এখানেই শেষ না,ঐ জামাই ভদ্রলোকের এই মা মেয়ে ছাড়াও আরও একজন স্ত্রী আছে!!!এই যখন অবস্থা,তখন একটা দৃশ্য হচ্ছে,ঐ মেয়ে তার ভাই কে ধরে কান্নাকাটি করবে তার এতো বড় সর্বনাশের জন্য!!যে দুইজন মেয়ে কে ভাড়া করে আনা হয়েছে তার একজন এই মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছে।এবার ঘটল ঐতিহাসিক ঘটনা,ভাই,যে কিনা গ্রামের খেতে খামারে কাজ করা একজন তরুন যুবক!!সে যখন বইন গো করে তার বোনকে জড়িয়ে ধরল,তখনি আমি বুঝতে পারলাম সে চরিত্র থেকে বেড় হয়ে গেছে,তিনি আর বোন কে ছাড়তে পারছে না বা তার হয়ত ছাড়ার কোন ইচ্ছাও নাই!!নাটকের পরিচালক পাস থেকে ধমক দেওয়া শুরু করেছেন,হারামজাদা ছাড়,ছাড় কইলাম হারামজাদা!!!তোরে বারে বারে কইছি,এই কাম করিস না!!হারামজাদা লাত্থি দিয়া ছারামু কিন্তু!!! আমার ততক্ষনে পেটে খিল ধরা অবস্থা,আমি কোনমতে হাসি চেপে বসে থাকলাম।এরপরে ঐ ভাই আরও কয়েকবার বইন গো বলে ধরার চেষ্টা করলেও বোনের ততক্ষনে ভাই কে চেনা শেষ, রীতিমত কনুই চালাল দেখলাম!!
এরপরে আমার বন্ধু ওদের আনন্দে ঝামেলা ঢুকিয়ে দিল, বলল আমার ক্যামেরার চার্জ শেষ,আপনাদের নাটক তারাতারি শেষ করেন,আপনারা এক ডিস্কের কথা বলে আমাকে আনছেন,এক ডিস্ক শেষ!লোকজন বলছে দুই ডিস্কের টাকাই দিব,আপনে কাজ করেন।কিন্তু আমার বন্ধু গো ধরে বসে থাকল এবং আমি দেখলাম কত দ্রুত নাটক শেষ করা যায়!!!মাঝখান থেকে সমানে দৃশ্য কেটে নাটক শেষ করে দিলেন পরিচালক সাহেব!!পরে আমি আমার বন্ধু কে জিজ্ঞাস করেছিলাম,ওরা টাকা দিতে চাচ্ছিল তোর সমস্যা কি ছিল?চার্জ নাই এক ডিস্ক এগুলা যে ভুয়া কথা তা আমি তখনি বুঝেছিলাম। ও আমাকে বলল,''তুই এদের কে আমার চেয়ে ভালো চিনস না,এরা অনেক কষ্ট করে একবার টাকা জোগাড় করেছে,এখন আবার টাকা দিবে বললেই এই টাকা ওরা কই থেকে দিবে?আমিও আমার ব্যাবসার কথা ভেবে ওদের ডিস্কটা আটকিয়ে রাখব,ওরাও টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হাপিয়ে যাবে,এরপরে কবে টাকা জোগাড় হবে কবে ডিস্ক নিবে আল্লা মালুম,তারচেয়ে এইটা ভালো হল না?ওরা যাই করে থাকুক,নিজেদের টিভিতে দেখবে, ওদের কষ্ট সার্থক হয়ে যাবে।''আমি বললাম,তা আর বলতে!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×